বন্যা-পাহাড় ধসে কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭

কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ আরো পাঁচজনের লাশ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ আরো পাঁচজনের লাশ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে।কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ আরো পাঁচজনের লাশ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফে পাহাড়ধসে মারা গেছে মা ও মেয়ে। এ নিয়ে জেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে, পাহাড় ও দেয়ালধস এবং গাছচাপায় গত তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যু হলো।

জেলার কিছু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও নিচু এলাকায় বন্যার পানি আরো বাড়ছে। পানিবন্দি আছে চকরিয়া, রামু, পেকুয়া ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের দুই লাখ মানুষ।

সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তিন দিন ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, চকরিয়া-মগনামা সড়কের যোগযোগ বিচ্ছিন্ন। কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি সেতু ধসে যাওয়ায় ওই সড়ক দিয়েও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সকালে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরানপাড়া গ্রামে পাহাড়ধসে একটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই বাড়ির মালিক মনজুর আলমের স্ত্রী মাসুদা খাতুন (৪০) ও তার মেয়ে শাহানা আকতার শানু (১৪)।

রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়াসহ আটটি ইউনিয়নে বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে ৫০টি গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দা। কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের এরশাদ উল্লাহর নিখোঁজ মেয়ে হুমাইরা বেগম ও কামরুন নাহারের (২০) মৃতদেহ শনিবার উদ্ধার করা হয়।

রামু উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী ও পৌর এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা কমেছে।তবে নিচু এলাকার চারটি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে নিখোঁজ চকরিয়ার লক্ষারচরের আনোয়ার আলীর মৃতদেহ শনিবার সকালে এবং কাকারা গ্রামের নিখোঁজ নবম শ্রেণীর ছাত্র কাউসাইন করিমের মৃতদেহ দুপুরে উদ্ধার করা হয়।

জেলার উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন চার দিন ধরে পানিবন্দি। উপজেলা সদর, শিলখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি চার থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে ডুবে রয়েছে। পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে এক শিশু মারা গেছে।

এসব তথ্য সাংবাদিকদর জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার চেয়ারম্যানরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *