ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৫১ রান

ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশের আরো প্রয়োজন ২৫১ রান। সাকিব ১৪ রানে ব্যাট করছেন।

ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশের আরো প্রয়োজন ২৫১ রান। সাকিব ১৪ রানে ব্যাট করছেন।মুশফিকুর রহিমের টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তের চরম মূল্যই দিচ্ছে বাংলাদেশ মিরপুরে। বৃহস্পতিবার চা-বিরতির পর ৮ উইকেটে ৫৫৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে সূর্য ডোবার আগে ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টের চিত্রটাও এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। ফলো অনের চোখ রাঙানিতে বাংলাদেশ। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১০৭ রান। ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশের আরো প্রয়োজন ২৫১ রান। সাকিব ১৪ রানে ব্যাট করছেন।

দেড় দিন ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই জুনায়েদের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল (৪)। জুনায়েদের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মুমিনুল (১৩)। ইমরুল কায়েস-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জুটিটা জমে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। সেটি স্থায়ী হতে দেননি পাকিস্তানের লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। নিজের করা তৃতীয় বলেই ইমরুলকে বোল্ড করেন তিনি। ফ্লাইট ও টার্নে বলের নাগাল পায়নি ইমরুলের ব্যাট। তিনি ৩২ রান করেন। ঠিক পরের বলেই সাকিব এসে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্লিপে। কিন্তু ইউনুস খান সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি।

বিশ্বকাপের পর থেকে ঘুমিয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহর ব্যাট জেগে ওঠার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল। কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে চার, বাউন্সারের খেলায় হেরে বসেন মাহমুদউল্লাহ। ওভারের প্রথম দুটি বল চার মারলেও চতুর্থ বলে ওয়াহাবের বাউন্সারে নিজের বিদায় ডেকে আনেন। তিনি ২৮ রান করেন। শেষ বিকেলে ফ্লাডলাইটও জ্বালাতে হয়েছিল। সেখানেই বাংলাদেশকে আরো খাদের কিনারে ঠেলে দিলেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। দিন শেষের এক বল আগে গুগলিতে তিনি বোল্ড করেন মুশফিককে। আর তাতেই শেষ হয় দিনের খেলা। মুশফিক ১২ রান করেন।

পাকিস্তানের জুনায়েদ, ইয়াসির শাহ ২টি করে ও ওয়াহাব রিয়াজ ১টি উইকেট নেন।

এর আগে দ্বিতীয় দিনে ৬২ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান যোগ করে পাকিস্তান। চা-বিরতির পর ৮ উইকেটে ৫৫৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন মিসবাহ উল হক। প্রথম সেশনে একটি উইকেট হারিয়ে ৩৩ ওভারে ১০৫ রান তোলে দলটি। দ্বিতীয় সেশনে ৪ উইকেট খুঁইয়ে তোলে ১২৯ রান। ২৭ রানে শেষ চার উইকেট হারায় পাকিস্তান।

টস জিতে ফিল্ডিং করার খেসারতটা দ্বিতীয় দিনেও দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম দিনের ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, এমন আশাবাদই ছিল সবার মনে। শুরুটাও প্রত্যাশা অনুযায়ীই ছিল। বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে সাকিব বোল্ড করেন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহকে (৯)। তখনও স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হয়নি পাকিস্তানের। এরপর পাকিস্তান দলের মধ্যে উইকেট কামড়ে থাকার মিশনে বিখ্যাত আজহার ও আসাদ শফিক জুটি বাঁধেন। দুজন মিলে লাঞ্চের পরও হতাশায় পুড়িয়েছেন স্বাগতিকদের। লাঞ্চের আগে আজহার দেড় শ, আসাদ শফিক হাফ সেঞ্চুরি করেন।

লাঞ্চের পর এসে সাকিবকে ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আজহার আলী। আসাদ শফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। কোনো চেষ্টাতেই ভাঙছিল না পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট জুটি। চা-বিরতির পাঁচ ওভার আগে আজহার-আসাদকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ব্রেক থ্রু এনে দেন শুভাগত। সঙ্গীর বিদায়ের এক ওভার পর সাজঘরে ফিরেছেন আসাদ শফিকও। দুজনের আউটের ধরন একই। শুভাগতের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়েছেন তারা। ৪২৮ বলে ২২৬ রান (২০ চার, ২ ছয়) করেছেন আজহার। পঞ্চম উইকেটে তারা ২০৭ রানের জুটি গড়েন। ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করা আসাদ শফিক করেন ১০৭ রান (৯ চার ও ১ ছয়)। পরে এক ওভারে ওয়াহাব রিয়াজ ও ইয়াসির শাহকে ফেরান তাইজুল। সরফরাজ ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ৩টি, শুভাগত-শহীদ ২টি ও সাকিব একটি করে উইকেট নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *