মহিউদ্দিনের কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০
জাতীয়

মহিউদ্দিনের কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০

মহিউদ্দিনের কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক। এর মধ্যে ১২ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান রীমা কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নয়জনই হিন্দু এবং একজন বৌদ্ধ বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- ঝণ্টু দাস, সুবির, টিটু, লিটন দাস, প্রদীপ তালুকদার, কৃষ্ণপদ, সুজিত দাস, জোনাকি, দুলাল ও আশিষ বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে অন্তত ১৫ জনকে আনা হয়েছিল জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ বলেন, ‌তাদের মধ্যে নয়জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

রীমা কমিউনিটি সেন্টার ছাড়াও কিং অব চিটাগাং, স্কয়ার, কিশলয়, সুইস পার্ক, স্মরণিকা, এন মোহাম্মদ, কে বি কনভেনশন হল, ভিআইপি ব্যাংকুয়েট, গোল্ডেন টাচ, স্মরণিকা, সাগরিকা কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।

প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ অমুসলিমের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়।

সেখানে দুপুর ১টার পর প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। একপর্যায়ে হুড়োহুড়ি কেন্দ্র করে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি অনুষ্ঠানে এমন অনভিপ্রেত ঘটনায় অনেকটা হতভম্ব ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

৩ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করা হলেও সেখানে ১০-১৫ হাজার লোক অবস্থান করে। গেট খুলে দেয়া হলে সবাই হুড়াহুড়ি করে ঢোকার চেষ্টা করে। তাছাড়া প্রবেশ পথটি ছিল ঢালু। এ কারণে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অনেকেই পড়ে গিয়ে পদদলিত হন।

রীমা কমিউনিটি সেন্টারে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ নেতা শিবু দাশ বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ যারা নন-বিফভোজী তাদের জন্য রীমা কমিউনিটি সেন্টারে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিন্তু এর বাইরেও অনেকে আসেন। হুড়াহুড়ি করে ঢুকতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত এ দুর্ঘটনা ঘটে। শোকের মধ্যে এই হতাহতের কারণে আরেকটি শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের জরুরির বিভাগে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শোকবাহ দিনে আরেকটি শোকের খবর পেয়ে চমেক হাসপাতালে ছুটে আসেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বাবার কুলখানি অনুষ্ঠানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

তিনি হতাহতদের দেখতে চমেক হাসপাতালে ছুটে যান। হতাহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান শিকদার জানিয়েছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানে ভিড়ে পদদলিত হয়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্যেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ছাড়াও তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের সৎকারের জন্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্যে দেয়া হবে ৫ হাজার টাকা করে।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগরীর মুসাফিরখানা মসজিদে রোববার আসরের পর দোয়া এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিন নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষের জন্য কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

Comments

comments

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *