খিলগাঁওয়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য নিখোঁজ
জাতীয়

খিলগাঁওয়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য নিখোঁজ

খিলগাঁওয়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য নিখোঁজরাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ৫ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজদের আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে থানায় কোনো জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়নি বলেও জানান ওই ওসি।

নিখোঁজর ৫ জন হলেন- ডা. রোকন উদ্দিন খন্দকার (৫০), পাসপোর্ট নম্বর- এএফ ১০১৩০৮৮, তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার (৪৫), পাসপোর্ট নম্বর- বিসি ০০০৬৯৩৭, রোকনুদ্দীন খন্দকারের দুই মেয়ে রেজওয়ানা রোকন (২৩), পাসপোর্ট নম্বর- বিসি ০০৩৫১৯৮ ও রামিতা রোকন (১৭), পাসপোর্ট নম্বর- বিসি ০০৪৫৩৩৯, ছেলে সাদ কায়েস (৩০), পাসপোর্ট নম্বর বিএফ ০৪৮৬৬৪২।

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ার ৪৪১/বি নম্বর বাড়ি (ডা. আলী আহম্মদ ভিলা) থেকে ২০১৫ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে সপরিবারে রওনা হন ডা. রোকন উদ্দিন (৫৫)।

ডা. রোকন উদ্দিন ঢাকা শিশু হাসপাতালে কর্মরত এবং স্ত্রী নাঈমা আক্তার যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। বড় মেয়ে রেজওয়ানা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছোট মেয়ে রামিতা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা গত রমজান মাসে স্বপরিবারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যাবেন জানিয়ে বাসা থেকে চলে যান বলে জানা যায়।

ডা. রোকন উদ্দিন জাতীয় শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। দেশ ছাড়ার মাসখানেক আগে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। স্ত্রী নাঈমা আক্তার কবি নজরুল ইসলাম কলেজে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। দেশ ছাড়ার এক বছর আগে তিনি যশোর এমএম কলেজে বদলি হন। তিনিও চাকরি ছেড়ে দেশ ছাড়েন।

ওই দম্পতির মেয়ে নাদিয়া আক্তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ার সময় একই বিভাগের ছাত্র শিশিরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়েও হয়। বিয়ের বছরখানেক পরেই পড়াশুনা শেষ না করে তারা বাবা-মার সঙ্গে দেশ ছাড়েন। আর ছোট মেয়ে রামিতা আক্তার পড়তো ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

দেশ ছাড়ার দু’মাস পরে রোকন উদ্দিন তার ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজের কাছে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আমরা ভালো আছি। বর্তমানে মালয়েশিয়াতেই আছি।’ তবে এর পরে আর পরিবারের কারো সাথে যোগযোগ করেননি তিনি।

ঢাকায় পাঁচতলা যে ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ডা. রোকন উদ্দিন ও নাইমা দম্পতি থাকতেন সেটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক প্রয়াত আলী আহমেদের। আলী আহমেদ নাইমার বাবা এবং রোকনুদ্দীনের শ্বশুর। আলী আহমেদ মারা যাওয়ার আগে বাড়িটি তার দুই মেয়ে নাইমা ও হালিমাকে লিখে দিয়ে যান। কিন্তু হালিমা আক্তার এ বাড়িতে থাকেন না।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *