বিএনপির ৩১ নেতার অব্যাহতির আদেশ পরিবর্তন

এমকে আনোয়ারসহ বিএনপির ৩১ নেতার নাশকতার একটি মামলায় অব্যাহতির আদেশ বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এমকে আনোয়ারসহ বিএনপির ৩১ নেতার নাশকতার একটি মামলায় অব্যাহতির আদেশ বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।এমকে আনোয়ারসহ বিএনপির ৩১ নেতার নাশকতার একটি মামলায় অব্যাহতির আদেশ বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের জেনারেল রেকর্ডিং অফিসার (জিআরও) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, রমনা থানার নাশকতার একটি মামলায় বিএনপির ৩১ নেতা-কর্মীকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছে আদালত।

এর প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে জানানো হয়, অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

মহানগর হাকিম আমিনুল হক ৩১ নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার সকালে দেশের সব টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে ও খবরে, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সনে খবর প্রচার হয়।

পরে এ নিয়ে আদালত থেকে ভিন্ন বক্তব্য আসায় আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের তৈরি হয়েছে।

বিএনপির নেতাদের অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবা বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল হক পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাদের অব্যাহতি দেন। কিন্তু পরে দুপুরে আদালত অব্যাহতির আদেশ পরিবর্তন করে নতুন করে আদেশ দেওয়ার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।’

মেজবা বলেন, ‘এভাবে আদালতের আদেশ পরিবর্তন স্বাভাবিক নয়। সরকারের চাপে মূলত এটি পরিবর্তন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আদালতের বিচারক কোনো আদেশ দিলে তা পরিবর্তন করতে পারেন না। কারণ প্রবাদ আছে, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। কিন্তু এখানে তার পুরো উল্টো ঘটেছে।’

বিএনপির নেতাদের এই আইনজীবী জানান, এসব মামলায় আদালতে কোনো পক্ষের শুনানি হয় না। শুধু বিচারক পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি আমলে নিলে আসামিরা আইনগতভাবে অব্যাহতি পেয়ে যান।

সকালে আদালতের জিআরও মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে রমনা থানার ২২ (১) ১৫ নং মামলায় পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র মহানগর হাকিম আমিনুল হক গ্রহণ করে ৩১ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

দুপুরে যোগাযোগ করা হলে জিআরও এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, বিচারকের অব্যাহতির আদেশটি ঠিকই ছিল। কিন্তু সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। খুব দ্রুতই অব্যাহতির আদেশটি সংশোধিত হয়ে যায়। নতুন আদেশে পুনরায় শুনানির জন্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু ও ছাত্রদল নেতা মৃত নুরুজ্জামান জনিসহ ৩১ জন।

২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জন জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শফিউল ইসলাম ১৯ জানুয়ারি মামলাটি করেন।

পরে ১৯ মে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ৩১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেলসহ সাত জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *