বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিজিবি প্রধানের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির নেতারা।
জাতীয়

বিজিবি মহাপরিচালকের হুমকি: বিএনপির উদ্বেগ

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিজিবি প্রধানের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির নেতারা।হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করলে জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিজিবি হেড কোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিজিবি মানুষ হত্যা করতে চায় না। তবে মানুষ হত্যা করতে দেখলে এবং নিজে আক্রান্ত হলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করবে বিজিবি।

তিনি বলেন, এ জন্য বিজিবি সদস্যদের অস্ত্র ধরতে হতে পারে। জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে বিজিবি অস্ত্র ব্যবহার করবে।

মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত পাহারা বিজিবির প্রধান কাজ হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করাও বিজিবির দায়িত্ব। জনগণের জানমাল রক্ষায় যতোদিন দরকার ততোদিন বিজিবি মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি ৩৫ জেলা প্রশাসক বিজিবি মোতায়েনের জন্য আবেদন করেন। বর্তমানে ১৭টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

বিজিবি সদস্যদেরকে রাজনৈতিক আন্দোলনকারীদের গুলি করার নির্দেশনা দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রধান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, এটাকে ‘সম্পূর্ণ এখতিয়ার-বহির্ভূত ও আইন-পরিপন্থী নির্দেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বিএনপির গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা

বৃহস্পতিবার বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিজিবি প্রধানের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির নেতারা।

স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার অস্বীকার করায় দেশে রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

তারা বলেন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে দেশে জনপ্রতিনিধিত্বহীন একটি সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন চালু করেছে। তারা দেশের চলমান সংকট নিরসনে সমাধান তো দূরের কথা, বরং গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে দমনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীনদের অনেকেই নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেআইনি নির্দেশ ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, অতীতে ১৯৭৪ সালেও একই কায়দায় বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধী দলকে দেখা মাত্র গুলি করা হতো।

তারা বলেন, আজকেও দেশে ৭৪’র ন্যায় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ১২ দিন ধরে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে রাজপথে গুলি করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে পুলিশের গুলিতে ও সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শত লোক।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদেরকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন,  জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের হারানো মৌলিক ও ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমেই এসব অপতৎপরতার জবাব দেয়া হবে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *