নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
জাতীয়

‘সংলাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই’

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনসহ কমিটির নেতারা।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৫ জানুয়ারিকে আমরা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস বলছি। কারণ সে সময় দেশে নির্বাচনের বিকল্প কিছু ছিল না। এটা ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি একটি নির্বাচন করেছিল। মার্চের ৩০ তারিখ তারা ক্ষমতা হস্তান্তরও করেছিল। সেই ক্ষমতা হস্তান্তর কি এমনি এমনিই করেছিল? আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

তোফায়েল বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সকল দলকে নিয়ে একটি নির্বাচন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তার আহ্বানে সাড়া দেননি। বরং তিনি বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু শর্ত দিয়ে সংলাপ হয় না। আমাদের সংলাপের প্রশ্নে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন, তখন আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধিতা করেছিলাম। কারণ এটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পরাজয় মনে হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তার পরও ফোন করেছিলেন।

তোফায়েল বলেন, খালেদা জিয়া সে সময় আমাদের আল্টিমেটাম দিয়েছিল দুই দিনের মধ্যে সংলাপ না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমরা যারা ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি, তাদের কাছে এ আল্টিমেটাম মেনে নেওয়াটা পরাজয় মনে হয়েছিল। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়াকে ফোন করার বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার পরও ফোন দিয়েছিলেন। আমাদের প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেনি। পরবর্তী সময়ে তারা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ দিয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। এমনকি নির্বাচন বানচাল করতে এমন কোনো কর্মসূচি নেই, যা বিএনপি প্রয়োগ করেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধারণা, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন করার উচিত ছিল। তাই আমরা নির্বাচন করেছিলাম। তা না হলে থাইল্যান্ডের মতো সামরিক শাসন চলে আসতে পারত।

তিনি স্বীকার করেন, হয়তো নৈতিকভাবে এ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু এটা ছিল সংবিধানের ধারাবাহিকতার শর্ত।

গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বিএনপির ভুল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আপনি সে সময় নির্বাচন কমিশন, আরপিওর আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু আপনি তত্ত্বাবধায় সরকারের শর্ত জুড়ে দেন। আমরা নির্বাচন করেছি, সরকার গঠন করেছি। তাই এ সরকার মেয়াদ পূর্ণ করবে।

আগামী ৫ জানুয়ারি সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই দিনটি আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করবে। বিএনপি এ দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করতেই পারে। অন্য রাজনৈতিক দল তাদের আদর্শ অনুযায়ী দিনটিকে অন্যভাবে পালন করতেই পারে। এ দিনকে ঘিরে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন কর্মসূচি দেবে। তবে ওই দিনে রাজপথে যদি কেউ আইন হাতে তুলে না নেয়, তবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে। আর আইন হাতে তুলে নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি গাজীপুরে সমাবেশ ডেকেছিল। কিন্তু সেখানে একটি মামুলী ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা পিছু হটেছে। ছাত্রলীগকেই তারা মোকাবেলা করতে পারেনি। রাজনীতিতে এরকম ১৪৪ ধারা সব সময়ই থাকে।

তিনি বলেন, আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি, তখন আমাদের সময়ও অনেক ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম, খালি মাঠে পিছু হটিনি। তখন আমরা স্লোগান দিয়েছি ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে।’ কিন্তু বিএনপি কর্মসূচি দিয়েও কিছুই তো করতে পারেনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭ দফা সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, শুধু দফা দিয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দিয়ে ঘরে বসে থাকেননি। বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। খুলনায় সমাবেশ করেছেন। সেখান থেকে যশোরে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। রাজশাহী, সিলেটেও তিনি গ্রেফতার হন। গ্রেফতার ও ধরপাকড় তার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারেনি। তাই বিএনপির উচিত হবে এই ৭ দফা নিয়ে জনমত তৈরী করা এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

বর্তমান সরকার সম্পর্কে মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে খুবই শক্ত ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগের অবস্থাও অনেক শক্ত। নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো চাঞ্চল্যই নেই। তারা সাংগঠনিকভাবেও অনেকটা নিষ্ক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। তাই এ সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। বিএনপির এ মুহূর্তে উচিত হবে আগামী চার বছর জনমত গড়ে তুলে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়া।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি এমন কোনো সম্ভাবনাও দেখি না। দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। এর বাইরে আইন হাতে তুলে নিলে কোনো লাভ হবে না। তাই এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা তাদের চিন্তা না করাই ভাল।

ছাত্রলীগ সম্পর্কে ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের অগ্রবর্তী সংগঠন। আওয়ামী লীগের আগে এ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল। এটি একটি পবিত্র সংগঠন। যে কোনো লোক একটি অন্যায় করে, কলঙ্ক আসে ছাত্রলীগের ওপর। তাই এদিকটি ছাত্রলীগকে খেয়াল রাখতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব দিতে পারত, তাহলে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লাগত না। তাদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ, ভুল বোঝাবুঝি, বিভেদ থাকত না। এমনকি নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হতো। নিজেকে ‘ছাত্রলীগের তোফায়েল’ দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি থেকে ধীরে ধীরে ডাকসুর ভিপি হয়েছি। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছি। এখনো পর্যন্ত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট চিনি না। এ বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তারেক রহমানের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোক। তার সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তারেক রহমানের এ মন্তব্যে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রলীগের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাজীপুরে বিএনপি সমাবেশ করতে চেয়েছিল। সেখানে তারা ছাত্রলীগকেই মোকাবেলা করতে পারেনি। এর আগে ঢাকার বাইরে বিএনপিকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

গত নির্বাচনের আগে তারানকোর নেতৃত্বে যে সংলাপ হয়েছিল সেখানে আমরা বলেছিলাম, আপনারা নির্বাচনে আসেন। প্রয়োজন আমরা নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করব। কিন্তু তাদের একটাই দাবি ছিল- আমাদের পদত্যাগ করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে সেই সংলাপের কোনো পর্যায়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। তাই বিএনপিকে এখন ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ সরকার ভাল করছে। এমনকি অর্থনৈতিক সকল সূচকও ভাল।

রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের ইমেজ সঙ্কটের বিষয়ে সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার পরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে ইমেজ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। গত এ্যাপারেল সামিটে সেটা দূর হয়েছে। এখন বিদেশী ক্রেতারা আবার বাংলাদেশের কাছ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আগামী ৫ জানুয়ারি বিএনপি যে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে, তা দেওয়া হবে কিনা  এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করা না হয় তবে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন যদি বলে অরাজকতা সৃষ্টি করা হবে, তবে দেওয়া হবে না।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *