ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় ২ জনের দায় স্বীকার

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু (২৭) হত্যা মিশনে তিন যুবক অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে চাপাতি ছিল। কিন্তু সেখান থেকে দু’টি চাপাতি ব্যবহার করা হয়।

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু (২৭) হত্যা মিশনে তিন যুবক অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে চাপাতি ছিল। কিন্তু সেখান থেকে দু’টি চাপাতি ব্যবহার করা হয়।ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু (২৭) হত্যা মিশনে তিন যুবক অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে চাপাতি ছিল। কিন্তু সেখান থেকে দু’টি চাপাতি ব্যবহার করা হয়।

খুনের ঘটনার পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ধাওয়া দিয়ে পুলিশ দুই মাদ্রাসাছাত্রকে আটক করে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন আহমেদ  এসব তথ্য জানান।

আটকরা হলেন— জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম। জিকরুল্লাহ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এবং আরিফ রাজধানীর মিরপুর-১ এর একটি মাদ্রাসায় পড়েন।

ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দু’টি ও ব্যাগের মধ্যে অব্যহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে আটকদের রাজধানীর মিন্টুরোডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বেগুনবাড়ি দিপীকার ঢাল থেকে সোমবার সকালে ওয়াশিকুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হুমায়ুন কবির উদ্ধার করেন।

এএসআই জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় ওয়াশিকুরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, ওয়াশিকুরের পকেট থেকে পাওয়া তার ভোটার আইডিকার্ড থেকে জানা যায়, তিনি লক্ষ্মীপুরের টিপু সুলতানের ছেলে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকায় থাকতেন তিনি।

নিহত ওয়াশিকুর রহমান বাবু গত প্রায় দেড় বছর ধরে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে ফারইস্ট এ্যাভিয়েশন এজেন্সিতে ট্রেনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কুতুব উদ্দীন চৌধুরী।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিলিং মিশনে সরাসরি তিনজন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে দু’জনকে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে আটক করে।’

তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিকরুল্লাহ ও আরিফ খুনের কথা স্বীকার করেছে। তবে ব্যাগে ভরে নিয়ে আসা আরিফের চাপাতিটি খুনের সময় ব্যবহার করেনি বল দাবি করেছে। তার চাপাতিটি অব্যহৃত পাওয়া গেছে। বাকি দু’জনই মূলত বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবু তাহের নামে আরেকজন অংশ নেয়। পুলিশের ধাওয়ায় সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওসি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুক ও ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অপপ্রচারমূলক লেখালেখি করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আটকরা স্বীকার করেছে।’

খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় হিজড়া তাদের জাপটে ধরেন

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুর খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক হিজড়া তাদের জাপটে ধরেন। এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তারপর তাদের পুলিশে দেয়া হয়।সোমবার সকালে নিজ বাসার সামনে খুন হন ওয়াশিকুর। খুনিরা তাকে খুন করে পালানোর সময় কয়েক হিজড়া তাদের জাপটে ধরে। স্থানীয়রা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারেক জানান, তিন হামলাকারী পালানোর সময় কয়েকজন হিজড়া দুইজনকে জাপটে ধরে। পিছন  থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে গিয়ে দুইজনকে আটক করে। এই দুজন হলেন; যিকিরুল্লাহ যিকির ও আরিফুল্লাহ আরিফ। পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা।

অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তার যে অংশে তার ওপর হামলা হয়, তার এক পাশে টেক্সটাইল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার প্রাচীর। অন্যপাশে আরেকটি ভবন। সরু সড়কটির যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনো দোকান নেই। ঘটনার সময় ওই রাস্তায় লোকজনও ছিল কম। কয়েকগজ দূরে একটি ফার্মেসি থাকলেও তিনি ঘটনার সময় দোকান বন্ধ করে চলে যান। খোকন জেনারেল স্টোরের সামনে জিয়াউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, সকালে হঠাৎ নারীকণ্ঠে চিৎকার শুনতে পান তিনি। এরপর কয়েকজন ‘কাস্টমার’ ও তিনি রাস্তায় এসে দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় একজন পড়ে আছেন। তা দেখে এক নারী চিৎকার করছেন। আর তিন যুবক দৌঁড়ে মূল রাস্তার দিকে পালাচ্ছেন।

আটকৃতদের পরনে লাল রঙয়ের পোশাক

আটকৃত যিকিরউল্লাহ ও আরিফুল্লাহ দুজনেই মাদরাসা ছাত্র। চট্রগ্রামের হাটহাজারি মাদরাসার ছাত্র জিকরুল্লাহ ও রাজধানীর মিরপুরের দারুল উলুম মাদরাসার ছাত্র আরিফুল ইসলাম। এদের মধ্যে যিকিরউল্লাহ ওয়াশিকুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে গতকাল ঢাকায় আসেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তারা দুজনেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মাসুদ নামে তাদের এক কথিত বড়ভাইয়ের আদেশেই ওয়াশিকুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

মাদরাসার ছাত্র হওয়া সত্যেও জেন্সির প্যান্ট ও লালগেঞ্জি পরনের কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, সব বড়ভাইয়ের নির্দেশে করা হয়েছে। যাতে তাদেও গায়ে রক্তের দাগ না থাকে এজন্য তারা লাল রঙের গেঞ্জি পরেছেন।

‘আসুন নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব‬ দেই’

রাজধানীর বেগুনবাড়িতে খুন হওয়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু ব্লগে লেখার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই বেশি লিখতেন।  ‘আসুন নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব‬ দেই’ শিরোনামে তিনি ১০৩ টি পর্ব (স্টাটাস) লিখেছেন। এই লেখায় উগ্রবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্য অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তামান্না সেতু বলেন, ‘ওয়াশিকুর নাস্তিক ছিলো না। সে ব্লগেও এমন কিছু লিখতেন না যা কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত করে। তারপরও তাকে হত্যা করা হলো। ছেলেটার মা নেই। ঢাকায় বাবার সঙ্গেই থাকতো। তাকে এভাবে খুন করা হলো।‘

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াশিকুর আমার কাছে কি যেনো বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাকে আমি ফেসবুকে ও ফোনে বলতে নিষেধ করেছি। দেখা হলে বলতে বলেছিলাম। সে কি বলতে চেয়েছিলো তাও জানা হলো না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *