প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
শিক্ষাঙ্গন

প্রাথমিকে কমেছে পাসের হার, জিপিএ-৫

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রাথমিকে শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ।

গত বছর প্রাথমিকে পাসের হার ছিলো ৯৮ দশমিক ৫৮ ও ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

পাসের হারের সঙ্গে প্রাথমিক সমাপনীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমেছে, এ সংখ্যা কমেছে ইবতেদায়ীতেও। প্রাথমিক সমাপনীতে গত বছরের তুলনায় ১৬ হাজার ৫৫০ ও ইবতেদায়ীতে ৮১২ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থী কমেছে।

এবার দুটি সমা্পনীতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার ৮৫২ জন। এরমধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন, অপরদিকে ইবতেদায়ীতে পেয়েছে ছয় হাজার ৪৪১ জন।

গত বছর মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো দুই লাখ ৪৮ হাজার ২১৪ জন। এরমধ্যে প্রাথমিকে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৬১ জন, অপরদিকে ইবতেদায়ীতে পেয়েছিলো সাত হাজার ২৫৩ জন।

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সকালে গণভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন।

দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এই দুটি সমাপনীতে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ২৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৬ জন। প্রাথমিকে মোট পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৮১ জন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৩ জন। অপর দিকে ইবতেদায়ীতে অংশগ্রহণ করেছে দুই লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৫৫ হাজার ২৭৩ জন।

প্রাথমিকে নিবিন্ধত ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তি, পাশের হার ও অনুপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের হারের ভিত্তিতে গত কয়েক বছরের মতো এবারো সারাদেশের মধ্যে ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে অবস্থান করছে। গত বছরের মতো এবারো দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকার অপর দুই প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুল।

অপরদিকে ইবতেদায়ীতে চট্টগ্রাম জেলার ডাবলমুরিং থানার বায়তুশ শরফ কামিল (এমএ) মাদ্রাসা শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মিরওয়ারিশপুর সিনিয়র মাদ্রাসা। গতবারের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডেমরা থানার দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা এবার রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাশের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে বরিশাল (পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ) ও ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ (পাসের হার ১০০ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে। ৫০৯ উপজেলার মধ্যে ২২ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বিভাগে (পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাসের হার (৮৯.৮০) সর্বনিম্ন। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।

ইবতেদায়ীতে ৭ বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগ পাসের হারে (পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন (৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ)। ৯৯ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মেয়েরা এগিয়ে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। গড় পাশের হারের দিক থেকেও মেয়েরা এগিয়ে আছে। ছাত্রদের পাসের হারে ৯৭ দশমিক ৮৮ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

তবে ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রদের সংখ্যা বেশি। গড় পাশের দিক থেকে ছেলেরা এগিয়ে আছে। ছাত্রদের পাশের হার ৯৬ দশমিক ১১ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৯৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এবারো পাসের হারে শীর্ষে বরিশাল বিভাগ

প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাশের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বরিশাল। এ বোর্ডে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া পাসের হার রাজশাহীতে ৯৮ দশমিক ০৪, খুলনায় ৯৭ দশমিক ৯৫, ঢাকায় ৯৮ দশমিক ২৮, চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ১৯, সিলেটে ৯৪ দশমিক ৯৫ ও রংপুরে ৯৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

অপর দিকে ইবতেদায়িতেও পাসের হারে সেরা বরিশাল। বরিশালে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৭ দশমিক ৪২, খুলনায় ৯৬ দশমিক ৪৭, ঢাকায় ৯৫ দশমিক ২৫, চট্টগ্রামে ৯৬ দশমিক ০৪, সিলেটে ৮৮ দশমিক ৩৪ ও রংপুরে ৯৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

যেভাবে ফলাফল জানা যাবে

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীর ফল www.dpe.gov.bd http://dpe.teletalk.com.bd এবং এসএমএসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল থেকে Primary Terminal Result https://play.google.com/store/apps/details?id=com.coderainbd.primaryterminalresult অ্যাপসের মাধ্যমেও ফলাফল পাওয়া যাবে।

এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেতে যে কোন মোবাইল থেকে ডিপিই (dpe), উপজেলা কোড, রোল নম্বর এবং পাসের বছর (২০১৪) লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি ম্যাসেজে ফল জানানো হবে।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গত ২৩ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। ২০০৯ সালে প্রথম প্রাথমিক সমাপনী শুরু হয়। ইবতেদায়ী সমাপনী শুরু হয় আরো এক বছর পর। সেই অনুযায়ী ষষ্ঠবারের মতো প্রাথমিক সমাপনী ও পঞ্চমবারের মতো ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা ফল প্রকাশিত হলো।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *