primary-assistant-teacher-recruitment-process

বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি

বদলে যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে তিন স্তরের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে প্রথমে বহুনির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে ৫০ হাজার প্রার্থীকে নির্বাচন করা হবে। পরে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। ফলাফলের ভিত্তিতে এ পরীক্ষার মাধ্যমে আসন প্রতি ৩ জনকে নির্বাচন করা হবে। এরপর তাদের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও প্রশ্নফাঁস রোধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে এ ধরনের চাকরির জন্য সর্বোচ্চ আবেদনকারী ছিল ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ জন। আগামী ২৬ অক্টোবর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে হবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এতে যারা উত্তীর্ণ হবে তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। শেষের দুই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তৈরি হবে মেধাতালিকা। সেই তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন। তবে, লিখিত পরীক্ষায় ৮০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর বহাল থাকছে।

প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিসট্রেশন (আইবিএ) এবং বুয়েট’র অধীনে হবে।

এছাড়া মৌখিক পরীক্ষা হবে সব শেষে। সূত্র জানায়, প্রস্তাব অনুসারে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৮ হাজার প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হবে। এরমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থীকে রাখার প্রস্তাব আছে। বিগত নিয়োগ পরীক্ষায় ২০ সেট প্রশ্ন তৈরি করা হলেও এবার তা বাড়ানো হতে পারে।

নতুন বিধিমালায় বড় আকারে পাঁচটি পরিবর্তন আসছে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষের জন্য স্নাতক আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হয়। কিন্তু নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বহাল থাকছে।

সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এতদিন স্নাতক পাস হলেই আবেদন করা যেত। নতুন বিধিমালার খসড়ায় এই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর প্রস্তাব করা হয়েছে। এত দিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ছিল ২৫-৩৫ বছর। কিন্তু এখন এই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ২১-৩০ বছর।

আগে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার বিধান থাকলেও সেটি পরিবর্তন করে সরাসরি পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ আর পিএসসি’র মাধ্যমে ২০ পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানসম্মত শিক্ষক নির্বাচনে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্র জানায়, বর্তমানে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *