বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক (সাবেক) সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়

বাংলাদেশ ইস্যুতে তারানকো-নিশা বৈঠক

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক (সাবেক) সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক (সাবেক) সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বৃহস্পতিবারও স্টিফেন ডুজারিচের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসে। সেখানে তারানকোর দায়িত্বের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারানকোকে।

তিনি আরো বলেন, বুধবার ওয়াশিংটনে তারানকোর সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

জানা গেছে, তারানকো ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসংক্রান্ত দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির রাজনীতিবিষয়ক দপ্তরের সহকারী মহাসচিব থাকাকালে বাংলাদেশ পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। পরে দপ্তর পরিবর্তন হলেও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ নির্দেশনায় তিনি এখনো বাংলাদেশ বিষয়ে ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করছেন।

বুধবারের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শুধু উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়াই কি জাতিসংঘের জন্য যথেষ্ট? নাকি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে জাতিসংঘের বেশি কিছু করা উচিত?

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, তারানকোকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি (তারানকো) সেই কাজটি করছেন। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক উন্নয়নের ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যক্তিগতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও বাংলাদেশ।

স্টিফেন ডুজারিচ বলেন, ‘এখানে যে বিষয়টি বেশ কয়েকবার গুরুত্ব দিয়ে বলেছি, গত বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের সহিংসতা এবং এর কারণে লোকজনের প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত ব্রিফিংয়েও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রধান দুই দলের নেতাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। দুই দল যাতে তাদের মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে পারে, সে চেষ্টা করবে জাতিসংঘ।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতপার্থক্য দূর করতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দূত হিসেবে তারানকো ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিন দফায় ঢাকায় আসেন।

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি ছয় দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরের সময় তিনি দুই দলকে আলোচনার টেবিলে বসালেও তাদের মতপার্থক্য দূর করতে পারেননি।

সে সময় সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি লিখেছিলেন এবং টেলিফোন করেছিলেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *