খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ফের আ.লীগের হামলা

আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মমিনুল ইসলাম সাঈদের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মমিনুল ইসলাম সাঈদের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মমিনুল ইসলাম সাঈদের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এসময় সাঈদ মুখে কালো কাপড় পেচিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করে ফকিরাপুল থেকে নয়াপল্টনের দিকে যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এসময় তার গাড়িবহরে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। গাড়িবহর ফকিরাপুল কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর নয়াপল্টনে পলওয়েল সুপার মার্কেটে মির্জা আব্বাসের প্রচারকাজে অংশ নেন খালেদা জিয়া। এর পর গাড়িবহর নিয়ে তিনি ফকিরাপুল মোড়ে যান। রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মোড় অতিক্রম করার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়িবহরে অতর্কিতভাবে বেশ কয়েকটি ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।

এসময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, জুতা এবং বিভিন্ন দোকানের সামনে রাখা চেয়ার গাড়িতে ছুড়ে মারে। ‘পেট্রোল বোমায় আমার ভাই মরলো কেন, খুনি খালেদা জবাব চাই’ বলে এসময় স্লোগান দিতে শোনা যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এসময় গাড়িবহরে থাকা কর্মীরা ধাওয়া করলে হামলাকারী সরে যায়। পরে গাড়ি বহর নয়া পল্টনের দিকে এগিয়ে যায়।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়ও কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজন আহত হন।

পুলিশের মতিঝিল জোনের ভারপ্রাপ্ত ডিসি আনোয়ার হোসেন বলেন, “কিছু দুর্বৃত্ত ফকিরাপুলে জটলা পাকায়। এ সময় আমরা ধাওয়া দিলে তারা পিছু হটে।”

প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, “প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে সোমবার কারওয়ান বাজারে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। গাড়িতে এখনো গুলির দাগ আছে।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারের সামনে নির্বাচনী পথসভায় খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন। ঢাকা দক্ষিণে দল সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে জনসংযোগ করছেন তিনি।

খালেদা জিয়া দাবি করেন, “আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ‘গুন্ডারা’ জড়িত।”

মির্জা আব্বাসের জন্য ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “গুন্ডামির বদলে শান্তির শহর চাইলে মির্জা আব্বাসকে ভোট দিতে হবে। নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে তিন সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।”

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “সরকার ভেবেছিল বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে জনজোয়ার তৈরি হওয়ার সরকার পাগল হয়ে গেছে।”

সবাইকে নির্ভয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

সোমবার প্রচারে নেমে কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার পথসভা ও গাড়িবহর সরকার-সমর্থক নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছিল। এরপরও তিনি প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। আজ রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রচারের বিপক্ষে সরকার সমর্থকদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো দল-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তিনি গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রগতি সরণি ধরে মালিবাগ-খিলগাঁও হয়ে শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসার আশপাশে জনসংযোগ করেন। তিনি মগ মার্কায় মির্জা আব্বাসের জন্য ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *