ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে

ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে

ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছেসাইবার ক্রাইম দমনে ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অপরাধীরা নানা অপকর্ম করছে। তাই কিছুদিনের জন্য প্রয়োজন হলে ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের সে পরিকল্পনা রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব ভালো কাজের কিছু খারাপ দিক আছে। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল মানুষ পাচ্ছে। এ সুযোগ ব্যবহার করে কিছু কিছু মানুষ ক্রাইম করছে।’

ভাইবার-হোয়াটস অ্যাপের মত ইন্টারনেট ভিত্তিক অ্যাপসগুলোতে কথা বললে সেখানে সরকার কোনো ধরনের নজরদারি করতে পারে না। এ সুবিধা গ্রহণ করে এক শ্রেণীর অপরাধী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর আগে বুধবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি আছেন, এখানে সকল সংসদ সদস্য রয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সকল নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি- সাইবার সন্ত্রাসে যারা লিপ্ত, যারা বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, যাকে যেখানে পান ধরিয়ে দেবেন। তাদের ধরিয়ে দিতে হবে।’

গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা আমরা নেব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এ ধরনের সন্ত্রাস করছে, তাদের পরিচয় কি? পরিচয় একটাই স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি। তারা একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে, ধরা পড়লেই তাদের এই পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।’

অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জামিন
সংসদ সদস্য কামাল মজুমদারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সময় ও টাকা ব্যয় করে পুলিশ সন্ত্রাসী-জঙ্গি ধরছে। কিন্তু তারা জামিন পেলে সরকারের দোষ হচ্ছে। বিচারকরা স্বাধীন। তারা জামিন দিতে পারেন। তবে আমি আহ্বান জানাব- অপরাধের মাত্রা চিন্তা-ভাবনা করে জামিন দিন, যাতে তাদের বিচার হয়।

এম এ আউয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিদেশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী এবং মদদদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে নিরলসভাবে কাজ করছে।

বিদেশি নাগরিক হত্যাকারীদের বিচারে গৃহিত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় ইতালীয় নাগরিককে হত্যা সংক্রান্তে গুলশান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহায়তা করার জন্য গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা জানান, রংপুরে জাপানি নাগরিককে হত্যায় রংপুর জেলার কাউনিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উক্ত মামলায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী এবং বিদেশি হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুসহ গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাকরির বয়সসীমা বাড়বে না
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির বিষয়ে আপাতত সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি সংসদকে জানান, ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা ৩২ বছর উন্নীত করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ প্রার্থীর জন্য ৩০ বছর এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা), বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩২ বছর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *