ফখরুলকে ফের কারাগারে প্রেরণ, মুক্তির দাবি বিএনপির

ফখরুলকে ফের কারাগারে প্রেরণ, মুক্তির দাবি বিএনপির

ফখরুলকে ফের কারাগারে প্রেরণ, মুক্তির দাবি বিএনপিরপল্টন থানায় দায়ের নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেনের আদালত এই আদেশ দেয়।

এর আগে বেলা পৌনে চারটার দিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মির্জা ফখরুল। পরে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।

একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া রুল নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

গত ১৩ জুলাই আপিল বিভাগ অসুস্থতার কারণ বিবেচনায় নিয়ে এ মামলাগুলোতে মির্জা ফখরুলকে ছয় সপ্তাহের জামিন দেয়। এরও আগে দুদফায় আত্মসমর্পণের জন্য তাকে ৬ সপ্তাহ করে ১২ সপ্তাহ সময় বাড়ানো হয়।

এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম ১৪ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুর যান। সেখান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে দেশে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, চলতি বছর পল্টন থানা এলাকায় বিএনপির হরতাল-অবরোধ চলাকালে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়।

এদের মধ্যে ৪ জানুয়ারি পল্টন থানার উপসহকারী পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম, ৬ জানুয়ারি পল্টন থানার উপপরিদর্শক মনিবুর রহমান সুজন এবং ৬ জানুয়ারি বিআরটিসি বাসের চালক মিল্টন আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বিএনপি মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ দাবি জানান।

সরকার মির্জা ফখরুলকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাকে জামিন দেয়া উচিত ছিল কিন্তু সরকার তা করেনি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মুখপাত্র।

রিপন বলেন, মির্জা ফখরুল নিন্ম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছেন কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে ইতিমধ্যেই কয়েকদফা চিকিৎসা নিয়েছেন। এধরণের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য আরো শঙ্কিত হলে সরকারকে দেশবাসী দায়ী করবেন।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল সৎজন মানুষ হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রত্যাশা করেছিলাম স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তিনি জামিন লাভ করবেন। আশা করি স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ দেবেন। মানবিক জায়গা থেকে দ্রুত মির্জা ফখরুলকে মুক্তি দেবেন।

রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলছে। সরকার শক্র শক্র খেলায় লিপ্ত। অকারণে বিরোধীদলের নেতকর্মীদেরকে শক্র ভাবছেন। তিলে তিলে শেষ করে দেবেন এটা অমানবিক। সেই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, অধ্যাপক আবদুল মান্নানের ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। মামলায় জর্জরিত নেতাদেরকে মুক্তি দিয়ে কারারুদ্ধ সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুলক করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *