প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো স্থায়ী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ১৮.৩ ওভার। প্রথম ইনিংসে ৬০ রানে অলআউট হয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দল।
খেলা

ব্রডের বিশ্বরেকর্ডে অস্ট্রেলিয়ার ৬০ রানের লজ্জা

প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো স্থায়ী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ১৮.৩ ওভার। প্রথম ইনিংসে ৬০ রানে অলআউট হয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দল।ট্রেন্ট ব্রিজে বৃহস্পতিবার চতুর্থ টেস্টের প্রথম দিনের সকালে বল হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন ইংল্যান্ডের বোলাররা। বিশেষ করে স্টুয়ার্ট ব্রড। ডান হাতি এই পেসারের বোলিং ত্রাস ছড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। ম্যাচের প্রথম ঘন্টায় ব্রডের বোলিংয়ের সামনে খড়-কুটোর মতো উড়ে গেছে সফরকারীরা।

প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো স্থায়ী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ১৮.৩ ওভার। প্রথম ইনিংসে ৬০ রানে অলআউট হয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দল। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার এটি পঞ্চম সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগেও একবার তারা ৬০ রানে অলআউট হয়েছিল। সেটি ১৮৮৮ সালে লর্ডসে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। অ্যাশেজের ইতিহাসেও এটি নবম সর্বনিম্ন স্কোর।১৯৯৬ সালের পর প্রথমবার টেস্টে লাঞ্চের আগে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কম ওভারে শেষ হওয়া ইনিংসগুলোর দিক থেকে এটি সপ্তম।

অসিদের এই কঙ্কালসার চেহারা বানিয়েছেন ব্রড। তিনি করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ৯.৩ ওভার বল করে ৫টি মেডেনসহ ১৫ রানে ৮ উইকেট নিয়েছেন ব্রড। এর আগে ৪৪ রানে ৭ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং।টেস্টে ৮ উইকেট পাওয়া বোলারদের মধ্যে ব্রডের এই বোলিং তৃতীয় সেরা।

ট্রেন্ট ব্রিজে রোদ্রকরোজ্জল সকালে উইকেটকিপার স্লিপ, গালিসহ একটা বেষ্টনী তৈরি করেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক।গোটা অস্ট্রেলিয়া দলটাই ধরা পড়ল সেই বেষ্টনীতে।ব্রড বল করে গেছেন।বল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে চুমো দিয়ে বেষ্টনীতে থাকা ফিল্ডারদের হাতে জমা পড়েছে। এটাই নিয়মিত দৃশ্য ছিল ট্রেন্ট ব্রিজের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের জন্য।

সিরিজের চতুর্থ টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুক। নতুন বলে ইনিংসের প্রথম ওভারেই অসি ব্যাটসম্যানদের মাঝে কাঁপন ধরান ব্রড। ইনিংসের তৃতীয় বলে রজার্স (০) স্লিপে ক্যাচ দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে রজার্সের এটি প্রথমবার শূন্য রানে আউট হওয়া।ষষ্ঠ বলে স্টিভেন স্মিথ ফিরেন রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে মার্ক্ উডও যোগ দেন ব্রডের মতো শিকার কাব্যে। ওয়ার্নার (০) উইকেটের পেছনে বাটলারের হাতে ক্যাচ দেন।

এরপর নিজের পরপর তিন ওভারে মার্শ, ভজেস, মাইকেল ক্লার্ককে সাজঘরে পাঠান ব্রড। ডানহাতি এই পেসারের এটি ১৪তম পাঁচ উইকেট। ইনিংসের দশম ওভারে পিটার নেভিলকে বোল্ড করে একটি উইকেট নিয়েছেন স্টিফেন ফিন।১৩তম ওভারে এক বলের ব্যবধানে স্টার্ক, জনসনকেও শিকার তালিকায় যুক্ত করেছেন ব্রড। দুজনেই রুটের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। স্টার্ক (১) চতুর্থ বলে আর জনসন (১৩) ষষ্ঠ বলে।

৪৭ রানে ৯ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া ৫০ পার হয় লিয়ন ও হ্যাজেলউডের জুটিতে।১৯তম ওভারে লিয়নকে স্টোকসের ক্যাচে পরিণত করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের লেজটা মুড়ে দেন ব্রডই। উড, ফিন ১টি করে উইকেট পান।

সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্য ও প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন

অস্ট্রেলিয়ার এই ৬০ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা টেস্ট ইতিহাসের পাতায় অনেক সংযোজনের কাজই করিয়েছে। যেমন, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার এটিই সর্বনিম্ন স্কোর। প্রথম ইনিংসে এর আগে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৫৩। ১৮৯৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই রান করেছিল অসিরা। টেস্টের ইতিহাসে এটি যুগ্মভাবে ৩৮তম সর্বনিম্ন স্কোর।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে কম সময়ে ও কম ওভারে শেষ হওয়া ইনিংসের মধ্যে সেরা এটি। ১৮.৩ ওভার ব্যাট করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগে এই তালিকায় শীর্ষে ছিল ১৯.২ ওভার। ২০১৩ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯.২ ওভারে ৪৫ রান করে অলআউট হয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

বলের দিকে থেকে এটি সপ্তম সর্বনিম্ন ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল ১১১ বল। এই তালিকায় শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা।১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭৫ (১২.৩ ওভার) বল খেলে ৩০ রানে অলআউট হয়েছিল প্রোটিয়ারা, বার্মিংহামে।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার এটি পঞ্চম সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগেও একবার তারা ৬০ রানে অলআউট হয়েছিল। সেটি ১৮৮৮ সালে লর্ডসে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। অ্যাশেজের ইতিহাসেও এটি নবম সর্বনিম্ন স্কোর। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কম স্কোর অবশ্য ৩৬। ১৯০২ সালে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই রান করেছিল অসিরা।

১৯৯৬ সালের পর প্রথমবার টেস্টে লাঞ্চের আগে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্টে বিশের চেয়ে কম ওভারে এই প্রথম অলআউট হলো দলটি।

ব্রডের দুটি বিশ্বরেকর্ডের কৃতিত্ব

ম্যাচের বয়স প্রায় দেড় ঘন্টা, লাঞ্চের আগেই প্রথম ইনিংসে ১৮.৩ ওভারে ৬০ অলআউট সফরকারীরা।মাইকেল ক্লার্কদের এমন হাড্ডিসার অবস্থার রুপকার ব্রড। ইংলিশ এই পেসার ৯.৩ ওভার বল করে ৫ মেডেনসহ ১৫ রানে নিয়েছেন ৮ উইকেট। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে লর্ডসে ৪৪ রানে ৭ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং।দিনটা ব্রডকেও পাইয়ে দিয়েছে দুটি বিশ্বরেকর্ডের কৃতিত্ব।

পঞ্চম ইংলিশ পেসার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ব্রড। ২৯৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচটা শুরু করেছিলেন। ইনিংসের তৃতীয় বলেই মাইলফলক স্পর্শ করলেন ক্রিস রজার্সকে কুকের ক্যাচ বানিয়ে। ইংল্যান্ডের হয়ে ৩০০ টেস্ট উইকেট আছে আরও চারজনের। প্রথম বোলার ফ্রেডি ট্রুম্যান (৩০৭), টেস্ট ইতিহাসেই যিনি ছিলেন ৩০০ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার। এরপর বব উইলিস (৩২৫), ইয়ান বোথাম (৩৮৩) এবং জিমি অ্যান্ডারসন (৪১৩)।

রজার্সকে ফিরিয়েই শুরুটা করেছিলেন ব্রড। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে ফেরালেন স্টিভেন স্মিথকে। নিজের পরের ওভারে শন মার্শকে, তৃতীয় ওভারে অ্যাডাম ভোজেসকে, চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে সাজঘরের টিকিট ধরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার।হয়ে গেল ব্রডের ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির দিনে ইতিহাসও গড়লেন তিনি।দীর্ঘদেহী এই পেসার বল হাতে নেওয়ার পর ১৯ বলেই পেয়ে যান ৫ উইকেট। ৬৮ বছর অক্ষত থাকা রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ব্রিসবেনে ১৯ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার আর্নি টোশাক।

নিজের সপ্তম ওভারে আরও দুটি উইকেট নেন ব্রড। দ্বিতীয় বলে মিচেল স্টার্ক ও চতুর্থ বলে মিচেল জনসন তার শিকার হন। আবারও দুই ওভারের বিরতি শেষে দশম ওভারে নাথান লায়নকে তুলে নিয়ে পেয়ে যান অষ্টম উইকেট।ততক্ষণে হয়ে গেছে আরেকটি নতুন বিশ্বরেকর্ড। ম্যাচের প্রথমদিন লাঞ্চের আগে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি এখন ব্রডের। এই তালিকায় আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসার গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জির। তিনি ১৯৬৭ সালে ভারতের বিপক্ষে মেলবোর্নে ৩৪ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচের প্রথম দিন লাঞ্চের আগে ৫ উইকেট পাওয়া বোলার সিডনি বার্নস, ১৯১৩ সালে।

শূন্য রানের স্বাদ রজার্সের

অ্যাশেজের পরই টেস্ট ক্রিকেটকে গুডবাই জানাবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাও দিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। বয়স তো আর কম হয়নি! অ্যাসেজ শেষ হওয়ার আগেই কেটে ফেলবেন ৩৮তম জন্মদিনের কেক। ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার এই বুঝি মোক্ষম সময়। যাওয়ার আগে চেষ্টা, অস্ট্রেলিয়াকে ‘ছাই’য়ের ট্রফিটা উপহার দেওয়া। সেটা তো দলীয় ব্যাপার।
ব্যাক্তিগত একটা অর্জণ, বলতে গেলে বিশ্বরেকর্ডেরই মুখোমুখি ছিলেন ক্রিস রজার্স। ক্যারিয়ারে একবারও শূন্য রানে আউট না হওয়া। এ নিয়ে খেলছেন ২৪ টেস্ট। ব্যাট করতে নেমেছেন ৪৬তম ইনিংসে। আগের ৪৫ ইনিংসে একবারও শূন্য রান কী জিনিস সেটার সঙ্গে পরিচয়ই ঘটেনি অসি এই ওপেনারের। প্রার্থনা ছিল বাকি চার ইনিংসেও যেন, ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্ন, এই সংখ্যাটির সঙ্গে দেখা না হয়! তাহলেই সবচেয়ে বেশি টেস্টে শূন্য রানে আউট না হওয়ার বিশ্বরেকর্ডটা নিজের দখলে রেখে বিদায় নিতে পারবেন তিনি।

কিন্তু মানুষ চাইলেই কি সব কিছু পেয়ে যায়! আবার এ ক্ষেত্রে স্টুয়ার্ট ব্রডকে অভিশাপও দিতে পারেন রজার্স। ট্রেন্টব্রিজে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে অগ্নি গোলক নিয়ে হাজির হয়েছেন, তাতে ক্রিস রজার্সের গর্ব ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। ইনিংসের শুরুতেই রজার্সের উইকেট তুলে নিয়ে অসি দুঃস্বপ্নের সূচনা করেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ইনিংসের তৃতীয় বলেই প্রথম স্লিপে এলিস্টার কুকের হাতে রজার্সকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।

আউট তো অনেকেবারই হয়েছেন রজার্স। কিন্তু আজকের (বৃহস্পতিবার) আউটটিই যে তাকে সারাজীবনের জন্য প্রচণ্ড খোঁচা দিয়ে যাবে। এই টেস্টেই যে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হলেন তিনি! ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারেরমত। অথচ, অন্তত একটি রানও যদি করতে পারতেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারে শূন্য রানে আউট না হওয়ার রেকর্ডটা নিজের করে নিতে পারতেন তিনি।

আজই হয়তো নিজের জীবন থেকে এই টেস্টটাকে মুচে ফেলতে চাইবেন রজার্স। কিন্তু চাইলেই কি সব পারা যায়! জীবনে এমনই কোন সময় আসে যখন কালিমা লেগে গেলেও সেটাকে সারাজীবন ধুয়ে-মুছেও ত্যাগ করা সম্ভব হয় না। ট্রেন্টব্রিজ টেস্ট তেমনেই এক দুঃস্বপ্ন রজার্সের জন্য। প্রথমবারেরমত শূন্য রানে আউট হওয়ার স্বাদ নিতে হলো তাকে।

ক্রিস রজার্স শূন্য রানে আউট হয়ে যাওয়ার কারণে সাবেক অসি ব্যাটসম্যান জিমি বার্ক যে রেকর্ডটি হারাতে বসেছিলেন, সেটা আপাতত রক্ষা পেয়ে গেলো। ন্যুনতম ২০ টেস্টের মানদণ্ড ধরলে ২৪ টেস্টে ৪৪ ইনিংস খেলে একবারও আউন না হয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন জিমি বার্ক। ১৯৫০-এর দশকে এমন কীর্তি গড়েন তিনি। এজবাস্টন টেস্টেই বার্ককে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন রজার্স। ৪৫ ইনিংসে একবারও শূন্যতে আউট হননি তিনি। এর মধ্যে ১ রানে আউট হয়েছেন দু’বার, ২ রানেও দু’বার। শূন্য রানে একবারও না। এবার সেই শূন্যেরই মান বেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো ১। আর রজার্সের এমন কষ্ট কিংবা মনোবেদনার অনুঘটক স্টুয়ার্ট ব্রড।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *