বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের পক্ষে তিন জেলায় সফর করবেন। যে তিন জেলায় তিনি সফর করবেন তা হচ্ছে তা হচ্ছে নাটোর, নীলফামারী ও কুমিল্লা।
জাতীয়

বেগম জিয়ার তিন জেলা সফর চূড়ান্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের পক্ষে তিন জেলায় সফর করবেন। যে তিন জেলায় তিনি সফর করবেন তা হচ্ছে তা হচ্ছে নাটোর, নীলফামারী ও কুমিল্লা।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের পক্ষে তিন জেলায় সফর করবেন। যে তিন জেলায় তিনি সফর করবেন তা হচ্ছে তা হচ্ছে নাটোর, নীলফামারী ও কুমিল্লা।

আগামী ২৩ অক্টোবর নীলফামারীতে আর ৩০ অক্টোবর নাটোরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

দুটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তবে চলতি মাসেই কুমিল্লায় জনসভা হওয়ার কথা শোনা গেলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের শুরুতে কুমিল্লার জনসভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাজবাড়িতে দুটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি ও সরকারের কৌশল নিয়ে শুরু হয়েছে এ গুঞ্জন। একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে মানব জমিন পত্রিকা বলেছে, বিরোধী রাজনৈতিক জোটের দাবি ও আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবছে সরকার। তবে সে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে নিয়ে সম্ভাব্য একাধিক বিকল্প কৌশলে হাঁটছে সরকার। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও ঘরোয়া আলাপে তাদের ঘনিষ্ঠজনদের তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার মূলত আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর স্বীকৃতি ও সমর্থন পায়নি। দৃশ্যত প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করলেও তা নিয়ে স্বস্তিতে নেই সরকার। প্রতিনিয়ত দেশে-বিদেশে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও প্রতিবাদমুখর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়া, কূটনৈতিক মহলের একটি চাপের মধ্যদিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পন্থা খুঁজে বের করে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছেন কূটনীতিকরা। অন্যদিকে দেশে প্রধান বিরোধী জোটের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আরেকটি জোট। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে বিকল্প পথ নিয়ে ভাবছে সরকার। পাশাপাশি বিকল্প কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে সে ক্ষেত্র।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আইনি প্রক্রিয়ায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনের অযোগ্য করার কৌশলে অনেক দূর এগিয়েছে সরকার। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাজার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে প্রয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতারের কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন।

একইভাবে দলের দ্বিতীয় প্রধান প্রভাবশালী নেতা তারেক রহমান বহুসংখ্যক মামলার আসামি। বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে ফেরারি ঘোষণা করেছে আদালত। সম্পূরক চার্জশিটে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি করা হয়েছে তারেক রহমানকে। অনেকে মনে করছেন, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাজা ঘোষণা হতে পারে। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একশ’র বেশি শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপির অন্তত দেড় শতাধিক নেতাকে নির্বাচনের অযোগ্য করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় কৌশল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন ধরানো এবং মহাজোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এতে সফল হলে একদিকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বেশিসংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি যেমন প্রমাণ করতে পারবে সরকার অন্যদিকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বিএনপির নির্বাচন বিমুখতা। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও দল এবং জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাবে না ২০দলীয় জোট।

সূত্র জানায়, সরকার কৌশল বাস্তবায়নে আরেকটি বিকল্প কৌশল নিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাজা হলেও গ্রেফতার করা হবে না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনার মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা হবে সে রায়। তারপর চলবে দেনদরবার। তখন খালেদা জিয়া আপোশ এবং আপোশহীনতার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে পরবর্তী পরিস্থিতি।

বিএনপির কয়েকটি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের ঐক্য ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে শিগগিরই ধারাবাহিক একটি মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিতে পারেন খালেদা জিয়া। এদিকে, কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চলছে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির হাল ধরতে দেশে ফিরছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দলের একটি অংশ বিষয়টিকে ইতিবাচক দেখলেও বড় অংশটিই এমন গুঞ্জনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *