চতুর্থ দিনে চা বিরতির আগেই ঢাকা টেস্ট হেরে গেছে বাংলাদেশ। সাড়ে তিন দিনেই ৩২৮ রানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান।
খেলা

পাকিস্তানের কাছে ৩২৮ রানে হারল বাংলাদেশ

চতুর্থ দিনে চা বিরতির আগেই ঢাকা টেস্ট হেরে গেছে বাংলাদেশ। সাড়ে তিন দিনেই ৩২৮ রানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। ৫৫০ রান পাড়ি দিতে হয়নি। বিশ্ব রেকর্ডও গড়তে হয়নি। টানা দুদিন ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জও নিতে হয়নি। চতুর্থ দিনে চা বিরতির আগেই ঢাকা টেস্ট হেরে গেছে বাংলাদেশ। সাড়ে তিন দিনেই ৩২৮ রানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। ডেন কেক টেস্ট সিরিজটা তাই ১-০ তে জিতে গেল পাকিস্তান।

রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ হার। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪৬৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৯০তম টেস্টে এটি বাংলাদেশের ৭১তম হার। উল্লেখ্য, ঢাকা টেস্টের আগে কখনোই পাকিস্তানের কাছে রানের ব্যবধানে হারেনি বাংলাদেশ। এটি পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়। সর্বোচ্চ ৩৫৬ রানে তারা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে গত অক্টোবরে।

ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিং উপহার দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেই উপহার নিয়ে ৮ উইকেটে ৫৫৭ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে ২০৩ রানে।

৩৫৪ রানে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশকে ফলোঅন করায়নি পাকিস্তান। আবারও ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে মিসবাহর দল। ৫৫০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৫৬.৫ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের অর্জন বলতে মুমিনুল হকের নতুন রেকর্ড। নবম হাফ সেঞ্চুরির মাধ্যমে টানা এগার টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়লেন এই তরুণ। তিনি নাম লিখিয়েছেন ভিভ রিচার্ডস, শেবাগ-গম্ভীরদের সঙ্গে। মুমিনুলের সামনে শুধু ডি ভিলিয়ার্স। টানা ১২ টেস্টে যিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েছেন।

শনিবার সকালে দলীয় ৮৬ রানে ইমরানের খানের বাইরের বল চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তামিম। তিনি ৪২ রান করেন। সাত রানের জন্য এক বিরল রেকর্ড গড়তে পারলেন না তিনি। এই রান গুলো করলেই দেশের হয়ে টেস্ট-ওয়ানডে দুই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ও সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়ে যেতেন তিনি। তবে সুযোগ থাকছে তার জন্য। এখন এই রেকর্ডের জন্য তামিমকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত।

বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘুমিয়ে আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট। এদিন ২ রান করে তিনিও ইমরান খানের শিকার হন। তামিমের মতোই অনেক বাইরের বল তাড়া করে ক্যাচ দেন তিনি স্লিপে। উইকেট বিলিয়ে এসেছেন সাকিবও। হাফিজকে তুলে মারতে গিয়ে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ধরা পড়েন তিনি ১৩ রান করে। রানের খাতা খোলার আগেই ইয়াসির শাহর বলে প্লেন অন হয়ে বোল্ড হন মুশফিক।

ওয়ানডেতে আলো ছড়ালেও টেস্টে ম্লানই থাকলো সৌম্য সরকারের ব্যাট। লাঞ্চের পর ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হওয়ার আগে ১ রান করেছেন তিনি। সৌম্যর বিদায়ের পর রেকর্ডধারী মুমিনুল আসাদ শফিকের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরত যান সাজঘরে। ৯টি চারে ইনিংস সেরা ৬৮ রান করেন মুমিনুল। ৮ম উইকেটে শুভাগত ও তাইজুল ৩৪ রানের জুটি গড়েন। যা শুধু বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। তাইজুল ১০ রান করে আউট হলে সেই জুটি বিচ্ছিন্ন হয়।

নবম উইকেট জুটিতেও ৪৪ রান তুলেছিলেন শুভাগত, শহীদ। জুনায়েদের বলে শুভাগত আউট হলে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। শাহাদাত ব্যাট করতে নামেননি এই ইনিংসেও। শুভাগত ৩৯ রান করেন। শহীদ ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের ইয়াসির শাহ চারটি, ইমরান খান দুটি উইকেট নেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *