প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এস এ কাদের কিরণ বলেছেন, আপনি যেভাবে পারেন সহিংসতা বন্ধ করেন।
অর্থনীতি

বিদ্যুৎ বিল না দেয়ার হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ী নেতাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এস এ কাদের কিরণ বলেছেন, আপনি যেভাবে পারেন সহিংসতা বন্ধ করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এস এ কাদের কিরণ বলেছেন, আপনি যেভাবে পারেন সহিংসতা বন্ধ করেন। এ দায়িত্ব আপনার, আমরা আপনাকে ট্যাক্স দেই। চলমান সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন আমরা বিদ্যুৎ বিল দেব না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিজিএমইএ ভবনের সামনে ব্যবসায়ীদের প্রতীকী অনশনে তিনি একথা বলেন।

হরতাল-অবরোধ বন্ধ না হলে প্রয়োজনে শ্রমিকদের নিয়ে রাস্তা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে অনশন কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিজিএমইএ কার্যালয়ের সামনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে পানি পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙান।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করেন না। তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করেন। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল-অবরোধ দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করছে। তারা হরতাল ডেকে বাসায় থাকে আর ব্যবসায়ীরা অনশন পালন করেন। এভাবে চলতে পারে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনে সকল শ্রমিককে নিয়ে রাস্তায় নামা হবে।’

দাবি আদায়ে এ সময় পরবর্তী কর্মসূচি পালন করতে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেন আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘অ্যাপারেল সামিটে আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। ক্রেতারা আমাদের ক্রয়াদেশ দিতে ভয় পাচ্ছে। আমরা অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়েছি। যেখানে রাজনীতিবিদরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরামর্শ দেবে, সেখানে আমরা তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছি, অর্থনীতির উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়— এটা খুবই দুঃখজনক।’

বিজিএমইএর সভাপতির পর বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতিসহ সকল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ খাতে এক কোটির বেশি শ্রমিক রয়েছেন। হরতাল-অবরোধের কারণে শ্রমিকদের সাধারণ কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। অথচ হরতাল-অবরোধের কারণে তারা ঠিকমতো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতির সকল দায়ভার অসুস্থ রাজনীতির। এ থেকে সাধারণ মানুষ পরিত্রাণ চায়। সাধারণ মানুষ হরতাল-অবরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় কিন্তু তাদেরই বলি হতে হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে অনশন ভাঙেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত অনশন কর্মসূচি ছিল শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কিন্তু আরেফিন সিদ্দিকের হাতে পানি পান করে ব্যবসায়ীরা অনশন ভাঙেন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে।

মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

এর আগে, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘আজ এ পরিস্থিতিতে বিদেশীরা আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। তারা জানতে চাচ্ছে, কবে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা (ব্যবসায়ীরা) তাদের কোনো সুখবর দিতে পারি না। তাই তারা অন্য দেশে অর্ডার দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে সবদিক থেকে এগিয়ে, ঠিক তখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এ সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইজীবী, শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *