অনুগল্পঃ ভাল থাকুক সবার ভালবাসা

ভালো থাকুক সবার ভালোবাসা

।। উম্মে রেহনুমা আরা আশরীণ ।।

মেয়েটা যখন সংসার সামলায়। তখনো ছেলেটা গিটার বাজায়। গিটারের দুইটা তার কেটে যায়।নতুন তার কিনতে টাকা লাগবে। এই বয়সে আর গিটারের তার কেনার কথা বাসায় বলা যায় না। ছেলেটার গিটারে আর ভালো সুর ওঠে না। ক্লান্ত দুপুরগুলোতে এখন আর কেউ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে গিটারের টুং টাং শোনে না। এখন আর কাউকে বিশেষ দরকারও পড়ে না অবশ্য!

আরো কিছুটা দিন কেটে যায়। মেয়েটা বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যায়। ছেলেটা বাইকে করে অফিসে যায়। রাস্তায় দেখা হয়ে যায় আবার। হাসি-হাসি মুখে দু’জনই দু’চার টা কথা বলে, চলে যায়। এখন দু’জনেরই ব্যস্ততা আছে। ব্যস্ততার মধ্যে ভালবাসারা থাকে না। ভালবাসারা ব্যস্ততা পছন্দ করে না। ব্যস্ত মানুষদের জন্য ভালবাসা নয়। ভালবাসা হচ্ছে ‘বেকার’ নামক অফুরন্ত সময়বিশিষ্ট সুন্দর মানুষদের জন্য।

মধ্যরাতে টিং টং শব্দে মেয়েটার ফোন বেজে ওঠে। খানেক ছোট্ট একটা মেসেজ লেখা-
Thank you, for letting me love you.”

তবে মেয়েটার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। এবং মেয়েটার রিপ্লাই
“And… thank you, for loving me.”

অপরদিকে ছেলেটাও হাসছে। তৃপ্তির হাসি। তৃপ্তির হাসিতে শব্দ থাকে না।

ভালবাসায় কখনো হার-জিত থাকে না। ভালবাসায় লাভ-লোকসান থাকে না , কারণ ভালবাসার সাথে রুম-ডেট নামক কোন শব্দের সম্পর্ক নেই।

ভালবাসা কে.এফ.সি, পিজা-হাটের এয়ার কন্ডিশনারে ঢুকতে প্রচণ্ড সংকোচ বোধ করে। ভালবাসা বরং রাস্তার ধারে তারা মামার গরম চটপটিতে ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং ভালবাসাগুলো কখনো শেষ হয়ে যায় না। কখনো শহুরে রাস্তার সোডিয়াম বাতির হলুদ আলোর নিচে ঘুরে ফিরে বেড়ায়, কখনো অজ-পাড়াগাঁয়ের কোন শান্ত দিঘীর পাড়ে একলা বসে জোছনা দেখে।

যেখানেই থাক, যেভাবেই থাক, ভাল থাকুক সবার ভালবাসা।

লেখিকাঃ যন্ত্র-প্রকৌশলী ও নারী উদ্যোক্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *