bintir-8ti-falgun-dhrupodi-shamim-titu

একুশের গল্প: বিন্তির আটই ফাল্গুন

সেই কবে থেকেই প্লান করে রেখেছে বিন্তি। এবারের একুশের উদযাপনটা ভিন্ন হবে। কি কি করবে না করবে তার খুঁটিনাটি নোট রেখেছে। এই নিয়ে বন্ধুদের মাঝে কত হাসাহাসি! “মানুষ বিয়ের বিষয় নিয়ে যতটা না সিরিয়াস তুই দেখি একুশে নিয়ে তার চাইতেও সিরিয়াস! বাব্বা!”- মুমুর উত্তর। তুই এখনো না সেই খ্যাতই রয়ে গেলি। বাংলা, বাংলা ভাষা, কবিতা, ভাষার গল্প আরো কত কি! এসব নিয়েই পড়ে আছিস এখনো, মানুষ হইলি না।

“সবাই মানুষ। কেউ নামে, কেউ আত্মপরিচয়ে। এই যেমন আমি বাঙালি, এটাই আমার আত্মপরিচয়।” নীরবে উত্তর দেয় বিন্তি।
“আমিও বাঙালি, বুঝলি। আর তুই থাক তোর আত্মপরিচয় নিয়ে।” কিছুটা বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলতে বলতে বিন্তিকে রেখেই চলে যায় মুমু। আর মনে মনে হাসতে থাকে বিন্তি। হাসতে হাসতে ভ্যাম্পায়ার টাইপের দাঁত বেড়িয়ে আসে।

বিন্তি এমনই। অদ্ভুত তার শখ। মানুষ দেখাই তার একমাত্র নেশা। দোতলা বাড়ির বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে বসে মানুষ দেখে, আর মনে মনে হাসে। এইতো সেদিন বিকেলবেলা। স্কুল থেকে ফিরেই বারান্দায় বসেছিলো মানুষ দেখতে। পহেলা ফাল্গুনে একজোড়া প্রেমিক প্রেমিকা হাত ধরাধরি হাটছিলো। সফেদা গাছটির নিচে আসতেই একটি কাক ইয়ে করে দিলো ছেলেটির গায়ে। অমনি বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার মতো করে মেয়েটি ছেলেটির হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। তারপর রাগে বিষাক্ত সাপের মত ফুঁসতে শুরু করলো ছেলেটি। তাদের দুজনের এক্সপ্রেশন তখন সুপারহট! যখনই ঘটনাটি মনে পড়ে অমনি হাসি পায় বিন্তির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *