অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘ফ্যাসিজম চালু হলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকে না। পারফেক্ট গণতন্ত্র চলছে, এটা বলা ঠিক হবে না।’
জাতীয়

‘ফ্যাসিজম চালু হলে কথা বলার স্বাধীনতা থাকে না’

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘ফ্যাসিজম চালু হলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকে না। পারফেক্ট গণতন্ত্র চলছে, এটা বলা ঠিক হবে না।’অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘ফ্যাসিজম চালু হলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকে না। পারফেক্ট গণতন্ত্র চলছে, এটা বলা ঠিক হবে না।’

‘তর্কাতর্কির ক্ষমতা খর্ব করা উচিত নয়। এখানে মিডিয়ার রোল বড় বিষয়। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে, যেটা এখনই করা সম্ভব।’

প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেন অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন। রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে সোমবার ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতায় অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নিজের লেখা বইয়ের অনূদিত সংস্করণ ‘ভারত : উন্নয়ন ও বঞ্চনা’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

অমর্ত্য সেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক প্রগতির পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও মানবিক প্রগতি স্থির হয়ে থাকতে পারে। মানবিক প্রগতির জন্য দেশের সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানব উন্নয়নের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা দরকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক গরীব আরও গরীব হয়েছে।’

‘মানবিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্বন্দ্ব আছে’ উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন আরও বলেন, ‘মানবিক প্রগতি সম্প্রসারণ না হলে অর্থনৈতিক শক্তি থেমে যাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত বেসরকারি খাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু সবকিছুতেই তারা ভাল করেছে এটা ঠিক নয়। তিনটি বিষয়— তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও অটোপার্টসে ভাল করছে। এ তিন বিষয় দিয়ে দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন করা যাবে— এটি ভ্রান্ত ধারণা।’

অমর্ত্য সেন বলেন, ‘ভারত ১৯৪৭ সালের পর থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারলেও মানবিক প্রগতি সুনিশ্চিত করতে পারেনি। ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এরপর তা বাড়তে বাড়তে ’৪৭-এর তুলনায় সাত গুণ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় মানবিক প্রগতি বাড়েনি। তবে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় শিক্ষা, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার এবং লিঙ্গ বৈষম্যের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে।’

এ্যাডাম স্মিথের ‘দ্য ওয়েলথ অব নেশনস’ বইয়ের উদাহরণ টেনে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে, মানুষ ধনী হলে, একদিকে জীবনযাত্রা সহজ ও সমৃদ্ধ হয়। অন্যদিকে সরকারও মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মানবিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যয়ে অর্থ পায়।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে মেয়েদের কথা বলার সুযোগ অনেক কম। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের মেয়েরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অনেক ভাল অবস্থানে আছে। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থায় সফলতা পেয়েছে, সরকারি চাকরিতে মেয়েদের অংশ গ্রহণের সংখ্যাও বাড়ছে। সে তুলনায় ভারতের অগ্রগতি কম।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *