ফখরুলকে চিকিৎসা না দিলে হার্ট এ্যাটাকের আশঙ্কা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ময়লার গাড়ি পোড়ানোসহ ৮০টি মামলার আসামি হয়ে পাঁচ মাস ধরে কাশিমপুর কারাগার ২-এ অন্তরীণ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ময়লার গাড়ি পোড়ানোসহ ৮০টি মামলার আসামি হয়ে পাঁচ মাস ধরে কাশিমপুর কারাগার ২-এ অন্তরীণ।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ময়লার গাড়ি পোড়ানোসহ ৮০টি মামলার আসামি হয়ে পাঁচ মাস ধরে কাশিমপুর কারাগার ২-এ অন্তরীণ। তাকে কয়েক দফা রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

মির্জা ফখরুল উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দাঁতের সমস্যা, আইবিএস, হার্টের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তার হার্টে তিনটি ব্লক আছে, অবশ্য রিং পরানো আছে। তার মস্তিষ্কের ধমনিতে (করোনারি আর্টারি) দু’টি ব্লক ধরা পড়েছে। যার ৭০ থেকে ৮০ ভাগই অকেজো, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা না দিলে হার্ট এ্যাটাকের আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে দু’বার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু সেখানেও তার সুচিকিৎসা মেলেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কারাগার থেকে আনা-নেওয়ায় শারীরিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফখরুল। মির্জা ফখরুলের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম বলেন, ‘উনার শরীরটা ভাল নেই। উনার সুচিকিৎসা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ তাদের সাধ্যমত যতটুকু করার তা-ই করেছেন, তবে তা উনার জন্য যথেষ্ট নয়। সরকারের কাছে দাবি, উনাকে যেন হাসপাতালে রেখে সুচিকিৎসা দেওয়া হয়।’

রাহাত আরা বেগম জানান, তার স্বামী (মির্জা ফখরুল) যে সব রোগে আক্রান্ত এর সুচিকিৎসার জন্য জামিন দিলে তারা তাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতেন। শুক্রবার (৫ জুন) কারাগারে ছোট মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা করেছেন বলেও জানান রাহাত আরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মির্জা ফখরুল নিয়মিতই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতেন। গলায় ব্যথা অনুভব করায় গত বছর সিঙ্গাপুরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষার পর তার গলায় ব্লক ধরা পড়ে। কয়েকদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন। গত ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় তিনি সিঙ্গাপুরে যেতে সময় পাননি। এরই মধ্যে মির্জা ফখরুল গ্রেফতার হন।

গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে আটক হন মির্জা ফখরুল। ওই রাতে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রেখে পরদিন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিনের দু’টি আবেদনই নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ছয়বার জেল খেটেছেন মির্জা ফখরুল। ৮০টি মামলার মধ্যে ২৮টিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন, ৫টি মামলা জামিনের অপেক্ষায় আছে বলে জানান এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। এর মধ্যে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মির্জা ফখরুলসহ ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা ড. আসাদুজ্জামান রিপন রমজানের আগে মির্জা ফখরুলসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি করেন।

রিপন বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ অনেক নেতা চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় কারাগারে আছেন। অসংখ্য কর্মী দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে। সব নেতাকর্মীকে রমজানের আগেই মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *