অ্যান্ড্রয়েডে ১০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আক্রান্ত

অ্যান্ড্রয়েডে ১০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আক্রান্ত

অ্যান্ড্রয়েডে ১০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আক্রান্তসম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার চালিত স্মার্টফোনকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে একটি মারাত্মক ম্যালওয়্যার। ক্ষতিকর এ সফটওয়্যারে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি গুগল ব্যবহারকারী আক্রান্ত হয়েছেন।

ইসরায়েলভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতা চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার টেকনোলজিসের বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গুলিগান নামের একটি ম্যালওয়্যারে অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ বা আইসক্রিম স্যান্ডউইচ সংস্করণ ও অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা ললিপপ সংস্করণ আক্রান্ত হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডের এই দুটি সংস্করণ গুগলের সফটওয়্যারচালিত স্মার্টফোনের প্রায় ৭৪ শতাংশ দখলে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, গুলিগান ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত স্মার্টফোন থেকে ই-মেইল ঠিকানা ও তাতে লগইন করার তথ্য হাতছাড়া হতে পারে। এ ছাড়া জি-মেইল, গুগল ফটোজ, ডকস থেকেও স্পর্শকাতর তথ্য হাতছাড়া হতে পারে।

চেকপয়েন্টের মোবাইল বিভাগের প্রধান মাইকেল শাউলভ বলেন, “নতুন ম্যালওয়্যারটির আক্রমণে ১০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি খুবই বিপদের, যা সাইবার হামলার পরবর্তী ধাপ নির্দেশ করে।”

শাউলভ বলেন, “হ্যাকারদের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। হ্যাকাররা এখন মোবাইলে সংরক্ষিত স্পর্শকাতর তথ্য লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।”

চেক পয়েন্ট গত বছর একটি অ্যাপ্লিকেশনে ক্ষতিকর গুলিগান ম্যালওয়্যারের কোড খুঁজে পায়। এ বছরের আগস্টে আবার ওই কোডের নতুন সংস্করণ বের হয়। তখন থেকে প্রতিদিন ১৩ হাজার যন্ত্রে এটি ছড়িয়েছে। এসব যন্ত্রের ৫৭ শতাংশ এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ঝুঁকির মধ্যে থাকা স্মার্টফোনে যখন গুলিগান আক্রান্ত অ্যাপ ডাউনলোড করা হয় বা প্রলোভন দেখানো মেইলের লিংকে (ফিশিং মেইল) ক্লিক করা হয়, তখন স্মার্টফোন এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়। হ্যাকাররা তখন দূর থেকেই স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। ব্যবহারকারীর অজান্তেই গুগল প্লে স্টোর থেকে স্মার্টফোন অ্যাপ ইনস্টল করা বা অ্যাপে রেটিং দেওয়ার মতো নানা কাজ করতে পারে হ্যাকাররা।

গুগল কর্তৃপক্ষকে মারাত্মক এই ম্যালওয়্যার সম্পর্কে জানিয়েছে চেকপয়েন্ট।

গুগল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অবশ্য এ ম্যালওয়্যার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি গুগলের কেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *