‘ভারতীয় ঋণচুক্তিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই’

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় যে ঋণচুক্তি হয়েছে তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় যে ঋণচুক্তি হয়েছে তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় যে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের মতো করেই এই অর্থ ব্যয় করতে পারবো।’

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রেখেই বন্ধুত্বপূর্ণভাবে ভারতের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো শর্ত দিয়ে আমরা কিছু নেই না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আসার পর আমাদের সঙ্গে দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। আমরা এ অর্থ কোন কোন খাতে বাস্তবায়ন করবো সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছি। এখানে কোনো শর্ত নেই। আমরা আমাদের মতো করে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমাদের সঙ্গে ভারতের এক বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি ছিল। যার অর্থ আমরা বিভিন্ন অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে ব্যয় করেছি। এবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুই বিলিয়ন দিতে চেয়েছে।’

এই ঋণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোন কোন খাতে ব্যয় করলে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারব, দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে, সেটা মাথায় রেখেই ব্যয় করব। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রেখে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে এই অর্থ নেয়া হবে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তারা এখানে যে টাকা দেবে তা দিয়ে রুরাল ডেভেলপমেন্টের কাজ করা হবে। এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে। লাভবান হবে বাংলাদেশের মানুষ, এই অঞ্চলের মানুষ, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে দুই দেশের মধ্যে অনুসমর্থন উপকরণ বিনিময় হয়। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালের স্থল সীমানা চুক্তি এবং এর প্রটোকলটি কার্যকর করা সম্ভব হলো। ফলে ৬৮ বছর পর এ সমস্যার সমাধান হলো।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর এবং জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন। পক্ষান্তরে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন সাত হাজার ১১০ একর এবং জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৯০ জন।’

‘স্বাক্ষরিত প্রটোকল অনুযায়ী যে ছিটমহল যে দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত তা সে দেশেরই অন্তর্ভূক্ত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ নিট ১০ হাজার ৫০ একর জমি বেশী পাবে। ছিটমহলে বসবাসকারী জনগণ সংশ্লিষ্ট ছিটমহল স্বাভাবিকভাবে যে দেশে অন্তর্ভুক্ত হবে স্থানান্তরের মাধ্যমে তিনি সে দেশের নাগরিক হবেন, তবে ইচ্ছা করলে তাদের পূর্ববর্তী দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *