আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে ঢাকা আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে। ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
জাতীয়

ঢাকা সফরে আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে ঢাকা আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে। ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে ঢাকা আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে। ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। তবে তার এ সফরে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ভুটান সরকার আগামী ৬-৮ ডিসেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয়ের পাশাপাশি ঢাকা অবস্থানকালে শেরিন তোবগের নিরাপত্তা, আবাসনসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ভুটানকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তবে এ সুবিধাটি বাংলাদেশ উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় দিতে চায়, যেখানে নেপাল, ভুটান, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন, বিদ্যুত্সহ অন্যান্য সহযোগিতার বিষয় থাকবে। এরই মধ্যে ভুটান, নেপাল ও ভারতের ঢাকায় মিশনপ্রধানরা সীমান্ত এলাকা, ট্রানজিটের রুট এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ঘুরে দেখেছেন। এ ট্রানজিট পেলে ভুটানের আমদানিকৃত পণ্য মংলা অথবা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নৌ, সড়ক অথবা রেলপথ ধরে বাংলাদেশের বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা কিংবা তামাবিল-ডাউকি শুল্ক বন্দর ঘুরে ভারত হয়ে ভুটানে প্রবেশ করতে পারবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভুটানের সম্ভাব্য ট্রানজিট হিসেবে দুটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি চট্টগ্রাম হয়ে চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা সিরাজগঞ্জ হয়ে লালমনিরহাটের চিলমারী। অন্যটি মংলা বন্দর হয়ে কাওখালী, বরিশাল, চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা সিরাজগঞ্জ হয়ে লালমনিরহাটের চিলমারী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শেরিন তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভুটান ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও ট্রানজিট, কৃষি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুমাত্রিক ফোরামে সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিষয়গুলো আসবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুল্ক ছাড়, অশুল্ক বাধা দূর এবং অন্যান্য বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুত্ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করবে। বন্ধ থাকা লালমনিরহাট বিমানবন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর দিয়ে বিকল্প পন্থায় পণ্য ট্রানজিট রুট নিয়েও আলোচনা হবে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে ভুটান অন্যতম। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতির বার্ষিকীতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিঃসন্দেহে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সফরে ভুটান যান। তার আমন্ত্রণে ফিরতি সফরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভুটানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জিগমে ওয়াই থিনলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সভাপতি হিসেবে ঢাকা সফর করেছিলেন। ভুটানের রাজা জিগমে কেশর নামগিয়েল ওয়াংচুক ২০১১ ও ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফর করেছেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *