বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ওসমানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। নৌবাহিনীর এ জাহাজটি দীর্ঘ ২৫ বছর দেশে-বিদেশে যে অসামান্য অবদান রেখেছে তারই স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এ পুরস্কার প্রদান করলেন ।
জাতীয়

‘২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ওসমানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। নৌবাহিনীর এ জাহাজটি দীর্ঘ ২৫ বছর দেশে-বিদেশে যে অসামান্য অবদান রেখেছে তারই স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এ পুরস্কার প্রদান করলেন ।শনিবার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ওসমানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। নৌবাহিনীর এ জাহাজটি দীর্ঘ ২৫ বছর দেশে-বিদেশে যে অসামান্য অবদান রেখেছে তারই স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এ পুরস্কার প্রদান করলেন ।

বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর জন্য আলাদা বিমান ও সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বানৌজা ওসমান লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে চার বছর নিয়োজিত থেকে দেশের জন্য অসামান্য সম্মান ও গৌরব বয়ে এনে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরেছে।

চট্টগ্রামে বানৌজা ওসমানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বানৌজা ওসমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবস্থান আরেকটি নতুন ধাপে উন্নীত করলো। দিনটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীসহ গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

বহুমুখী নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা ওসমান ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখেছে জাহাজটি। এটি দেশে ও বিদেশে পাঁচ শতাধিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে এবং এতে নৌবাহিনীর ৪৪৫ জন কর্মকর্তা ও নাবিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এসে পৌঁছানোর পর নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, এনডিসি, পিএসসি, তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি চৌকষ দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, কূটনীতিকগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৭৪ সালে বানৌজা ঈসাখানকে প্রথম ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “জাতির পিতা সমুদ্র পরিবেষ্টিত বাংলাদেশের জলসীমা এবং তার সম্পদ রক্ষার জন্য একটি আধুনিক নৌবাহিনী গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ভারত থেকে দুটি পেট্রোল ক্রাফট ‘পদ্মা ও পলাশ’ নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে নৌবাহিনীর ঘাঁটিসমূহ একযোগে কমিশন করেন। সেদিনের ভাষণে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লক্ষ্য তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার জন্য একটি আধুনিক নৌবাহিনী গঠন করতে হবে’।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় তার বিগত সরকারের সময় অত্যাধুনিক জাহাজ ‘বানৌজা বঙ্গবন্ধু’ নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। যাকে আমি গত বছর ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নির্দেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ১৯৯৬ সালের তার সরকারের সময় নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এছাড়া সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীরও ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালেও তার সরকার ক্ষমতায় এসে সশস্ত্র বাহিনীর এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখে। তিনি বলেন, তিন বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিম-লে অবদান রেখে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে “দ্য টেরিটরিয়াল ওয়াটারস্ অ্যান্ড মেরিটাইম জোন অ্যাক্ট” প্রণয়ন করেন। আমরা ২০০৯ এ সরকার গঠনের পর পরই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র এলাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নিই।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে মায়ানমারের সাথে এবং এ বছর ভারতের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্র এলাকা এবং এর সম্পদের ওপর দেশের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে এই সম্পদ আহরণসহ সমুদ্র এলাকার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা যেখানে প্রায় তিনকোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকার জন্য সমুদ্রসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া বহির্বিশ্বের সাথে দেশের বাণিজ্যের ৯০ ভাগেরও বেশি সমুদ্রপথেই পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, সম্পদ আহরণ ও নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিতে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ। এ লক্ষে নৌবাহিনীকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নৌবাহিনীকে একটি দক্ষ, আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বেশ কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মোট ১৬টি জাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া দুটি হেলিকপ্টার ও দুটি মেরিন পেট্রোল এয়ারক্রাফটও সংযোজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেভাল এভিয়েশান ও আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ারের জন্য স্পেশাল ফোর্স সোয়াডস্ কমিশন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী নৌবহর গঠনের জন্য অত্যাধুনিক দুইটি করভেট চীনে নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী বছর নৌবহরে সংযোজিত হবে। এছাড়া তিনি আশা করেন, দুইটি সাবমেরিনও আগামী বছরের মধ্যে নৌবাহিনীতে সংযোজিত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, পটুয়াখালীর রাবনাবাদ এলাকায় সাবমেরিন বার্থিং ও এভিয়েশান সুবিধাসম্বলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটির কার্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধবহর বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার নৌবাহিনীর নিজস্ব বিমানঘাঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া সাবমেরিনের জন্য সাবমেরিন ঘাঁটি এবং অবকাঠামো গঠনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বঙ্গোপসাগরে বর্ধিত কর্মপরিধি এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ কর্মকা- সম্পাদনে নৌবাহিনীতে চিফ হাইড্রোগ্রাফার এবং এ সংক্রান্ত সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের বিষয় অনুমোদন দিয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নৌবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে খুলনা শিপইয়ার্ডে দুইটি কন্টেইনার শিপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া খুলনা শিপইয়ার্ড প্রথমবারের মত নৌবাহিনীর জন্য পাঁচটি পেট্রোল ক্রাফট্ তৈরি করেছে যা এদেশের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আরও বড় আকারের এবং শক্তিশালী দুটি বড় পেট্রোল ক্রাফ্ট তৈরীও শুরু হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্প বিদেশের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনবে।

দেশগঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে নৌবাহিনীর অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনগুলোতে দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় বনায়ন, আশ্রয়ণ, জাটকানিধনরোধ, চোরাচালানরোধসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন জরুরী পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় নৌবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আশা করেন, নৌবাহিনীর সদস্যরা উচ্চ কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে এদেশের নৌবাহিনীর মর্যাদাকে সর্বদা সমুন্নত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশাল এই সমুদ্র আপনাদের কর্মক্ষেত্র। লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে উত্তালসমুদ্রে দিবারাত্রি কঠোর পরিশ্রম করেন। আমি বিশ্বাস করি, নতুন উদ্দীপনা ও মনোবল নিয়ে দেশের বিশাল জলসীমা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *