গুগল বাস বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো গুগল বাস বাংলাদেশ

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো গুগল বাস বাংলাদেশশিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্টারনেট ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো গুগল বাস বাংলাদেশ।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ বাসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানের আয়োজক গুগল বিজনেস গ্রুপ জানায়, ‘গুগল বাস বাংলাদেশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৩৫টি জায়গায় ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ৫ লাখ শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব ধরনের শিক্ষা লাভের সুযোগ পেতে পারে সে উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।

ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করে শিক্ষার্থীরা যেন নিজ প্রচেষ্টায় ব্যবসা, প্রকল্প তৈরি ও পরিচালনার কলাকৌশল জানতে পারে সেই উদ্দেশ্যে সামনে রেখেই এই প্রকল্প বলেও জানান তারা।

এ বিশেষায়িত বাসটিতে রয়েছে ৭টি হাইড্রোলিক আসন। প্রতিটি আসনের সামনে থ্রিজি ইন্টারনেট সংযুক্ত মনিটর ও সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়েছে। এই বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিতদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা, শক্তি ও সুফল সম্পের্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। একইসাথে তারা গুগলের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ব্যবহারের কলাকৌশল জানারও সুযোগ পাবেন।

প্রাথমিকভাবে সব বিভাগীয় শহর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সেবা লাভের সুযোগ পাবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জায়গায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ইন্টারনেট শুধু অনলাইনে যোগাযোগ, ফেসবুকে চ্যাটিং কিংবা ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যম নয়, ইন্টারনেট থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসাসহ সব ধরনের কাজে সুফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বর্তমানে আত্মকর্মসংস্থানের বেশ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নেট ব্যবহারকারীরা ইচ্ছা করলে এর মাধ্যমে প্রচুর অর্থ আয় করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম শর্ত হলো সহজে ইন্টারনেট সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। তারই একটি ধাপ এটি।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ২৩ হাজার ৫০০ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ও ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। আগামী বছরে ৮০ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুগলের বাস ইন্টারনেট সেবা দিবে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি হচ্ছে সেই সব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে এই সেবার কাজ শুরু হবে। এরপর প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মাত্র এক বছরে সব প্রতিষ্ঠানে সফর করা সম্ভব হবে কি-না জানতে চাইলে জুনায়েদ আহমেদ পলক জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠানে আমাদের যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে সফলতা পেলে সময় ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুগলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমার্জিং মার্কেটসের কান্ট্রি ম্যানেজার ম্যকক্লুর বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভবনাময় দেশ। এখানে তারুণ্যের বিশাল শক্তি রয়েছে। চেষ্টা আর উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ প্রযুক্তি ভিত্তিক গ্লোবাল ভিলেজে জায়গা করে নিতে পারবে।

দীর্ঘ সফরের জন্য বাস মাত্র একটা কেন জানতে চাইলে জেমস জানান, আমরা ইচ্ছা করলে বাসের সংখ্যা বাড়াতে পারতাম। কিন্তু বাসের গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ শুরু করছি। তাই একটি বাস আনা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *