পাখির জন্য আলমগীরের অন্যরকম ভালোবাসা
সারাদেশ

পাখির জন্য আলমগীরের অন্যরকম ভালোবাসা

পাখির জন্য আলমগীরের অন্যরকম ভালোবাসা। গাছে গাছে বাধানো মাটির কলস। একটি দুটি নয় অসংখ্য এর একটি মুখ বের করে দোয়েল যুগল পড়শীদের দিকে একটু তাকালো। তারপর উড়াল দিল খাবারের সন্ধানে। অন্য কলস গুলোতে উড়ে এসেই কূজন শুরু করে শালিক , কোকিল, ঘুঘুসহ কতশত পাখি।

গ্রাম বাংলার বিলুপ্তপ্রায় পাখিগুলো ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রায় চার বছর আগে পাখি অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগ নেয় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের যুবক আলমগীর হোসেন। চার বছরে তার এ উদ্যোগ অনেকটা সফল পেয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা গ্রামের গাছে গাছে এখন দোয়েল, বুলবুলি, শারস, ঘুঘু, কূজনে মুখর হতে শুরু করেছে। এদিকে, গাছে বাসা বাধা পাখিগুলোর আবাসস্থল যেন কেউ নষ্ট না করে সে ব্যাপারে ও সবাইকে সচেতনাতা করা হচ্ছে। কাল-বৈশাখীসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাশ্রয়ী পাখিদের অনেকেই দল বেধে ছুটে আসছে আলমগীরের এই আবাসনে।

সৈয়দপুর উপজেলা চত্বর ঢুকতেই চোখে পড়ল বিশাল বটগাছ, আমগাছ, কাঁঠালগাছ ও নানা জাতের গাছ গাছগুলোতে অসংখ্য কলস। দুটি ডালের মাঝখানে কায়দা করে এমনভাবে হাড়িগুলো বসানো হয়েছে যেন বৃষ্টির পানি ভেতরে না যেতে পারে, আবার ঝড়-ঝঞ্জায় ছিটে ফোটা পানি ঢুকে গেলেও যাতে পানি জমে না যায় তা নিশ্চিত করতে কলসগুলোতে ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে।

পাখি প্রেমিক আলমগীর এর চেষ্টায় সৈয়দপুর এর বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়াশ্রম, নিজ অর্থায়নে তিনি পাখির জন্য ঘরসংসার করে দিচ্ছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের যুবক রফিকুল জানান, প্রথম দিকে গ্রাম বাসিদের তেমন সাড়া না পেলেও পাখিদের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় এখন সবাই এ কাজে উৎসাহ দিয়ে নানাভাবে সহযোগীতা করছে।

আলমগীরকে সহযোগীতাকারী নাফিজ ও টুইংকেল জানান মাটির কলসিগুলোতে শালিক পাখি বাসা বেধেছে। বেশ কয়টিতে বাচ্চা ফুটেও বের হয়েছে, তবে অন্য প্রজাতির পাখির মধ্যে দোয়েল ওই কলসিগুলোতে যাতায়াত করলেও স্থায়ীভাবে বাস করছে না।

পাখি অভয়ারন্য তৈরির উদ্যোক্তা ও সেতু বন্ধনের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন পাখির প্রকৃত বন্ধু, আমি প্রথমে আমার বাড়ি পাখির বাসা করে দেই, দেখি কয়েকদিনে পাখির আনাগোনা বেড়ে যায়, পরে বন্ধুদের নিয়ে সেতু বন্ধন নামে একটি সংগঠন করে নিজেদের অর্থায়নে সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সড়কের গাছপালায় কলস বেধে দেই। বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলায় ছয় হাজার গাছে কলস বেধে দিয়েছি। আমার অদূর ভবিষ্যতে পরিকল্পনা পুরো নীলফামারী জেলায় পাখির অভয়ারন্য হিসেবে গড়ে তোলা।

সংগঠনের উপদেষ্টা বদরুদ্দোজা জানান, সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। পরিচিত বিভিন্ন পাখি ছাড়াও বেশ কিছু অপরিচিত পাখিও এখন এ অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন আরও জানান, পাখির সংরক্ষণ প্রজনন ও নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেতু বন্ধন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে ২০১২ সালে। তাকে এই কাজে উৎসাহ অনুপ্রেরনা দেন রফিকুল, নাফিজ, কুতুব উদ্দিন আলো, জি.এম কামরুল হাসান, বদরুদ্দোজা, কাকন, রুহুল আমিন, জাহাঙ্গীর, টুইংকেল প্রমূখ।

ওরা সবাই শিক্ষিত যুবক, পড়াশুনার পাশাপাশি পাখি বাঁচাও প্রকৃতি বাঁচাও সংগ্রামে নেমেছে। ‘এসো পাখির বন্ধু হই, সবুজ এ পৃথিবীকে বাঁচাই’ -এই স্লোগান কে সাথে রেখে সেতু বন্ধন সংগঠনের উদ্যোগে পাখির নিরাপদ আবাসস্থান গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গাছে গাছে কলস লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন। পশুপাখি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এরা মানুষকে সজাগ করানোর জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, উঠান বৈঠক, কৃষকদের স্কুল, সাইকেল র্যাালী, লিফলেট বিতরন, সচেনতামূলক ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।

সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে পুরো উত্তরবঙ্গ পাখির নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তুলবেন বলে তিনি জানান।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা, ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, আলমগীর নিজ উদ্যোগে সৈয়দপুর উপজেলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পাখির জন্য আবাসস্থল তৈরি করেছেন। এটি একটি মহতী উদ্যোগ এ বিষয়ে উপজেলা প্রানী বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী জানান, পাখির জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টির ব্যক্তিগত উদ্যোগ খুবই প্রসংশনীয়, এ বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে সেতু বন্ধনের উদ্যোগটি পর্যয়ক্রমে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা চত্বরে পাক-পাখালির আগমন ও বেড়েছে।

জীব বৈচিত্র্য রক্ষা সেই সঙ্গে পাখির সুরক্ষায় তাদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ার মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এভাবেই সবাই প্রকৃতিকে ভালোবাসলে প্রাকৃতিক সম্পদ আরো সমৃদ্ধি হয়ে উঠতো দেশ।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *