বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের বৈঠক

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে খালেদা জিয়ার ওপর সরকারি দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার কথা কূটনীতিকদের জানালেন বিএনপি নেতারা। এসময় হামলার শিকার হওয়া ভাঙা গাড়িগুলোও দেখেছেন কূটনীতিকরা। যেসব গাড়িগুলো গতকাল সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে ব্যবহার করা হয়েছিলো।

মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইইউসহ ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বৈঠকের বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কিছুই বলেননি তারা।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার ওপর সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বর্বর হামলার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা, আহত নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থা এবং নির্বাচনী পরিবেশ, ইসির দায়সারা ভূমিকা ও বিরোধী দল সমর্থক প্রার্থীদের সরকারের হয়রানি করার বিষয়ে কার্যালয়ে আগত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে অংশ নেয়া এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়নের জন্য ঢাকার কূটনীতিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরের ওপর হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার কারণেই আজ (মঙ্গলবার) আমরা তার কার্যালয়ে গিয়েছি।’

সূত্রটি আরো জানান, ‘আমরা চাই সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই যেন একটি, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করে।’ ‘ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেরকম পরিবেশ নিশ্চিত করা। এটা অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন কমিশনের কাজ।

রাজনৈতিক দলগুলোও এ বিষয়ে আরো দায়িত্ববান হবেন বলেও আশা করে বলে এ সূত্রটি উল্লেখ করেন।’

বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস, কাতার, ফ্রান্স, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুরসহ ১৬টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন, ড. আব্দুল মঈন খান, সাবিহ উদ্দিন আহমদ, মেজর জেনারেল অব. ফজলে এলাহী আকবর ও এম এ কাইয়ুম প্রমুখ।

শেষ পর্যন্ত মামলা নিয়েছে পুলিশ

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে বিএনপির মামলা অবশেষে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে তেজগাঁও থানা এই মামলা নেয়।

এর আগে সকালে অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে বলে জানিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা। তখন তারা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, থানা না নিলে আদালতে মামলা করবেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেজগাঁও থানায় গিয়ে মামলার এজাহার দাখিল করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ তালুকদারসহ চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা সদস্যরা। মামলার বাদী হলেন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা ফজলে এলাহী আকবর।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিএনপির নেতারা অভিযোগ দাখিল করেছেন। কিন্তু মামলা নেয়া হবে কি না তা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমি থানার বাইরে আছি। ব্যস্ততা সেরে থানায় গিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখব।”

পরে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে তেজগাঁও থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রমজান আলী জানান, মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪০।” দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মামলা গ্রহণের সময় দেখানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলের সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণার সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিযার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সরকারি দলের লোকজন এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। হামলায় খালেদা জিয়ার গাড়ি, পেছনে থাকা চেয়ারপারসনের অতিরিক্ত গাড়ি (স্পেয়ার কার) ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) তিনটি গাড়ি এলোপাতাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলায় খালেদার দুজন নিরাপত্তাকর্মী ফজলুল করিম ও ফারুক হোসেন, একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও খালেদা জিয়ার একজন গাড়িচালক শাহজাদা শাহেদ এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *