Flood-situation-worsens-in-Bangladesh

ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সাত উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে যাওয়ায় নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বন্যার্তদের মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণ বন্যাকবলিত অধিকাংশ এলাকায় পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় নেত্রকোনো জেলাজুড়ে সাড়ে ৩১ হাজার পরিবারের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দেড় হাজার হেক্টর রোপা আমন তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে অসংখ্য পুকুরসহ মাছের ঘের, সবজি ক্ষেত। পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম।

বন্যায় দুর্গাপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত হাজার ২০টি পরিবারের সাড়ে ৩৪ হাজার মানুষ। ৫৫০টি বসত বাড়ি, ৪৬টি স্কুল ও দুই হাজার ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান। দুর্গাপুরে ১০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। ওই উপজেলায় শুকনো খাবারের জন্য ৬০ হাজার টাকা ও ১০ টন চাল তাৎক্ষণিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলার আট ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার পরিবারের ৫২ হাজার মানুষ, ৫৮৮টি বসতবাড়ি, পাঁচটি স্কুল, এক হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে ৬৫ কিলোমিটার সড়ক। এ উপজেলায় দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং আট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের চারটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় হাজার পরিবারের ছয় হাজার ১০০ জন মানুষ। এই উপজেলার বন্যায় ৪৫০টি বসতবাড়ি, সাতটি স্কুল, ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, তিন কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উপজেলায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। ওই উপজেলায় শুকনো খাবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং সাত টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া পূর্বধলা ও জারিয়া ঝাঞ্জাইল রেললাইনে পানি সমান সমান থাকায় রেল চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বারহাট্টা উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৮০০টি পরিবারের তিন হাজার ৮০০ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০টি বসতবাড়ি, ছয়টি স্কুল, ৭৬ হেক্টর জমির ধান, ১৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উপজেলায় শুকনো খাবারের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চারটিতে সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারের সাড়ে ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২৫০টি বসত-বাড়ি, ১৯টি স্কুল, আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল, ৬৫ কিলোমিটার সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উপজেলায় শুকনো খাবারের জন্য ১০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম রিয়াজ উদ্দিন জানান, বন্যার কারণে জেলার আট উপজেলার ২৭৩টি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কলমাকান্দায় ১৫০টি, দুর্গাপুরে ৬৫টি, মোহনগঞ্জে নয়টি, পূর্বধলায় পাঁচটি, বারহাট্টায় ৩৬, সদরে পাঁচ, আটপাড়ায় তিন, মদন ও খালিয়াজুরীতে একটি করে স্কুল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ৯৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিক বন্যাদুর্গত এলাকার খোঁজখবর রাখছেন।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, কংস, উব্দাখালি ও ধনু নদীর পানি বেড়েছে। এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

এর মধ্যে বিরিশিরির সোমেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার, কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে ১৮২ সেন্টিমিটার, উব্দাখালীর কলমাকান্দা পয়েন্টে ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ড. মোশফিকুর রহমান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২৫ মেট্রিক টন চাল তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *