ভারত-পাকিস্তানের দুই রাজপরিবারের বিরল বিয়ে

ভারত-পাকিস্তানের দুই রাজপরিবারের বিরল বিয়ে

584
0
SHARE

সীমান্তের দুই প্রান্তের বসবাসকারীদের বিবাহসূত্রে মিলিত হওয়ার ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন বললেই চলে। আর সেটাই করে দেখালেন দুদেশের দুই রাজপরিবার।প্রতিবেশি রাষ্ট্র হলেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মৈত্রীপূর্ণ পরিবেশ তো দূর, স্বাভাবিক সম্পর্কটাও যে তলানিতে, তা বলা বা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় সীমান্তের দুই প্রান্তের বসবাসকারীদের বিবাহসূত্রে মিলিত হওয়ার ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন বললেই চলে। আর সেটাই করে দেখালেন দুদেশের দুই রাজপরিবার।

জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অমরকোট জেলার কুয়ার কর্ণি সিংহ সোঢার সঙ্গে বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হলেন রাজস্থানের জয়পুরের কানোটা রাজ-পরিবারের পদ্মিনী রাঠৌর। আরও চমকপ্রদ বিষয়টি হলো যে, বিবাহটি যোগাযোগের মাধ্যমে বা দুই পরিবারের তরফ থেকেই পাকা করা হয়েছে। পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে আগে থেকে বলিউডি ধাঁচে কোনো প্রেম এখানে ছিল না। ভালোবাসা-প্রেম যা হয়েছে, তা গড়ে তুলেছে দুই পরিবারই।

সম্প্রতি, জয়পুরের নারায়ণ নিবাস প্যালেসে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পাত্রপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান থেকে এসেছিলেন শতাধিক অতিথি। পুরো রাজস্থানি ঘরানা ও পরম্পরা মেনেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। খাদ্যতালিকায় রাজস্থানী ও মোঘলাই পদ ছিল। বিয়ের কয়েকদিন আগে পাত্রীপক্ষের তরফে ৩১ জন পাকিস্তান গিয়ে পাত্রের বাগদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে পরম্পরা মেনে ‘তিলক’ দানও সম্পন্ন হয়।

পাত্রের পরিবারের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। শোনা যায়, ১৫৪০ সালে শের শাহ সুরির কাছে হেরে গিয়ে হুমায়ুন যখন মরু-অঞ্চলে সপরিবার পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন অমরকোটে নিজেদের প্রাসাদে সস্ত্রীক মোঘল সম্রাটকে আশ্রয় দিয়েছিল কুয়ারের পূর্বপুরুষরা। বাকিটা ইতিহাস!

Comments

comments