ফারুকী সব দর্শকদের জন্য ছবি বানাবেন কি?
বিনোদন

ফারুকী সব দর্শকদের জন্য ছবি বানাবেন কি?

কবিও কাব্যফজলে এলাহী পাপ্পু

আচ্ছা বলুন তো, কোন হৃদরোগীকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রেখে যখন ‘আইসিইউ’ নামক বিশেষ শাখায় রাখা হয় তখন কি কোন মেধাবী ডাক্তার এসে কি রোগীকে বাঁচানোর জন্য রোগীর কোন চোখের আলো বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেয়? রোগীর হাত বা পা নিয়ে কোন গবেষণা করে কি রোগীকে বাঁচানোর কোন বিকল্প ব্যবস্থা করে? অবশ্যই করে না। হৃদরোগীর হৃদপিণ্ডকে সচল করাটাই সকল ডাক্তারদের লক্ষ্য থাকে । কারন হৃদপিণ্ড কাজ না করলে অসুস্থ মানুষটিই যে আর বাঁচবে না । কথাগুলো কেন বললাম জানেন? বলেছি এই কারনে যে আজ যখন আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প ঐ হৃদরোগীর মতো ‘আইসিইউ’ তে তখন অনেক প্রযোজক পরিচালক নিজেদের মেধা প্রমানের জন্য ছবি নির্মাণ করে ঐ মুমূর্ষু শিল্পটাকে নাকি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন । উনারা যে ছবি বানিয়ে শিল্পটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন সেটা শিল্পটিকে বাঁচানোর নামে তামাশা ছাড়া কিছুই নয় । শিল্পের হৃদপিণ্ডকে সচল করার চেয়ে উনারা শিল্পের চোখ ,কান কিংবা হাত, পা , গলা নিয়ে গবেষণা করছেন। একটি শিল্প অর্থনৈতিক ভাবে ধুঁকতে থাকলে সেই শিল্প রুগ্ন হয়ে পরে। সেই রুগ্ন অবস্থায় শিল্পের অবশিষ্ট যে সম্বল বা যে ক্ষুদ্র বাজার আছে সেটাও যদি পরোক্ষভাবে ধ্বংস করা হয় তাহলে সেই শিল্প ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে ।

ফারুকী সব দর্শকদের জন্য ছবি বানাবেন কি?একদিন যে শিল্পে হাজার হাজার মানুষের পদাচারনায় মুখর ছিল । যেখানে অনেক ব্যবসায়ী অর্থ বিনিয়োগ করে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভেতরের ক্ষুদ্র বাজারটিকে সয়ংসম্পন্ন করেছিল সেখানে আজ ধ্বংসের নির্মম খেলা চলছে। সরকারের উদাসীনতা , বিদেশি ছায়াছবির প্রীতি আর বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প মুমূর্ষু অবস্থায় আছে । আমরা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বদলে বিদেশি উৎসবে পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছবি তৈরি করি । আমরা দর্শকদের জন্য ছবি বানাই না আর যারা বানাতে চায় তাদের নিয়ে করি আমরা তামাশা। একটি সার্থক চলচ্চিত্রের মুল জায়গা সিনেমা হল আর সেখানে আমরা টেলিভিশনের পর্দায় নতুন নতুন সিনেমা বানিয়ে মুক্তি দিয়ে শিল্পের প্রসার ঘটাচ্ছি বলে বাহবা নিই। আমরা ছবি বানিয়ে দেশের সিনেমা হলে মুক্তি দেয়ার আগে কোরিয়া জাপান থেকে পুরস্কার নিয়ে বাহবা নিই অথচ সিনেমা হলে দর্শক থাকে শুন্য । এই হলো আমাদের নির্মম তামাশার প্রতিযোগিতা । দেশের সিনেমা হলে দর্শক নাই আর আমরা বিদেশি পুরস্কার নিয়ে বেড়াই। বিদেশি পুরস্কার দিয়ে যদি ইন্ডাস্ট্রি চলতো তাহলে হলিউড প্রতি মাসে বিদেশি উৎসবে পুরষ্কার পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ টা ছবি মুক্তি দিতে পারে । কিন্তু তাঁরা কেন এনিমেশ , সায়েন্স ফিকশন , হরর ধরনের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র মুক্তি দিচ্ছে ? কারন একটাই । দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখতে হলে বাণিজ্যিক বিনোদনধর্মী ছবির কোন বিকল্প নেই ।

আমি চাই ফারুকী হবেন সব শ্রেণীর দর্শকদের প্রিয় পরিচালক । আমি চাই ফারুকীর ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে কমপক্ষে ১০০ টি হলে বুকিং নিশ্চিত করুক । আমি চাই ফারুকী সাহেবের ছবি দেশের শুধু স্টার সিনেপ্লেক্স নয় সারা বাংলাদেশের সিনেমাহলগুলোতে মানুষের ঢল নামবে। বিদেশি পুরস্কারের জন্য নয়, দর্শকদের জন্য ছবি বানাবেন ফারুকী এটাই আমার প্রত্যাশা।   আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব ফিরে আসুক একজন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর হাত ধরে। জয় হোক আমাদের বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের।  

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী যেমন টেলিভিশনের পর্দায় জনপ্রিয় সেই হিসেবে তাঁর ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে পরিবেশক, প্রদর্শকদের মাঝে কাড়াকাড়ি লেগে যাওয়ার কথা । ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই তো ১০০ টি হলে একযোগে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথা । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে ফারুকী সাহেবের ছবি নিয়ে পরিবেশক, প্রদর্শকদের মাঝে কোন আগ্রহ নেই । কারন এই ছবি দিয়ে দেশের বাহিরে উৎসবে পুরষ্কার পাওয়া যেতে পারে কিন্তু ধ্বংসের দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা অবশিষ্ট ৪৫০ টি সিনেমা হল টিকিয়ে থাকার জন্য ফারুকী সাহেবের ছবি আশার আলো দেখাতে পারেনি । বরং ফারুকী সাহেবের ছবিগুলো সিনেমাহল মালিকদের শেষ আশাটার মাঝেও পেরেক ঠুকে দিচ্ছে । এই ভাবে হয় না , হতে পারে না । সিনেমাহলে দর্শক না গেলে সিনেমাহল টিকবে না । সিনেমাহল না থাকলে চলচ্চিত্র শিল্প বা এফডিসিও থাকবে না । আপনি বলবেন সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো না তাই দর্শক যায় না। সিনেমা হলের পরিবেশ খুব বেশি উন্নত কোনকালেই ছিল না । তবুও মানুষ দিনের পর দিন সিনেমা দেখেছে , এমনকি এখনও দেখছে। পরিবেশের উন্নত করার আগে মালিকদের এখন ভাবতে হয় সিনেমাহলটি থাকবে কিনা সেই দুশ্চিন্তায়।
আমি নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ভক্ত সেই শুরু থেকে উনার ‘চোর চোর’ নামক টেলিফিল্ম দেখে যা ছিল টেলিভিশনের পর্দায় উনার প্রথম কাজ । ‘একুশে টিভি’তে ২০০০ সালের ঈদের অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেন ও কামাল বায়োজিদ অভিনীত ‘চোর চোর’ টেলিফিল্মটি দারুন লেগেছিল । এরপর একই চ্যানেলে উনার নির্মিত ‘প্রতি চুনিয়া’ নামের এক ঘণ্টার নাটকটি দেখে আরও বেশি ভক্ত হয়ে যাই । এই শতাব্দীর এখন পর্যন্ত যতগুলো টিভি নাটক আমার ভালো লেগেছে তার মধ্যে ‘প্রতি চুনিয়া’ নাটকটি অন্যতম । ফারুকী সাহেব মেধাবী তাতে কোন সন্দেহ ও দ্বিমত নেই । আমি টেলিফিল্ম ও নাটক নির্মাতা ফারুকী ভক্ত হলেও মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে ফারুকী সাহেবের ভক্ত হতে পারেনি । কারন হচ্ছে ফারুকি সাহেব এর চলচ্চিত্রগুলো দেখলে কোন সময় আমার মনে হয়নি ছবিটি সব শ্রেণীর সব দর্শকদের জন্য নির্মিত হয়েছে । এমনকি ছবিগুলোও মনে হয়নি মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি হয়েছে । সবসময় মনে হয় ছবিগুলো দেশ বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্মিত হয়েছে । আমাদের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের এখন যে দুঃসময় চলছে তাতে করে ফারুকীর মতো মেধাবী মানুষগুলোকে খুব বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে চলচ্চিত্রের বেলায় এসে উনি এখনও শৌখিন নির্মাতা হিসেবে রয়ে গেছেন । একজন পরিচালক হয়েও চলচ্চিত্রের মাঝে উনি দর্শক শ্রেণিবিভাজন করে ছবি নির্মাণ করছেন যা মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জন্য বেমানান । একজন পরিচালকের বড় একটি গুন হলো সব শ্রেণীর দর্শকদের মাঝে তাঁর সৃষ্টি ছড়িয়ে দেয়া । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ফারুকীর ছবি সব শ্রেণীর দর্শকদের জন্য সহজবোধ্য নয় । ফারুকী নিজেও তাঁর একটি লিখায় স্বীকার করেছেন যে তিনি শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য ছবি নির্মাণ করছেন এবং তাঁর বিশ্বাস যে তাঁর ভক্তরা একদিন তাঁর মতো করে ছবি বানাবে ।

Mostafa_Sarwar_Farookiফারুকী সাহেব যেহেতু টেলিভিশনের নাটক ও টেলিফিল্ম দিয়ে উনার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন সেহেতু টেলিভিশন পর্দারই একজন খ্যাতিমান মানুষের উদাহরন দিচ্ছি যিনি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে সব শ্রেণীর দর্শকদের পরিচালক হয়েছিলেন । প্রয়াত নাট্যকার , অভিনেতা , প্রযোজক পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ছিলেন মঞ্চ ও টেলিভিশনের শক্তিমান একজন নির্মাতা । তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন । যার নির্মিত বহু কালজয়ী নাটক আছে যা বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় । এই মামুন সাহেব যখন চলচ্চিত্রে পরিচালনায় এলেন তখন তিনি বাণিজ্যিক ছবির পরিচালক হয়ে উঠলেন অন্য সব গুণী নির্মাতার মতো । তাঁর নির্মিত ‘সারেং বউ’, ‘দুই জীবন’ ছবির গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে । তিনি কি চাইলে বিকল্পধারার ছবির পরিচালক হতে পারতেন না ? অবশ্যই পারতেন কিন্তু তিনি মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের রীতিনীতি, ভাষা মেনেই তাঁর মতো করে ছবি নির্মাণ করতেন । বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ‘দহন’ নামের একটি বিকল্পধারার ছবিও নির্মাণ করেছিলেন যা ছিল প্রয়াত হুমায়ুন ফরিদি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র । কিন্তু তিনি ‘দহন’ এর মতো চলচ্চিত্রে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি । যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ফারুক , কবরিকে নিয়ে সাহিত্য থেকে ‘সারেং বউ’ নির্মাণ করেছিলেন । সেই মামুনই বুলবুল, কবরী, নিপা, আফজাল ও দিতিকে নিয়ে ‘দুই জীবন’ নামের রোমান্টিক ছবি নির্মাণ করেছিলেন অর্থাৎ একজন আব্দুল্লাহ আল মামুন মূলধারার চলচ্চিত্র নিয়ে নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন তাঁর মতো করে কিন্তু কখনও কোন একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শকদের টার্গেট করে ছবি নির্মাণ করতেন না । পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এর কাছে শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি যেমন দর্শক ঠিক তেমনি খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলোও ছিল দর্শক । সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি বিনোদনধর্মী ছবি উপহার দেয়াই ছিল আব্দুল্লাহ আল মামুনের উদ্দেশ্য। তাইতো আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছবি দর্শক সমালোচক সব শ্রেণীকেই মুগ্ধ করেছিল । আব্দুল্লাহ আল মামুন চাইলে কি পারতেন না তাঁর ঘনিষ্ঠ টেলিভিশন নাটকের অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে সবগুলো ছবি নির্মাণ করতে? অবশ্যই পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি । কারন একটি সার্থক চলচ্চিত্রের জন্য যা যা করার প্রয়োজন তিনি তাই করেছেন । মূলধারার চলচ্চিত্রকে তিনি টেলিভিশনের নাটকের মানে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেননি।

 

ফারুকীর ছবিগুলো দেখে মনে হয় উনি ইরান, তুরস্ক, কোরিয়া’র নির্মিত ছবিগুলো দারা প্রভাবিত । এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে ইরান , তুরস্ক বা কোরিয়া কারো সাথে আমাদের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ,সংস্কৃতি কোন কিছুরই মিল নেই। ইরানের ছবিগুলো ইরানের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখেই নির্মিত হয় । ইরানের অভিনেত্রিরা ছবিতে হিজাব পরে অভিনয় করেন । ফুল স্লিপের জামা পরে অভিনেত্রীরা অভিনয় করেন । ইরানের ছবিতে কোন নাচগান প্রাধান্য পায় না।কিন্তু ফারুকী সাহেব পারবেন না তাঁর সব ছবিতে অভিনেত্রিকে হিজাব পরে , ফুল স্লিপের জামা পরিয়ে অভিনয় করাতে । এতে করে তিনি আধুনিক যুব সমাজের কাছেই সমালোচিত হতে পারেন অথবা কেউ কেউ তাঁকে ধর্মীয় মৌলবাদী বলেও আখ্যায়িত করতে পারেন । ইরানের ছবি ইরানীদের সাথে মানান্সই যা অন্যদেশের দর্শকদের কাছে আলাদা লাগতে পারে। হলিউডের ছবি এগিয়ে যাওয়া আমেরিকার সাথে মানানসই যা অন্য সব দেশের কাছে উদাহরন হতে পারে। তাহলে আমাদের বাংলাদেশি ছবি আমাদের সাথে মানানসই হবে না কেন? আমরা কেন আমাদের বাণিজ্যিক মূলধারার চলচ্চিত্রকে টিভি নাটকের সমপর্যায় নামিয়ে আনবো? একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত যেভাবে টিকেট কেটে সিনেমা হলে ছবি দেখতে যায় ঠিক সেইভাবেই একজন শ্রমিক , দিনমজুর সিনেমাহলে টিকেট কেটে ছবি দেখতে যায় কিন্তু সেই শ্রমিককে কেন আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে? সে কি দর্শক নয়? এই শ্রমিক শ্রেণীর দর্শকরাই এখনও মফঃস্বলের সিনেমাহলগুলো টিকিয়ে রেখেছে অথচ তাদেরকে আমরা দর্শক হিসেবে গোনায় ধরি না। দর্শক হিসেবে শহরের মধ্যবিত্ত/ উচ্চবিত্ত শ্রেণী সিনেমাহলে না গিয়েও সিনেমা দেখতে পারে কিন্তু ঐ শ্রমিক শ্রেণীর দর্শকরা কোনদিন চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে বেঈমানি করবে না। সেই শুরু থেকে আজো ঐ নিম্ববিত্ত শ্রমিক মজুর শ্রেণীর দর্শকরা সিনেমাহলে গিয়ে ছবি দেখছে ও আগামীতেও দেখবে ।

 

আমি বলছি না শ্রমিক শ্রেণীর দর্শকদের কথা চিন্তা করে ফারুকী সাহেবকে এম রহিম, মোহাম্মদ হোসেন, লিটনের মতো কুৎসিত পরিচালকদের মতো অশ্লীল ছবি নির্মাণ করতে । ঐ এম রহিম, মোহাম্মদ হোসেনদের মতো তথাকথিত পরিচালকদের আমি সত্যিকারের পরিচালক হিসেবে কোনদিন ধরেনি ও ধরতেও চাইনা। এরা পরিচালক নামের সিনেমাশিল্প ধ্বংসের ‘কীট’ । আমি ফারুকি সাহেবকে বলছি খান আতাউর রহমান, সুভাশ দত্ত, আমজাদ হোসেন , আজিজুর রহমান , আব্দুল্লাহ আল মামুন, এ জে মিন্টু, কাজী হায়াত সাহেবদের মতো আমাদের সব শ্রেণীর সব দর্শকদের জন্য বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে । ‘সুজন সখি’, ‘আবার তোরা মানুষ হো’ , ‘লাঠিয়াল’, ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’,   ‘অশিক্ষিত’ , ‘ভাত দে’, ‘কসাই’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘সত্য মিথ্যা’ , ‘পিতা মাতা সন্তান’ , ‘দুই জীবন’, ‘দাঙ্গা ‘ এগুলো কোন ছবিই বিকল্পধারার ছবি নয় , এগুলো কোন ছবি অশ্লীল বস্তাপচা ছবি নয় । সবগুলো ছবি মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি , বিনোদনধর্মী ছবি। ভালো ছবি বানাতে হলে বিকল্পধারা লাগে না সেই ছবিগুলো তার প্রমান । সবগুলো ছবি নিম্নবিত্ত- উচ্চবিত্ত সব শ্রেণীর দর্শকদের মনজয় করা ছবি । এই ধরনের ছবি কি একজন চলচ্চিত্রপ্রেমি হিসেবে পরিচালক মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর কাছ থেকে আশা করা কি অন্যায়? আমি চাই ফারুকী হবেন সব শ্রেণীর দর্শকদের প্রিয় পরিচালক । আমি চাই ফারুকী সাহেবের ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে কমপক্ষে ১০০ টি হলে বুকিং নিশ্চিত করুক । আমি চাই ফারুকী সাহেবের ছবি দেশের শুধু স্টার সিনেপ্লেক্স নয় সারা বাংলাদেশের সিনেমাহলগুলোতে মানুষের ঢল নামবে। বিদেশি পুরস্কারের জন্য নয় , দর্শকদের জন্য ছবি বানাবেন ফারুকী এটাই আমার প্রত্যাশা।   আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব ফিরে আসুক একজন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর হাত ধরে। জয় হোক আমাদের বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ।

 

ফজলে এলাহী পাপ্পুব্লগার, বাংলা চলচ্চিত্র ও দেশীয় গান সংগ্রাহক। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত রেডিও বিজি ২৪ নামক দেশের সবচেয়ে বড় গানের সংগ্রহশালার কর্ণধার। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *