৫৫০ রানের টার্গেট। জয়ের জন্য গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড। তার চেয়ে বরং ড্রয়ের চিন্তা করো, সেটাও তা বলা কঠিন।
খেলা

বাংলাদেশকে জয়ের জন্য গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড

৫৫০ রানের টার্গেট। জয়ের জন্য গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড। তার চেয়ে বরং ড্রয়ের চিন্তা করো, সেটাও তা বলা কঠিন।৫৫০ রানের টার্গেট। জয়ের জন্য গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড। তার চেয়ে বরং ড্রয়ের চিন্তা করো, সেটাও তা বলা কঠিন। কারণ ড্রয়ের জন্য মিরপুরের উইকেটে পাড়ি দিতে হবে পাক্কা দুই দিন, যেখানে হাজারো কাঁটা বিছিয়ে দিতে এক পায়ে খাঁড়া ওয়াহাব রিয়াজ, ইয়াসির শাহদের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ।

আক্ষেপ, আফসোসেই ঢাকা টেস্ট কাটছে বাংলাদেশের। প্রথম দিনে টস জিতেও ব্যাটিং না করা, দুই নো বল। দ্বিতীয় দিনের বিকেলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া ব্যাটিং লাইন, সঙ্গে দিনের শেষ বলে অধিনায়ক মুশফিকের বোল্ড হওয়া। তৃতীয় দিনটা বাদ যাবে কেন? দিন শেষের ২ ওভার আগে ইয়াসির শাহর বলে বোল্ড হলেন এবার ইমরুল কায়েস। এসব মাড়িয়েই চলছে বাংলাদেশ। শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৬৩ রান। আরও ৪৮৭ রান দরকার জয়ের জন্য। তামিম ৩২, মুমিনুল ১৫ রানে ব্যাট করছেন।

ম্যাচকেন্দ্রিক গজিয়ে ওঠা সব বড় বড় সংখ্যা বাংলাদেশের না দেখাই ভালো। ঠিক সেভাবেই যেন দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। জুনায়েদ, ইমরানরা খুব টলাতে পারছিলেন না তামিম-ইমরুলকে। বরং বাহারি শটে হারিয়ে যাচ্ছিলেন পাক বোলাররা। ৪৮ রানের ওপেনিং জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ইমরুল ১৬ রান করে বোল্ড হলে। দিনের বাকি সময়ে আর অঘটন হতে দেননি তামিম ও মুমিনুল। তবে এদিন বাংলাদেশের একটি অর্জন আছে বৈকি। হাবিবুল বাশারের পর দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজার রানের মাইলফলক অর্জন করেছেন তামিম। শুক্রবার ব্যক্তিগত ২২ রানেই তামিম তিন হাজারি ক্লাবে নাম লেখান। হাবিবুলকে ধরতে তামিমের দরকার আর ১৬ রান। আর ১৭ রান করলেই তামিম হবেন টেস্টে দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

টস জিতেও ব্যাটিং না করে মিসবাহ উল হককে বড় উপহার দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রতিদান হিসেবে মিসবাহও ম্যাচের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে ফলো অনের লজ্জাটা দিলেন না। ৩৫৪ রানের লিড পাওয়া পাকিস্তানের বাংলাদেশকে ফলোঅন করানোই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে যায় মিসবাহ দল। ইনিংসের চতুর্থ বলে শহীদের শিকার হন হাফিজ (০)। লাঞ্চের পর সামি আসলামকে (৮) দ্বিতীয় শিকার বানান শহীদ।

দলীয় ৪৯ রানে আজহার আলীকে (২৫) ফেরান সৌম্য। চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন ইউনুস-মিসবাহ। তারা ৫৮ রান যোগ করেন। ব্যক্তিগত ১৬ রানে তাইজুলের হাতে সৌম্যর বলে জীবন পান ইউনুস। এছাড়া তাইজুলের বলে তার বিরুদ্ধেই একবার রিভিউ নিয়ে সফল হয়নি বাংলাদেশ। তবে ইউনুস ফিরেছেন তাইজুলের বলেই। কট এন্ড বোল্ড হওয়ার আগে ৩৯ রান করেন ইউনুস।

১৫ রান করে শুভাগতর বলে বোল্ড হন আসাদ শফিক। উইকেটে আসার পর থেকেই দ্রুত গতিতে রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন পাক অধিনায়ক মিসবাহ। ৫২ বলে ২৮তম হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যাট হাতে তাইজুলদের উপর চড়াও হন তিনি। ইনিংসের ৪২তম ওভারে মাহমুদউল্লাহর বলে ডিপ মিড উইকেটে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন মিসবাহ। তিনি ৭২ বলে ৮২ রান (৯ চার, ৩ ছয়) করেন। মিসবাহ আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে পাকিস্তান। সরফরাজ ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের শহীদ ২টি, সৌম্য, তাইজুল, শুভাগত, মাহমুদউল্লাহ ১টি করে উইকেট পান।

এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিনের শুরুতে ১৯.৪ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। চার উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ৪৭.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৩ রান করে বাংলাদেশ। ইনজুরি আক্রান্ত শাহাদত হোসেন ব্যাট না করায় শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

দ্বিতীয় দিনের বিকেলে শুরু হওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসটা অব্যাহত ছিল তৃতীয় দিনের সকালেও। দিনের তৃতীয় ওভারেই ওয়াহাব রিয়াজের বলে আজহার আলীর হাতে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। তিনি ৩ রান করেন। মান, যোগ্যতার অভাবের পরও অজানা আর্শীবাদে টেস্ট দলে থেকে যাওয়া শুভাগত হোম প্রথম বলেই আউট হয়েছেন। ওয়াহাব রিয়াজের শর্ট বলে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন গোল্ডেন ডাক পাওয়া শুভাগত।

ইনিংসের ৩৫তম ওভারে ওয়াহাবের বলে বোল্ড হয়েছিলেন সাকিবও। কিন্তু সে যাত্রা তিনি বেঁচে যান বলটি নো হওয়ায়। বিশাল বড় নো বলই করেছিলেন ওয়াহাব। নয় নম্বরে এসে কিছুটা সাহস দেখিয়ে গেছেন তাইজুল। ইয়াসির শাহ-হাফিজদের তিনটি চার মেরেছিলেন তিনি। হাফিজের বলে বোল্ডও হয়েছেন অতি শট খেলার প্রবণতার কারণে। তিনি ১৫ রান করেন।

৯ম উইকেট জুটিতে শহীদকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন সাকিব। ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে তার বাউন্সার আর বাউন্ডারির লড়াইটাও বেশ উপভোগ্য ছিল। শহীদের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। যার মধ্যে শহীদের অবদান মাত্র ১ রান। ৭২ বলে সাকিব ১৯তম হাফ সেঞ্চুরি করেন। মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানও পূর্ণ করেছেন তিনি। কিন্তু তার লড়াইটা থেমে যায় শহীদ (১) ইয়াসরি শাহর শিকার হলে। ১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন সাকিব। ৯১ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছয়ে অপরাজিত ৮৯ রান করেছেন তিনি। পাকিস্তানের ইয়াসির শাহ, ওয়াহাব রিয়াজ ৩টি করে, জুনায়েদ ২টি ও হাফিজ ১টি উইকেট পান।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *