রাজধানীর শাহজানপুরের রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন ওয়াসার পরিত্যক্ত একটি পানির পাইপের প্রায় ৬০০ ফুট নিচে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস অভিযান এখনো চলছে।
জাতীয়

পানির পাইপে আটকে পড়া শিশু উদ্ধারে চলছে অভিযান

রাজধানীর শাহজানপুরের রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন ওয়াসার পরিত্যক্ত একটি পানির পাইপের প্রায় ৬০০ ফুট নিচে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস অভিযান এখনো চলছে।রাজধানীর শাহজানপুরের রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন ওয়াসার পরিত্যক্ত একটি পানির পাইপের প্রায় ৬০০ ফুট নিচে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস অভিযান এখনো চলছে।

তবে ঘটনার ৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও জিহাদ নামে চার বছর বয়সী ওই শিশুকে উদ্ধারে সমর্থ্য হয়নি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

সর্বশেষ এক ঘণ্টা আগে(রাত ১০.৫৩) শিশুটির গলার আওয়াজ পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রথমে রশি দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হন। পরে রশিতে কাঠ বেঁধেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি।

এরপর পাটের বস্তা দিয়ে তাকে উঠানোর জন্য নিচে বস্তা ফেলা হয়েছে। পাইপটির ব্যাস মাত্র এক ফুট হওয়ায় অন্য কাউকে পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

ওই পাইপে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। পাইপে একটি মাইক্রোফোনও দেয়া হয়েছে। কারণ শিশুটি বেঁচে থাকলে তার কান্নার আওয়াজ শোনা যাবে এটির মাধ্যমে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় দুর্ঘটনাবশতঃ জিহাদ (৪) নামে ওই শিশুটি ওই গর্তে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় জনগণ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।

উদ্ধার অভিযানের প্রথম দিকে শিশুটি কয়েকশ’ ফুট দীর্ঘ পাইপের নীচ থেকে শুধু একটি কথা বলে। সে বলে, ‘আমি রশি ঠিকমতো ধরতে পারছি না।’

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয় উদ্ধাকারী ক্রেন। প্রায় ৩০০-৬০০ ফুটের গভীর পাইপ টেনে উঠাতে চলছে অভিযান। তবে ততক্ষণে পাইপের ভেতর থেকে শিশুটির আশা জাগানিয়া কণ্ঠটি ক্ষীণ হয়ে আসে।

তবে উদ্ধারকর্মীরা বলছেন-শিশুটি শব্দ করছে, জীবিত আছে সে। রাত ১১টা পর্যন্ত জিহাদকে উদ্ধার করা যায়নি।

উদ্ধার অভিযানে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, শুরুতেই তারা পাইপে কান পেতে শিশুটির চিৎকার শুনতে পান। ডাকেও সাড়া দেয় শিশুটি। এরপরই সর্বশক্তি নিয়ে উদ্ধারে তৎপর হন তারা।

তিনি বলেন, রশি নামানো হয় ১ ফুট ব্যাসের পাইপের ভেতর। শিশুটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রশিটি ধরে ছিল। একটু টান দেয়ার পরই সেটি হালকা হয়ে যায়। এমনিভাবে আরো কয়েক দফা চেষ্টার পর জিহাদের হাত পর্যন্ত রশি পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে টান দিতেই সেটি ছেড়ে দেয় সে।

শিশুটির বাবা নাসিমউদ্দিন একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। তিনি জানান, আজ বিকাল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে জিহাদ ওই গর্তে পড়ে যায়।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *