বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে লাগামহীন পুলিশি তাণ্ডব
মতামত

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে লাগামহীন পুলিশি তাণ্ডব

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে লাগামহীন পুলিশি তাণ্ডবকাজী এম এ আনোয়ার
পুলিশ সম্পর্কে একটু ইতিহাস না টানলে হয়ত পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশ্য সঠিক ভাবে বর্ণনা করা যাবে না। পুলিশ শব্দটি উৎপত্তি ফ্রেঞ্চ [পোলিস] বা গ্রিক শব্দ “পলিটিয়া” থেকে এসেছে যার অর্থ প্রশাসন বা কনস্টবোলারী।

পুলিশ বাহিনীর সূচনা বোধহয় সম্রাট আশোকা সময় থেকে হয়েছিল যখন পুলিশকে চর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হত। পরবর্তী কালে সুলতানগণ এই সকল চরদেরকে “মুহতাসির” হিসেবে নিয়োগ দিতেন। তখন মুহতাসিরগণ একজন কোতয়ালের অধীনে কর্মরত থাকত। এরপর সম্রাট আকবারের আমলে শেরশাহ শুরী মুহতাসিরগণকে বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন। ১৬৬৩ সালে লন্ডনে প্রথম রাস্তা পাহারা দেওয়ার জন্য ওয়াচমান নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃটিশ শাসনামলে ১৮২৯ সালে তৎকালীন ইংরেজ প্রধান মন্ত্রী স্যার রবার্ট পীল সিভিল পুলিশ গঠন করেন। ১৮৬১ সালে পুলিশ আইন পাশ হলে পুলিশ বাহিনী এই আইন [The Act] দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত। এর পর আস্তে আস্তে ঈস্ট বেজ্ঞল পুলিশ, ঈস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ পুলিশ ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের আলোকে নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে শপথ গহণ করা বাংলাদেশ পুলিশ ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে কর্মে নিয়োজিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ নং অর্টিকেল অনুযায়ী পুলিশ বাহিনী প্রচালিত হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ন্ত্রিত প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগ করা, ব্যক্তি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়েছিল যাতে এই বাহিনী ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হয়েছে তা এখন আলোচনার বিষয়।

আইন হচ্ছে শৃঙ্খলার বিধান এবং আপাতদৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট সকল নাগরিকের ওপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু সভ্যতার আদিকাল থেকে আইনের ইতিহাস নিলে দেখা যায় যে, আইন আসলে ক্ষমতাবানদেরই নিরংকুশ স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। শক্তিমানরা প্রায়শই অবস্থিত আইনকে লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে আইন নিজের করে পরিবর্তন করেছেন। আজ বাংলাদেশে বাহ্যত আওয়ামী লীগ নির্বিকল্প ক্ষমতার অধিকারী। তাই নিজেদের ক্ষমতার একচ্ছত্র স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করে নিজেদের স্থায়িত্ব পাকাপোক্ত করতেছে। একই ভাবে বি,এন,পি ও জাতীয় পার্টী ক্ষমতায় থাকা কালে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনী সহ সব ধরণের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে মারাত্মক হাতিহার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর এই সুযোগে পুলিশ বাহিনী ও তার যথার্থ প্রয়োগ করতে কার্পণ্য করছে না। এই সুযোগের সদব্যবহার করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী এখন জানোয়ার বাহিনীতে রূপ নিয়েছে। এরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পালিত হয়ে সেই জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে কোন ধরণের ভূমিকা তো নিচ্ছেই না বরং ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

বেয়াদব, ক্রোধোন্মত্ত অসভ্য, বর্বর, হিংস্র, অমার্জিত, অভদ্র, অশালীন, শিষ্টাচারহীন, অসৌজন্যপরায়ণ বা এই জাতীয় যত বৈশিষ্ট্য আছে সবগুলোর বিশেষত্ব আমাদের পুলিশ বাহিনীতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যমান। এখন আর বেয়াদব বা অভদ্র শব্দ গুলো না বলে কাউকে সোজাসুজি পুলিশ বলে গালি দিলে, যে কোন বিবেকবান মানুষ অপমানে ও ঘৃণ্যায় হয় হার্টফেল করবে নতুবা মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়বে। তবে একেবারেই সামন্য কিছু সংখ্যক পুলিশ আছেন যাদের ভিতর মনুষ্যত্ববোধ আছে বলে এখনো এই বাহিনীকে আরণ্যক বাহিনী বলা সমীচিন হবে না। এই উগ্র বা কৃচ্ছ্র বাহিনী বাংলাদেশের সভ্যতা সমূলে নির্মূল করে দিচ্ছে। ওদের আচরণ দেখলে হিন্দু ধর্মের পুনর্জন্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ চলে আসে। মনে হবে, আগের জনমে যারা মহা পাপ করেছিল, তারাই এই জনমে জানোয়ারদের থেকে নিকৃষ্ট জীব পুলিশ হয়ে জন্মিয়েছে। আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ঐ সকল পুলিশদের কাছে যাঁরা কোন অবস্থাতেই অন্যায়ের সাথে আপস করেন না। তাঁরা আছেন বলেই এখনো মানুষ পুলিশ কে জন্তু-জানোয়ার আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বধ করতে নামে নাই। এই সব মহান পুলিশদের ন্যায়নিষ্ঠতা কে সম্মানের চোখে দেখা উচিৎ সমাজে যাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দুর্ভাগ্যবশত তারা খুব কম সংখ্যকই আছেন।

পুলিশী তাণ্ডবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে যে তারা পুলিশ বাহিনীকে আর বাহিনী না বলে হিংস্র পুলিশ সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচনা করে। যেমন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পুলিশের পক্ষ নিয়ে একজন নির্মমভাবে অত্যাচারিত ব্যাংক কর্মকর্তাকেই নির্লজ্জের মত দায়ী করলেন। আই জি একজন চাঁদাবাজ ও ঘুষখোর পুলিশের পক্ষ নিলেন কেন? এটাই সাম্প্রদায়িকতার স্বরূপ নয় কি? আর যদি তাই হয়, তাহলে অদূরভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপনিতে পারে। হয়ত হতে পারে বাংলাদেশে এন্টি-পুলিশ আগ্রাসনের সূত্রপাত হতে পারে। এই সব নির্লজ, লোভী ও পশুমার্কা পুলিশের জন্য তাদের নিষ্পাপ পরিবারের সদস্যবৃন্দ জীবন্ত বলি হতে পারে। উনাকে যদি রাজনৈতিক ভাবে নিয়োগ না দেওয়া হত, তাহলে হয়ত উনি সত্য কথা বলতে দ্বিধা করতেন না।

একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ, স্পিকার, পার্লামেন্ট সদস্যগণ, প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, সচিববৃন্দ, সামরিক কর্মকর্তাগণ রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মর্যাদার ক্রমিক অগ্রাধিকারের তালিকা (অর্ডার অব প্রিসেডেন্স) প্রণয়ন করা হয় যাতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আসনগ্রহণ অর্ডার অব প্রিসেডেন্স অনুসরণ করা যায়। আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এখন থেকে অর্ডার অব প্রিসেডেন্সে প্রথমে থাকা উচিৎ পুলিশপ্রধান তার পর রাষ্ট্রপ্রধান। বাংলাদেশ পুলিশের সব স্তরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান। পুলিশের নিয়োগ বা পদোন্নতি কেবল রাজনৈতিক প্রভাবেই হয়ে থাকে। গুম, রাজনৈতিক হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন, মিথ্যাচার, সাংবাদিক আটক, ছাত্র নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ সব ধরণের অপকর্মের সাথে সর্ব স্তরের পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। এখন পুলিশ রাজনৈতিক ভাষণ দান করা, বিরোধী নিধন করা, ভয়প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করা, অর্থ অনাদায়ে হত্যা করে গুম করা, হয়রানি করা সহ সব ধরণের অপকর্মের সাথে জড়িত। শুধু জড়িত বললে কম হবে বরং অপরাধ এখন এদের নিত্য দিনের আচরণ। দুর্নীতি পুলিশের রন্ধ্রেরন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে। পুলিশের হেফাজতে অবর্ণনীয় নির্যাতনের ফলে মৃত্যু নিত্যদিনের সংবাদ।

সম্প্রতি বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটে চাঁদার টাকা না পেয়ে চা দোকানির গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় পুলিশ। বার্ন ইউনিটে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দগ্ধ ব্যক্তি (বাবুল মাতুব্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। কী বীভত্স, তাই না? কেউ কি ভেবে দেখছেন, কিভাবে বাবুল মাতুব্বরের গায়ে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল? কী বিকট চিৎকারই না সে করেছিলেন। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক মুক্তভাবে বাঁচার অধিকারটুকু পেল না। প্রতিদিন কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করে সারা দিন কয়েক কাপ চা বিক্রি করে একটা পরিবার চালাত। আর কাউকেই তিনি চা বানিয়ে বলবেন না, “স্যার আপনার চায়ে চিনি কয়টা দিব?” এটা কি বিছিন্ন ঘটনা? না এটা কোন ভাবে বিছিন্ন ঘটনা না। চাঁদার টাকা না পেয়ে একজন অসহয় চা বিক্রেতাকে নির্মম ভাবে আগুন দিয়ে হত্যা করা হল। একই ভাবে মাত্র এক হাজার টাকার জন্য আরো একজন চা বিক্রেতাকে সাভারে পিটিয়ে হত্যা করল, পুলিশ।
আজ বাবুল মাতুব্বরের গায়ে আগুন দেয়া হয়নি, স্বাধীন বাংলার গায়ে আগুন দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ। ৭১ সাল আর বোধ হয় শেষ হল না। নিপাত হল না পাকিস্তানী হানাদের নির্মমতা। আমরা কোন ধরনের স্বাধীনতা অর্জন করেছি? বাবুল, আমাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। যে দেশে পুলিশ চাঁদা নেয়, মানুষ হত্যার চুক্তি নেয়, টাকার জন্য সংবাদিক, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষক-ছাত্র সহ সাধারণ লোকদের এনকাউন্টার করে, সেই দেশের নাগরিক আমরা। আমরা শিক্ষিত বটে, সম্পূর্ণ অকেজো-অথর্ব শিক্ষিত। আমরা প্রতিবাদ করতে ভয় পাই। ভয় পাওয়ারই তো কথা। কারণ এমন বুকের পাটা আছে যে, তিনি পুলিশের বিরুদ্ধ্বে কথা বলবেন? আজ যিনি কথা বলবেন বা প্রতিবাদ করবেন, কাল তাকে পাকড়াও করা হবে। পরে হয়ত তার লাশ পড়ে থাকবে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হবে, নিহত ব্যাক্তি একজন খুনী। আগ্নেয়াস্ত্র সহ এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশের ভাষা এখন হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি বা দখলবাজি। আমার আজকের এই লেখা সামান্য প্রতিবাদ মাত্র যদিও এই প্রতিবাদ একেবারেই অপ্রতুল।

বাংলাদেশের পুলিশ এখন দেশের সেরা ধনী সম্প্রদায়। বিলাশবহুল বাড়ি, ব্রান্ডের গাড়ি, বাংলাবাড়ি, ইন্ডাস্ট্রিসহ কী নেই তাদের। কোত্থেকে আসল এই সম্পদের পাহাড়? দুদক কি একবারও এদের সম্পদের বিবরণ চেয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ রেগুলেসন এর রেগুলেসন ১১২ (c) অনুযায়ী, “একজন পুলিশ অফিসার পুলিশের মহাপরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া নিজ জেলা ব্যাতীত অন্যকোন জেলায় তার নিজের নামে বা তার স্বামী, সন্তান, আত্মীয়, নির্ভরশীলদের বা কাজের লোকদের নামে বা যে কোন ভাবে নামে বেনামে জমি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবে না বা জমি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। আর কেউ যদি আই জি পির অনুমোদন জন্য আবেদন করে, ওই অফিসারকে অবশ্যই জমি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি ও ক্রয় বা বিক্রয়ের পূর্ণ বিবরণ ও কারণ দর্শায়তে হবে।” ঢাকা শহরে বড় বড় অট্টালিকা, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, আলিশান গাড়ি-বাড়ির মালিক এখন পুলিশ। পুলিশের আইজির কাছে কোন কোন পুলিশ অফিসার অনুমতি চেয়েছেন?

আইজি তো নিজেকে অতি মানব মনে করেন। তা না হলে আইজি মোহাম্মদপুর থানার এস.আই মাসুদ সিকদার কে বাঁচাতে কিভাবে প্রকাশ্য বললেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক গোলাম রাব্বি পুলিশের কাজে বাঁধা দিয়েছেন? তাঁর কথায় স্পষ্টত বুঝা যায়, রাব্বিকে মরে প্রমাণ করা উচিৎ ছিল, এস আই মাসুদ সিকদার মানুষ নয়, পুলিশ নামের পশুপ্রকৃতি যিনি রাব্বি এর নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন এরপরে টাকা না পেয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন।

আইজি সাহেব কি ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ২৯ নং ধারা অনুসারে এই সকল দোষী পুলিশ অফিসারদের যথাযথ ভাবে বিচারের সম্মুখিন করছেন? যদি দাবী করেন যে, তিনি তা করেছেন, তাহলে পুলিশের র্বরোচিত তাণ্ডব দিন দিন এত বেড়ে যাচ্ছে কেন? ২৯ নং ধারা অনুসারে: “যে সব পুলিশ অফিসার কর্তব্য লঙ্ঘন, ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বা অর্ডার অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে, অথবা যে তার হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তিকে অসংগত ব্যক্তিগত সহিংসতা অর্পণ করবে, তার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সর্বোচ্চ তিন মাস শাস্তি হবে, জরিমানা হবে অথবা সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য সশ্রম ও বিনাশ্রম বা উভয় ভাবে সাজা হতে পারে।” বাংলাদেশে দোষী পুলিশদের তেমন কোন দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হয় নি। বরং অপরাধী পুলিশ সদস্যদেরকে বাঁচাতে মন্ত্রী-আমলারা যাথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। পুলিশকে রাজনৈতিক হাতীয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল সব সময় বিরোধী নিধনে তৎপর ছিল বা আছে। ফলে পুলিশের বিচার করলে বা করতে গেলে, হয়ত অনেক নির্মম সত্য উদ্ঘাটিত হয়ে যেতে পারে। তাই যুগে যুগে পুলিশদেরকে কখোনোই বিচারের সম্মুখীন হতে হয় নি।

পরিশেষে বলব, জনগণ এখন রাগে ক্ষোভে ফুলে উঠছে। অদূর ভবিষ্যতে গণ বিষ্ফোরণ হতে পারে। হয়ত তখন সাধারণ মানুষ হয়ে উঠবে হিংস্র প্রতিশোধ পরায়ণ বা গুপ্ত ঘাতক। হয়ত তখন পুলিশের কেউ রেহাই পাবে না। গণ ধোলাই খেয়ে মরতে হবে। তাই প্রধান মন্ত্রীকে বলছি, আপনি দয়া করে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করুন এবং এই অযোগ্য আইজিপি, ডিআইজি, র‌্যাবের ডিআইজিসহ সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অব্যহতি দিয়ে সৎ ও যোগ্যদেরকে যথাযথ স্থানে বসান। অথবা সেনা বাহিনী থেকে যোগ্য অফিসারদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে অরণ্যক পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর প্রবর্তন করুণ। তা না হলে মহাগণবিদ্রোহ সংঘঠিত হতে পারে।

ই-মেইলঃ kmaza_mep@yahoo.com
লেখকঃ প্রাক্তন প্রভাষক, রিগাল কলেজ, লন্ডন; আইন উপদেষ্টা এসইবি সলিসিটর, লন্ডন

শিরোনাম ডট কম পোর্টালে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, যা আমাদের সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *