history-of-Modhur-Canteen

ইতিহাসের সাক্ষী মধুর ক্যান্টিন

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সর্বশেষ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক প্রতিটি ঘটনার সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন বা মধুর রেস্তোরাঁ।

মধুর স্টল, মধুর টি-স্টল, মধুর রেস্তোরাঁ থেকে সময়ের বিবর্তনে মধুর ক্যান্টিন নাম আজ ইতিহাসের সাক্ষী।

মূলত মধুর ক্যান্টিনের বর্তমান ভবনটি শ্রীনগরের জমিদারের জলসাঘর বা বাগানবাড়ি ছিল। শ্রীনগর থেকে জমিদারের লোকজন আনন্দফূর্তির মাধ্যমে বিনোদিত হতেন ক্যান্টিনের বর্তমান জায়গাটিতে।

১৯২১ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বাগানবাড়ির দরবার হলটিতে তৈরি হয় ক্যান্টিনটি।

যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কাছে বাবসায় প্রশাসন ইন্সিটিউট (আইবিএ) ভবনের পাশে অবস্থিত।

মধুর ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা মূলত মধুসূদন দে অর্থাৎ মধুদা’র বাবা আদিত্য চন্দ্র। আদিত্য চন্দ্র প্রতিষ্ঠাতা হলেও কনিষ্ঠ পুত্র মধুসূদনের নামেই পরিচিতি লাভ করে ক্যান্টিনটি।

আদিত্য চন্দ্র হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যান্টিনের দায়িত্ব এসে পড়ে মধুসূদনের ওপর। মধুসূদন দের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। ১৯৩৪-৩৫ সাল থেকেই বাবার সঙ্গে সেখানে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ফলে সেই অভিজ্ঞতা মধুদার কাজে লাগে। ১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ২০ বৈশাখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ক্যান্টিনের নাম হয়ে উঠলো ‘মধুর রেস্তোরাঁ’। যা অনেকের কাছে ‘মধুর স্টল, ‘মধুর টি-স্টল’ নামেও পরিচিতি পায়।

সততার জন্য মধুসূদন দে ছাত্র-শিক্ষকসহ সবার কাছে এতটাই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন যে ক্যান্টিনটি ধীরে ধীরে ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত তৎকালীন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর রোষানলে পড়েন মধুসূদন। ২৬ মার্চ রাতে কামানের গোলায় জর্জরিত হয় মধুর ক্যান্টিন। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে সপরিবারে নিহত হন সবার প্রিয় মধুদা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) ভবনের পেছনে শিববাড়ী এলাকায় পাকিস্তানিদের গুলিতে নিজেদের কোয়ার্টারে নিহত হলেও মধুদাকে আহত অবস্থায় জগন্নাথ হলের মাঠে মাটি খুঁড়ে অন্যান্য শহীদদের সঙ্গে জীবিত অবস্থায় মাটিচাপা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি মধুর ক্যান্টিন পুনরায় চালু মধুদার সন্তান অরুণ দে।

বেঁচে যাওয়া সদস্যরা চলে যান ভারতে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মধুদার ছেলে অরুণ কুমার দে দেশে ফিরে ফের মধুর ক্যান্টিনের হাল ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরা সংক্ষেপে ডাকেন ‘মধু’ বলে। ক্যান্টিনের সামনে যেতেই চোখে পড়ে শহীদ মধুদার স্মৃতি ভাস্কর্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *