‘বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে’

যদি তিন নিহত ব্লগারের মৃত্যুকে প্রথম বলিদান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা আর খুব বেশিদিন থাকবে না।

যদি তিন নিহত ব্লগারের মৃত্যুকে প্রথম বলিদান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা আর খুব বেশিদিন থাকবে না।একটানা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বহাল থাকতে বাংলাদেশের নেতারা অব্যাহত ভাবে মরিয়া সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পুরো দেশকে অন্ধকার অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশটির রাজনীতিবিদদের মধ্যে চলা এই যুদ্ধে যদি তিন নিহত ব্লগারের মৃত্যুকে প্রথম বলিদান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা আর খুব বেশিদিন থাকবে না।

প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা : তৃতীয় ক্ষতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এ বছর বাংলাদেশে অনলাইনে লেখালিখি করার জন্য যে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে তৃতীয় হলেন অনন্ত বিজয় দাশ। ৩২ বছর বয়সী অনন্তও তাঁর আগে নিহত দুজনের মতো ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ছিলেন। তাঁর লেখায় এটাও স্পষ্ট ছিল যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি ছিলেন না। এর আগে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে যাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হয়েছেন। তবে এই তিন ব্লগারকে হত্যার ঘটনা এক ধরনের উদ্বেগজনক নতুন ধারা তৈরি করে দিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিগন্তের ওপর এটা এক অন্ধকার ছাপ বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে নিহত অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান ও অনন্ত বিজয় দাশের বিভিন্ন লেখালেখি ও মতাদর্শের কথা বর্ণনা করা হয়।

সেখানে জানানো হয় যে, মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেই অনন্ত বিজয়ের ভিসার আবেদন সুইডেন দূতাবাস থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। তিনি সুইডেনে একটি ছোট সফরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তিনি একবার সুইডেনে প্রবেশ করলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় দূতাবাসটি তাঁকে ভিসা দেয়নি।

দুই বছরে ধরে দেশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামপন্থীদের সঙ্গে এক ধরনের যুদ্ধ করার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। এদের মধ্যে বেশ কিছু দল আরব দেশগুলোর অর্থায়নে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। এদের মধ্যে একটি হলো হেফাজতে ইসলাম।

এ ছাড়া বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন যখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে সেই সময়ে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করা শেখ হাসিনার সরকার নিজেদের পক্ষ থেকে তাদের সমর্থন করতে থাকে এবং সে সময় অনিবার্যভাবে বিরোধীদল ইসলামপন্থীদের পক্ষাবলম্বন করতে থাকে। সে সময় দেশের হাজারো মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দাবার ঘুঁটির মতো ব্যবহার করে শরীয়াভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে সরকারের ওপর চাপ দেওয়া হতে থাকে। সে সময় সরকার হেফাজতে ইসলামের নেতাদের টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে চাইছে বলেও কথা ওঠে। ২০১৩ সালে হেফাজতের করা সহিংস প্রতিবাদ সরকার দমন করতে সমর্থ হয়। তবে সরকার এবং ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে আঁতাতের চেষ্টা অনন্ত বিজয় দাশের মতো নাগরিকদের হতাশ করে দেয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সরকারের সঙ্গে জড়িতদের ‘নাস্তিক’ খেতাব এড়াতে পরামর্শ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *