‘বাংলাদেশ-ভারত একই রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছি’

দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত একই রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছি।’

দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত একই রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছি।’দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত একই রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছি।’

ভারতীয় দুই বৃহৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ার ও রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) দুটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনো সুবিধাজনক স্থানে চার হাজার ৬০০ মেগাওযাট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের বিদ্যুৎ ভবনে এ সমঝোতা চুক্তিতে বিপিডিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব জহুরুল ইসলাম চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) ভিনেপ এস জাইন ও রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষে কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বামী কে গুপ্তা সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী আদানি পাওয়ার লিমিটেড বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে বা যেকোনো পছন্দসই জায়গায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি অর্থাৎ এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল বেইসড(কয়লা ভিত্তিক) পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার সবই আমদানি করা হবে। অন্যদিকে রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় (স্থান নির্বাচন হয়নি) ৪টি ৭৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট তিন হাজার মেগাওয়াট রি-গ্যাসফিল্ড লিকুইডফিল্ড ন্যাচারাল গ্যাস বেইসড (এলএনজি-তরলায়িত)কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ারপ্লান্ট স্থাপন করবে।

সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নের নজির স্থাপন করছে। এ কারণে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে। যার অংশ হিসেবেই রিলায়েন্সের মত বড় গ্রুপ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করছে।”

ভারতের দু’টি বড় কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সমঝোতা সইকে বড় একটি অর্জন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যাতে করে জনগণ এর সুফল খুব দ্রুত ভোগ করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা শিল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে শুরু করেছি। আমাদের আর কোনো বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকবে না। সঞ্চালন লাইনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কাজ করা হবে। অনেকেই প্রশ্ন করেন ভারতের কাছ থেকে কেন এত বিদ্যুৎ আমদানি। নেপাল বা ভুটান থেকে নয় কেন? তাদের আমি বলব-আমরা ভারতের কাছ থেকে বর্তমানে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ত্রিপুরা থেকে আরও একশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হবে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির জন্যও আমরা আলাপ আলোচনা করছি। এ দুটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ আনতে হলে ভারতকে লাগবে।”

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে চুক্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, জ্বালানি সচিব আবু বকর সিদ্দিক, বিপিডিবির চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম খানসহ বিপিডিবি এবং আদানি ও রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *