সাবেক বিচারপতি মানিকের ঔদ্ধত্য নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা
মতামত

সাবেক বিচারপতি মানিকের ঔদ্ধত্য নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা

সাবেক বিচারপতি মানিকের ঔদ্ধত্য নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতাকাজী এম এ আনোয়ার
জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সুশাসন উন্নয়ন ও মানুষের সেবা সংস্থান নিশ্চিত করার একটি পূর্বশর্ত। যদিও আজ একথাগুলো কেবল বইয়ের পাতায় শোভা পাচ্ছে। একটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল দুর্নীতি শনাক্ত করা ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের যথাযথ শাস্তি আরোপ করা। আর ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, অথবা জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের কেউ দুর্নীতি পরায়ণ হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের আর গণতন্ত্রের থাকে না।

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সংবিধান অবমাননা করে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করে স্পষ্টতই দেশের রাষ্ট্রকাঠামো ধ্বংস করছেন। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা কিনা তা বিশ্লেষণযোগ্য। দেশের প্রধান বিচারপতিকে অপমান করে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন যে, তিনি প্রধান বিচারপতির কোনো নির্দেশ মানেন না।
মানিকের আচরণ দেখে আগেই উন্মাদ মনে হত, কিন্তু তাঁর বেয়াদবি ও আদেশ অমান্য করার মাত্রা যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায় গড়াবে তা হয়ত বোধগম্য ছিল না। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে মানিকের মত অশিষ্ট, অভদ্র, দুর্বিনীত, বেয়াদব ও গোঁয়াররাই কেবল ক্ষমতায় আসতে ক্ষমতাসীন দলের পা চেটে বা দালালী করেই বিভিন্ন পদে আসীন হতে পারে। কেবল মানিকদের মত অনমনীয় লোকদের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় সত্তা বা মূল্যবোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচিত হয়।

মানিক যেহেতু দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেছেন এবং কোন একটা বিশেষ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিচারের রায় দিয়েছেন, সেহেতু তিনি প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের মহান সংবিধানের ৯৬(৪)(এ) অনুচ্ছেদের সবকটি দফা অবমাননা করেছেন। সুতরাং মানিকের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ এবং তাঁর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যত রায় দিয়েছেন সব গুলো রায়ই অবৈধ ঘোষণা করা যথোচিত।

সংবিধানের ৯৬(৪)(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারকদের জন্য ১৪টি পয়েন্টর কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন করেছে যা ২০০০ সালের ৭ই মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী একজন বিচারকের কী কী করা উচিৎ আর কী কী করা উচিৎ না তা এই দফাগুলোতে বলা হয়েছে-

১. একজন বিচারককে সততা বা ন্যায়পরায়ণতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হবে।

২. সব কার্যক্রমে অসঙ্গতি এবং অসঙ্গতির দৃষ্টিগোচরতা এড়িয়ে চলা উচিত।

৩. নিরপেক্ষভাবে এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে দায়িত্ব সম্পাদন করা উচিত।

৪. আইন, আইন ব্যবস্থা ও প্রশাসন ব্যবস্থা উন্নত করতে বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম নিয়োজিত হতে পারে।

৫. তাঁর (অফিসের) মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পৃথক পর্যায় অনুশীলন করা উচিত।

৬. পাবলিক বিতর্কে প্রবেশ বা রাজনৈতিক বিষয়ে বা তার আগে বা পরে কোন বিচারাধীন বিষয়ে প্রকাশ্যে তার মতামত প্রকাশ না করা আবশ্যক।

৭. তিনি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না।

৮. তাঁর বা তাঁর পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের কাছ থেকে ছাড়া কারো কাছ থেকে উপহার বা আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন না।

৯. কোন প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে জড়িত হওয়া উচিত নয়।

১০. তাঁর কোন প্রকার উপহার চাওয়া বা গ্রহণ করা উচিৎ না, বা নিজেকে সক্রিয়ভাবে কোনো প্রকার তহবিল উত্থাপনে সংযুক্ত করা উচিৎ না।

১১. অবশ্যই তাকে সব সময়ে সচেতন থাকতে হবে যে তিনি জনগণের প্রকাশ্য দৃষ্টিতে আছেন এবং এমন কোন কার্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিৎ হবে না যা তাঁর অফিসের জন্য অশোভন।

১২. মামলার শুনানি চলাকালে কোনো প্রকার অস্বস্তির সম্মুখিন হলে তা সংঙ্গে সংঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে জানানো উচিৎ যাতে তিনি যথাসময় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

১৩. দেশ বা বিদেশে কোনো ভাবেই কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে নিয়োজিত করা উচিত হবে না।

১৪. প্রধান বিচারপতি জানতে চাইলে তার সম্পদ-সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

এবার বিচার করা যাক বিচারপতি মানিক সংবিধানের এই দফাগুলো কতটা মান্য করেছেন। আমি আগে মানিকের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক পরিচয়টা তুলে ধরছি। তিনি ১৯৭৮ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৯৬ সালে তাকে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০০১ সালের ৩ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকার তাকে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় যদিও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে জনাব মানিককে বহাল রাখা হয়নি। ২০০৯ সালের ২ মার্চ একটি রিট অনুসারে হাইকোর্ট মানিক সহ ১১ জন অতিরিক্ত বিচারকের পুনর্বহাল করতে আদেশ করে। ২০০৯ সালের ২৫ মার্চে আওয়ামী লীগ সরকার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়। ২০০৯ সালের ৩১ মার্চে তিনি ২১ জ্যেষ্ঠ বিচারকদের ডিঙিয়ে আপিল বিভাগে উন্নীত হন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় অভিবাসন (ইমিগ্রাশন) ও শরণার্থী (আসাইলাম) আইনের উপর ইমিগ্রাশন এক্সপার্ট হিসেবে প্রাকটিস করতেন।

তিনি বিচারপতি হওয়ার পূর্বে ও পরে সর্বদাই একটা রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় কর্মী যা তিনি নিজেই বিভিন্ন টকশোতে ঘোষণা করা বলেছেন। বিচারপতি থাকাকালে তিনি বিশেষ করে লন্ডলের আওয়ামী রাজনীতি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং তাঁর নির্ধারিত কমিটির না মানায় তিনি একজন ব্যারিস্টারকে হাইকোর্টের ভাইবায় (পরীক্ষা) তাঁর নিজের অধীনে নিয়ে তারপর ভাইবাবোর্ডে উক্ত ব্যারিস্টারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। পাশাপাশি পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করার হুকুম দিয়েছিলেন। বেচারা প্রাণভয়ে ঐ দিনই দেশ ত্যাগ করে শেষ রক্ষা পেলেন। ২০১২ সালের ১৮ জুন সংসদে সর্বসম্মত রেজোলিউশনের মাধ্যমে মানিকের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যখন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদের (বর্তমান মহামান্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি মিডিয়াতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়বস্তু লিক করে আরেকটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ২০১২ সালে তিনি একজন আইনজীবীকে আদালত প্রাঙ্গণে বানর বলে গালি দেওয়ায় উক্ত আইনজীবী মানিককে অপসারিত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন।

জনাব মানিক ইউকে থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স (বিভিসি) (বর্তমানে বার প্রোফেশনাল ট্রেনীং কোর্স বা বিপিটিসি) করেছেন। বিভিসি বা বিপিটিসিতে প্রফেশনাল এথিক্স নামে একটা সাবজেক্ট আছে যেখানে একজন আইনজীবী বা বিচারকের ব্যবহার বা দায় দায়িত্ব কেমন হবে তা বিস্তারিত ভাবে নির্ণয় করা হয়েছে। আমার মনে একটা প্রশ্ন বার বার উকিঁ মেরে ওঠে, উনি কি সত্য সত্যই লেখা পড়া করে ব্যারিস্টার-এট-ল অর্জন করেছিলেন? এটা অতি সত্যি কথা যে লেখাপড়া না করে কেউ এই ডিগ্রী অর্জন করতে পারে না। তাহলে উনি কিভাবে তা অর্জন করলেন? এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত সর্বদা অপ্রকাশ্যই থেকে যাবে।

এছাড়া কোর্টের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে কী কী করেছেন বা কাকে কাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন সর্বসমক্ষে গর্ব করে বলে তাঁর সমস্ত বিচার কার্যক্রম যে কোনকালেই নিরপেক্ষ ছিলনা তা তিনি প্রমাণ করেছেন। অবসরের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই রাজপথ দাপিয়ে বেড়ানো এ দলীয় এজেন্ট প্রকাশ্যেই প্রধান বিচারপতিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এখন আমরা কি এই সিদ্ধান্ত নিতে পারি না যে তিনি সরকার দলের দালালী করে এবং দলীয় কর্মী হিসেবেই প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের বিচারক পদে নিয়োগ পেয়েছেন? সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার মানসে তিনি এহেন গর্হীত কার্যক্রমের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন। তিনি এটাই প্রমাণ করেদিয়েছেন যে দলীয় বিবেচনা ছাড়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের বিচারক পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা তাঁর কখোনোই ছিলনা।

মানিক একদিকে ৭১ সালের যুদ্ধ অপরাধের বিচার করেছেন, অন্যদিকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নামক একটি সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাহলে কি মানিক বিচারপতি থাকাকালে নিরপেক্ষ ছিলেন? বিচার ব্যবস্থা কতটা পরাধীন হলে এমন একজন রাজনৈতিক কর্মীকে বিচারকের আসনে আমাদের কে দেখতে হচ্ছে। আশার বিষয় এই হচ্ছে যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ইতোমধ্যে মন্তব্য করেছেন যে মানিকের বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মকাণ্ড অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিচারকসুলভ। যেহেতু বিচার বিভাগ দেশের সব শ্রেণী পেশার নাগরিকদের ন্যায় বিচার প্রত্যাশার শেষ আশ্রয়স্থল, সেহেতু এর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

এই সেই মানিক যাকে একবার সংসদে স্যাডিস্ট (অন্যকে যিনি কষ্ট দিয়ে আনন্দ পান) বলে আখ্য দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একজন স্যাডিস্টকে সুপারসিড করে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল কোন শক্তির বলে, এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে? যিনি কর্তব্যে অবহেলা করে ১৫০টির মামলার রায় না লিখে এখন প্রেস কনফারেন্স করে বিচার বিভাগকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক রায় না লেখার কারণে বিচার বিভাগ ও সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। সরকারের উচিৎ বিচারপতি মানিক যেন কোনোদিন তাঁর নামের আগে বিচারপতির পদ ব্যবহার না করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা।পাশাপাশি কোনো সুযোগ সুবিধাও যেন না নিতে পারেন সে ব্যাপারে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া।

একজন বিচারক ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ ও দায়িত্ববান হওয়া প্রয়োজন। অন্যদের সঙ্গে তাঁর আচরণে শালীনতা বজায় রাখাতে হবে। জনাব মানিকের আচরণে এর লেশ মাত্র কখনোই ছিল না। বিচারপতি থাকাকালে তিনি প্রকাশ্যে ইউকে আওয়ামী আইনজীবী কমিটি গঠনে কার্যকরি ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে অনেক বার লন্ডনের হোয়াইটচাপেলে বিভিন্ন অফিসে ইউকে আওয়ামীলীগের বিভিন অঙ্গসংগঠনের সভা-সমাবেশে দেখা গেছে। সুতরাং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে এটা রীতিমত অগ্রহণযোগ্য এবং সংবিধানের ৯৬(৪)(এ) অনুচ্ছেদের ১, ২, ৩, ৬, ৭, ১১ এবং ১৩ নং দফা অমান্য করে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান তুয়াক্কা না করে যে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে গেছেন তা রীতিমত রাষ্ট্র্দ্রোহিতা ছাড়া আর কিছু না।

মানিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আরো একটা ইস্যু রাজনৈতিক মাঠে আলোচনায় এসেছে। যখন কোন ব্যক্তির অন্য দেশের নাগরিকতা থাকে, তিনি যে কোন ভাবেই বহির্বিশ্বের রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতদুষ্টে দোষী হতে পারেন। তিনি কখোনোই দেশের কল্যাণকর কাজে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারে না। জনাব মানিক তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।

মানিকরা আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছেন এবং বাংলাদেশের মহান সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন স্বাধীন বাংলার নাগরিকদের অবিচার ও শোষণ করে যাচ্ছেন।

তাই সরকারের যে কোন মূল্যে এই সকল জঘন্য মানসিকতার মানিকদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অনতিবিলম্বে বের করে দেওয়া উচিৎ। সাথে সাথে নিশ্চিত করা উচিৎ যাতে অদূর ভবিষ্যতে মানিকরা যেন বিশেষ করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আর আসীন হতে না পারে। সে জন্য নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়ন করা উচিৎ:

১. স্বাধীন ও রাজনৈতিক ভাবে নিরপেক্ষ সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিদের আচার-আচারণ নিয়ন্ত্রণ করা।

২. নতুন আইন পাস করে বিচারপতি নিয়োগ ও অপসারণ করার ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে অর্পণ করা।

৩. রায় লেখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন প্রণয়ন করা যাতে অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা দিয়ে রায়ের মান নষ্ট না করতে পারে সে ব্যবস্থা করা।

৪. নিয়োগের পূর্বেই বিচারপতিদের ভাষা জ্ঞান বিশেষ করে ইংরেজী ভাষার বিদ্যাবত্তা যাচাই করে নেওয়া যাতে ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী না থাকায় অন্যকে দিয়ে রায় না লেখাতে পারে।

৫. নিয়োগের আগে বিচারপতিদের আইনের উপর কোন পাবলিকেশন্স আছে কিনা তা যাচাই করে নেয়া করা উচিৎ।

৬. বিচারপতিরা মানসিক বিকারগ্রস্থ বা প্রকৃতিস্থ, সদ্বিবেচক, স্থিরমস্তিষ্কের কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়া করা উচিৎ।

৭. বিচারপতিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কিনা তা ভালভাবে খতিয়ে দেখা।

৮. নিয়োগের পূর্বে ভাল ভাবে পর্যালোচনা করা উচিৎ যে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কতটা রায়ে উল্লেখ আছে।

৯. বিচারপতিরা দ্বৈত্ব নাগরিক কিনা তা যাচাই-বাচাই করে নেয়া উচিৎ।

১০. বিচারপতিদের নিয়োগের আগে এবং নিয়োগের পরে তাদের সম্পদের হিসাব নেয়া উচিৎ।

আমার বিবেচনায় বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ঠ বদ্ধ পরিকর। তাই সরকার জনাব মানিককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে ইতিহাসে নজির স্থাপন করুক। এবং সাথে সাথে এই শিক্ষা নেয়া উচিৎ, মানিকের মত ভূল লোক দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার আগে তার শিক্ষা, কৃষ্টি ও মানসিক অবস্থা যাচাই বাচাই না করা শুধু বোকামিই না অন্যায়ও বটে।

লেখকঃ প্রাক্তন প্রভাষক, রিগাল কলেজ, লন্ডন; আইন উপদেষ্টা এসইবি সলিসিটর, লন্ডন

শিরোনাম ডট কম পোর্টালে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, যা আমাদের সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *