১০৫ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান

বাংলাদেশ ৩৩২ রানের জবাবে মাত্র ৫৮ ওভার ব্যাটিং করেই পাকিস্তান তুলে ফেলেছে ১ উইকেটে ২২৭ রান।

বাংলাদেশ ৩৩২ রানের জবাবে মাত্র ৫৮ ওভার ব্যাটিং করেই পাকিস্তান তুলে ফেলেছে ১ উইকেটে ২২৭ রান।বাংলাদেশ ৩৩২ রানের জবাবে মাত্র ৫৮ ওভার ব্যাটিং করেই পাকিস্তান তুলে ফেলেছে ১ উইকেটে ২২৭ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ থেকে ১০৫ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটা বাংলাদেশের জন্য ভালো যায়নি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সকালে ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। পরে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা হতাশ করেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। সারা দিনের অর্জন মাত্র একটি উইকেট। হাফিজ সেঞ্চুরি করেছেন। দুবার জীবন পাওয়া আজহার আলী হাফ সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছেন।

তাই বলে ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ ছিটকে গেছে এমন নয়। তবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের যে গতি-প্রকৃতি, তাতে দ্বিতীয় দিন শেষেই একটা রূপরেখার আগমনী দেখা যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু নেই।

তবে ম্যাচে ফিরে আসার ভালো সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে টাইগারদের। সে ক্ষেত্রে, বৃহস্পতিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে সকালের সেশনটা হতে হবে আলো-ঝলমলে, সাফল্যের রঙে-রঙিন।

পাকিস্তান লিড নিতে পারে বলেই আভাস আছে। কিন্তু সেটার আকৃতি বড় হতে না দেয়ার কাজটাই করতে পারে বাংলাদেশ বোলিংটা ঠিকভাবে করে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা সৌম্য সরকারও তা-ই বলে গেলেন।

দিনের বর্ণনায় সৌম্য সরকার বলেন, “সব দিক দিয়ে আমাদের দিনটা আজকে (বুধবার) খারাপ গেছে। ব্যাটিং আমরা ৬ উইকেট নিয়ে মাঠে নেমেছি। এই ৬ উইকেট আমরা হারিয়েছি। কালকে (মঙ্গলবার) যে অবস্থায় ছিলাম আমরা; সেখানে নেই দ্বিতীয় দিনে। বোলিংটাও আমরা ঠিক জায়গায় করতে পারেনি। ফিল্ডিংয়েও কয়েকটা চান্স ছিল; সেগুলোও আমরা মিস করেছি। সবকিছু মিলে আজকের দিনটা আমাদের জন্য খারাপ ছিল।”

ম্যাচে ফেরার মন্ত্রটাও শোনালেন এই তরুণ ক্রিকেটার। তিনি বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট একটা সেশনে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। ওই একটা সেশন যদি আমাদের হাতে আসে, আমরা ক্যামবেক করার বড় একটা সুযোগ পাব। আমরা ওইটার অপেক্ষায় আছি। কালকে সকালে যদি আমরা সঠিকভাবে একটা সেশন বোলিং করতে পারি, উইকেট নিতে পারি, তাহলে ছন্দটা আমাদের দিকে চলে আসবে।”

নিজের ও সতীর্থদের বুধবারের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে জানতে চাইলে সৌম্য বলেন, “তারা প্রথম দিন থেকেই ভালো বোলিং করেছে। আমি যতক্ষণ মাঠে ছিলাম, দেখেছি তারা অনেক অনেক ভালো জায়গায় বোলিং করেছে। অনেক সময় ওভারে একটা বাজে বল হয়; কিন্তু ওরা সেটাও করেনি। তাদের বোলিং খুব ভালো ছিল। আমাদের ছোটখাটো ভুলের জন্য আমরা উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছি।”

টেস্ট অভিষেকেই সাত নম্বরে ব্যাটিং করেছেন সৌম্য। মুশফিকের সঙ্গে ৬২ রানের জুটিও গড়েছেন। কিন্তু ৩৩ রানেই তার ঝকঝকে ইনিংসের অপমৃত্যু হয়। হাফিজকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন সৌম্য। নিজের আউট নিয়ে সৌম্য বলেন, “আমার ওই সময় শটটা খেলা উচিত হয়নি। আউট হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, আমি বাজে খেলে আউট হয়েছি। মনে হয়েছে, এই শটটা আমি না খেললেও পারতাম। পরে চিন্তা করলাম, প্রথম ম্যাচে যেসব ভুল করেছি, এগুলো যেন পরে না হয়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি।”

টেস্ট অভিষেকের আগে ও ব্যাটিংয়ে আসার পরের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সৌম্য বলেন, “সব সময় যেভাবে মাঠে নামি, সেভাবেই নামছিলাম; মাঠে নামার পর দেখি সবকিছুই আলাদা। তখন হঠাৎ মনে পড়েছে আজকে তো আমার ডেব্যু হচ্ছে। প্রথম বলটা কীভাবে খেলব, কীভাবে শুরু করব। প্রথম বলটাতে অনেক নার্ভাস ছিলাম। দ্বিতীয় বলটাতেও একটু ছিলাম। থার্ড বলটাতে গিয়ে মোটামুটি ফ্রি হয়ে গিয়েছিলাম। মুশফিক ভাই ছিলেন; উনি বুঝাচ্ছিলেন স্বাভাবিক খেলাটা খেলো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *