‘বিচারের ভয়ে নির্বাচন দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘লুটপাট-দুর্নীতির বিচারের ভয়ে নির্বাচন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘লুটপাট-দুর্নীতির বিচারের ভয়ে নির্বাচন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।’বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘লুটপাট-দুর্নীতির বিচারের ভয়ে নির্বাচন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ‘বিদেশীরা বলেছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে। কিন্তু তার পরেও তারা ভয়ে নির্বাচন দিচ্ছে না।’

বৃহস্পতিবার হোটেল পুর্বানীতে ইসলামী ঐক্যজোটের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা এত খুন-খারাবি, লুটপাট করছে যে, মানুষের ভয়ে নিবার্চন দিতে চায় না। তারা জানে নিবার্চন দিলে মানুষ কিভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সিটি করপোরেশন নিবার্চনে মানুষ তা দেখিয়ে দিয়েছে। যদি সুষ্ঠু নিবার্চনটা হতে পারত, মানুষ সত্যিকারের জবাব দিত। মানুষ তাদের মুখে জুতা মারত।’

ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদেশীরাও বলছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এত লুটপাট করেছে যে, মানুষের ভয়ে এখন নিবার্চন দিতে ভয় পায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা কারাগারে বন্দী। আর আওয়ামী লীগের লোকেরা যতই চুরি করুক তারা বহাল তবিয়তে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের জেলে পুড়ে মরতে হয়। আওয়ামী লীগের লোকেরা ফ্রি থাকে, তাদের জেলে দেওয়া হয় না। আর তাদের মন্ত্রীরা লুটপাট করছে— এগুলো কি অপরাধ নয়? তারা আওয়ামী লীগের লোক বলে মাফ পেয়ে যায়।

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মহিলারা ঘরের বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা চাই দেশের মানুষ ভাল থাকুক, নিরাপদে থাকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ঢাকা শহর দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। আমরা যারা ঢাকা শহরে থাকি তারা কোনো রকম আছি। গ্রামের কথা চিন্তা করুন। তারা অসহায় জীবনযাপন করছেন। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে। এয়ারপোর্ট থেকে যেতে না পেরে জাহাজে করে যেতে চেষ্টা করছে। এখানেও আওয়ামী লীগের দালাল ও পুলিশ জড়িত রয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে মরছে। আর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব খন্দকার গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, খেলাফত মজলিসের গোলাম আকবর প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

ইসলামী ঐক্য জোট নেতাদের মধ্যে এ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, যুগ্ম-সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ তৈয়্যব হোসোইনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ইফতারের আগে টেবিলে টেবিলে ঘুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *