জনতার ভোটে বিএনপির সাক্কুর জয়

জনতার ভোটে বিএনপির সাক্কুর জয়

150
0
SHARE

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন(কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।কুমিল্লা সিটি করপোরেশন(কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সাক্কু প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে পরাজিত করে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হলেন।

নির্বাচনের মোট ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এ দুটি কেন্দ্রের মোট ভোট বিজয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে কম।

১০১ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট আর নৌকা মার্কার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

সন্ধ্যার পর থেকে অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ জন মেয়র, ১০৪ জন কাউন্সিলর ও ৪০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী লড়ছেন। মোট ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন। এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ১০৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২ হাজার ৪৪৭ জন আর নারী ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯ জন। ভোটারদের মধ্যে অন্তত ৩৮ হাজার সংখ্যালঘু ও ৩০ হাজার নতুন ভোটার।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের মেয়ে। ২০১২ সালের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আফজল খান বিএনপির প্রার্থী কাছে হেরে যান। এবারও বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক। এর বাইরে মেয়র পদে শিরিন আক্তার (জেএসডি) ও মামুনুর রশীদ (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৪ জন।

নির্বাচনে ৭৬০ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ১ হাজার ৬৭৮ জন পুলিশ, ১ হাজার ২৩৬ জন আনসার, র‍্যাবের ৩৩৮ ও বিজিবির ৬০০ জন সদস্য, ২৭টি ওয়ার্ডে ৩৬ জন নির্বাহী হাকিম ও বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ভোট চলাকালে বেলা একটার দিকে কুমিল্লা নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে রাস্তার পাশে ১০টি ককটেল পাওয়া যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়।

প্রায় একই সময়ে চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও নেউরা এম আই উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়। এই কেন্দ্রগুলোতে নৌকার ব্যাজ পরা পাঁচ থেকে সাতজনকে প্রতিটি বুথে সিল মারতে দেখা যায়। কাছাকাছি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এ সময় বিএনপির দুই কাউন্সিলর প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাককে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়। বাকি দুটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হট্টগোলের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনকে কেন্দ্রে ঢুকে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মাহবুবুর রহমান ও তাঁর এজেন্ট মো. ফরহাদকে মারধর করা হয়। সেখানে ব্যালট পেপার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরে এক ঘণ্টা ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন নিজামউদ্দিন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি ওই কেন্দ্রের ভোটার নন। আইন অনুসারে এ অপরাধের শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড হলেও তাঁকে ওঠবস করিয়ে ছেড়ে দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

Comments

comments