‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন ২০১৪’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
অর্থনীতি

পিপিপি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন ২০১৪’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন ২০১৪’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘পলিসি অ্যান্ড স্ট্রাটেজি ফর পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ, ২০১০’ এর মাধ্যমে আমাদের দেশে পিপিপি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে কার্যকর আইনগত ভিত্তি দিতে নতুন এ আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কীভাবে পিপিপি বাস্তবায়ন হবে, চুক্তি কীভাবে হবে, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি, চুক্তি সংশোধন, চুক্তি বাতিল, বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদি বিষয়ের দিক-নির্দেশনা রয়েছে এই আইনের খসড়ায়। আইন বাস্তবায়নে পিপিপি অফিসের রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে আইনে। পিপিপি অফিসে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন (সিইও)।

এই আইনে সাতটি অধ্যায় ও ৪৪টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালের পিপিপি অফিস দাফতরিক ও বিশেষায়িত কাজগুলো করবে। পিপিপি প্রকল্পের উদ্যোগগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে। তবে পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

পিপিপি কার্যক্রমকে দিকনির্দেশনা, তদারকি করার জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিষদের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী থাকবেন এর ভাইস-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলেও তা নিরসন করবে এই পরিষদ।

তিনি বলেন, এ আইনের চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ বা উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করবে তা বলা হয়েছে, পিপিপি অফিস কি কাজ করবে, পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া, পিপিপির আওতায় কি ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকার অংশ নিতে পারবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

‘পিপিপি প্রকল্পে সরকার কীভাবে ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) দিবে তাও এ আইনে ঠিক করা হয়েছে। পিপিপির আওতায় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারেকে একটি কোম্পানি করতে হবে’ বলেন মোশাররাফ হোসাইন।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন লাভজনক হবে না সেখানে পিপিপির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। পিপিপি প্রকল্পে সরকার কারিগরি সহায়তা, ভাইয়্যাবল গ্যাপ ফাইন্যান্সিং (লাভজনক করতে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন) ও লিঙ্কড কম্পোনেন্ট ফাইন্যান্সিং (সংযোগ স্থাপনা নির্মাণে সহায়তা) এর মাধ্যমে অংশ নিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পিপিপি প্রকল্পে কোনো বিরোধ হলে প্রথমে পারস্পরিক সম্মতিতে তা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে, তা না হলে তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিবে, তা না হলে আরবিট্রেশনে যেতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিপিপির মাধ্যমে বর্তমানে ৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও আস্থা সৃষ্টি হবে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *