জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে পাকিস্তানের প্রথম জয়

জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান।
জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান।জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান। নড়বড়ে পাকিস্তানকে ব্রিসবেনে বড়সড় পরীক্ষায় ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী বোলিং দিয়ে সেই পরীক্ষা উতরে গেল পাকিস্তান।

ব্রিসবেনে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যথা পাওয়া এলটন চিগুম্বুরার হার না মানা ব্যাটিংয়ের পরও শেষ রক্ষা হলো না জিম্বাবুয়ের। টানা দুই ম্যাচ হারের পর এবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানের এটি প্রথম জয়। আর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন টিকে রইল মিসবাহ বাহিনীর।

প্রথমে ব্যাট করে মিসবাহ-ওয়াহাব রিয়াজের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ২৩৫ রান করে। জবাবে ২ বল বাকি থাকতে ২১৫ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করা ওয়াহাব রিয়াজ ম্যাচ সেরা হন।

পাকিস্তানকে ২৩৫ রানে আটকে রাখায় ড্রেসিংরুমে আনন্দচিত্তে ফিরলেও রান তাড়া করার মিশনটা সুবিধার হয়নি জিম্বাবুয়ের। ২২ রানে ২ উইকেট হারায় দলটি। চিবাবা ও সিকান্দার রাজাকে ফেরান দীর্ঘদেহী মোহাম্মদ ইরফান। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা- ব্রেন্ডন টেইলরের প্রতিরোধ দীর্ঘায়িত হয়নি মাসাকাদজার উচ্চাবিলাসী শটের কারণে। তারা ৫২ রানের জুটি গড়েন। ইরফানের বলে শূন্যে বল ভাসিয়ে দেন ২৯ রান করা মাসাকাদজা।

টেইলরের ব্যাটিং আশা যুগিয়েছিল জিম্বাবুয়েকে। ৩২তম হাফ সেঞ্চুরি করার পর মাথা বিগড়ে গেল টেইলরেরও। ওয়াহাব রিয়াজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি ৫০ রান করে। শেষ ভরসা হিসেবে টিকে ছিল শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিনের জুটি। রাহাত আলী বলে উইলিয়ামস পয়েন্টে ধরা পড়লে ম্যাচটা পাকিস্তানের দিকে হেলে পড়ে। উইলিয়ামস ৩৩ রান করেন। দলীয় ১৬৬ রানে ইরফানের শিকার হন সলোমন মিরে। ২ রান পর ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াহাব রিয়াজ তুলে নেন ক্রেইগ আরভিনের (১৪) উইকেট। এক বল পর মুপারিওয়াও ফিরেন ওয়াহাব রিয়াজের সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে।

পায়ে ব্যথা নিয়েও দেশের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক চিগুম্বুরা। তার ব্যথায় কুকড়ানো চেহারা বারবারই দেখা যাচ্ছিল। রান নিতে গিয়ে খোড়াচ্ছিলেন বারবার। তারপরও বুক চিতিয়ে লড়েছেন তিনি।

নবম উইকেটে পানিয়াঙ্গারার সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু রান-বলের সমীকরণটা কাটিয়ে যেতে পারেননি চিগুম্বুরা। ১৮ বলে ৩৪, ১২ বলে ২৮ রানের চাপ অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে অসুস্থ চিগুম্বুরা ও পানিয়াঙ্গারার জন্য। শেষ ওভারে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ২৪ রান। ওয়াহাব রিয়াজের করা ওই ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। পানিয়াঙ্গারা রান আউট ও চিগুম্বুরা ৩৫ রান করে ক্যাচ দেন উমর আকমলের হাতে। পাকিস্তানের পক্ষে ইরফান ৩০ রানে ৪টি, ওয়াহাব রিয়াজ ৪৫ রানে ৪টি উইকেট নেন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমেই বিপদের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। স্কোরবোর্ডে ৪ রান উঠতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান দুই ওপেনার নাসির জামশেদ ও আহমেদ শেহজাদ। দুজনই টেন্ডাই চাতারার শিকার হন। মিসবাহ-হারিস সোহাইল প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। তবে শুরুর ধাক্কায় পাকিস্তানের রানের গতি থমকে যায়। মিসবাহ-হারিসের ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন সিকান্দার রাজা। হারিস সোহাইল ২৭ রান করে শন উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দেন।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে উমর আকমলের সঙ্গেও ৬৯ রানের জুটি গড়েন মিসবাহ। ব্রেক থ্রু এনে দেয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকে আবারও ধাক্কা দেয় শন উইলিয়ামসের নিরীহ স্পিন। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে উমর আকমল বোল্ড হন ৩৩ রান করে। পঞ্চম বলে আফ্রিদিও ফিরেন গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে। ১২৭ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের ইনিংস আগলে রাখেন অধিনায়ক মিসবাহ।

শোয়েব মাকসুদ মিসবাহকে সঙ্গ দিলেও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ২১ রান করে শোয়েব মাকসুদ আউট হন। পাকিস্তান দুশো রানের স্কোর পার হয় মিসবাহ-ওয়াহাব রিয়াজের ৪৭ রানের জুটিতে। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে মিসবাহ ফিরেন চাতারার তৃতীয় শিকার হয়ে। ১২১ বলে তিন চারে ৭৩ রান করেন তিনি।  শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াজের ৪৬ বলে ৫৫ রানের (৬ চার, ১ ছয়) ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে চাতারা ৩টি, শন উইলিয়ামস ২টি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান : ২৩৫/৭; ৫০ ওভার (মিসবাহ ৭৩, ওয়াহাব রিয়াজ* ৫৪; চাতারা ৩/৩৫, উইলিয়ামস ২/৪৮)

জিম্বাবুয়ে : ২১৫/১০; ৪৯.৪ ওভার (টেলর ৫০, চিগাম্বুরা ৩৫; ইরফান ৪/৩০, ওয়াহাব রিয়াজ ৪/৪৫)

ফল : পাকিস্তান ২০ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা : ওয়াহাব রিয়াজ (পাকিস্তান)

পয়েন্ট : পাকিস্তান ২, জিম্বাবুয়ে ০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *