অর্থ জোগাচ্ছে ৪০ দেশ, নেপথ্যে সিআইএ-মোসাদ
আন্তর্জাতিক

অর্থ জোগাচ্ছে ৪০ দেশ, নেপথ্যে সিআইএ-মোসাদ

অর্থ জোগাচ্ছে ৪০ দেশ, নেপথ্যে সিআইএ-মোসাদগোটা বিশ্ব আপাতত যাদের ভয়ে কাঁপছে, সেই ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের অর্থের জোগান আসছে ৪০টি দেশ থেকে। তার মধ্যে রয়েছে জি-২০ জোটের কয়েকটি দেশও। অন্যদিকে, কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টির পেছনে রয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

ক্যাস্ত্রো বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টির জন্য ইসরায়েলের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকার যুদ্ধবাজ সিনেটর জন ম্যাককেইন ষড়যন্ত্র পাকিয়েছেন। ক্যাস্ত্রো তার নিবন্ধে পরিষ্কার করে বলেছেন, জন ম্যাককেইন হচ্ছেন ইসরাইলের নিঃশর্ত মিত্র এবং মোসাদের সঙ্গে গোপন পরিকল্পনায় আইএসআইএল সৃষ্টি করা হয়। সেই অনিষ্ট শক্তি এখন ইরাকের বিরাট অংশ এবং সিরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই দেশগুলি থেকে সরকারি ভাবে কোনও মদত পাচ্ছে না আইএস জঙ্গিরা। আইএসকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জুগিয়ে যাচ্ছেন ওই দেশগুলির কিছু নাগরিক বা কোনও বেসরকারি এজেন্সি।

তবে শুধু যে ওই অর্থ সাহায্যের ভরসাতেই রয়েছে আইএস, তা নয়। রুশ প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, অর্থের জন্য বেআইনি ভাবে তেলের কূপ খনন ও চড়া দামে সেই তেল বিক্রি করে চলেছে আইএস জঙ্গিরা। মহাকাশযান ও বিমান থেকে তার প্রামাণ্য ছবিও তুলেছে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা।

রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি ও ছবি প্রেসিডেন্ট পুতিন তুরস্কের আন্তালিয়ায় সদ্য সমাপ্ত জি-২০ জোটের দেশগুলির বৈঠকে হাজির রাষ্ট্রনেতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

‘আইএসআইএল সৃষ্টির জন্য আমেরিকার বিচার করতে হবে’

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টির জন্য আমেরিকাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ফ্রান্স ও লেবাননে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছেন।

আয়াতুল্লাহ সাদেক লারিজানি বলেন, মার্কিন নেতাদেরকে শুধু তিরস্কার করলেই চলবে না বরং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টির জন্য তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে বিশেষ করে আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের যেসব দেশ আইএস-কে সমর্থন দিয়েছে তাদের প্রত্যেককে এর দায় নিতে হবে।

তিনি আইএস, আল-কায়েদা এবং অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার জন্য পশ্চিমা দেশ ও তাদের আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াশীল মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেন। সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান। এছাড়া, এসব সন্ত্রাসী তাদের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রুশ স্বীকারোক্তি, ফ্লাইট এ৩২১ বোমায় বিধ্বস্ত হয়েছিল

রাশিয়া স্বীকার করেছে সন্ত্রাসী হামলার কারণেই ৩১ অক্টোবর সিনাইয়ের আকাশে তাদের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল।

রুশ গোয়েন্দা বিভাগ এফএসবি’র প্রধান অ্যালেক্সান্ডার বরটিনকভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানিয়েছেন বিমানটির ধ্বংসস্তূপের ভেতর বিস্ফোরকের নমুনা পাওয়া গেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের অফিস ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে এফএসবি প্রধান জানিয়েছেন, বিমানটিতে এক কেজি টিএনটি বিস্ফোরকের সমান একটি বোমা পাতা হয়েছিল।

পুতিনের কড়া হুমকি

রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এই হামলার পেছনে দায়ীদের যে কোন মূল্যে ধরে শাস্তি দেয়া হবে।”বিশ্বের যেখানেই তারা পালিয়ে থাকুক, আমরা তাদের খুঁজে এনে শাস্তি দেব।”

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলা আরও বাড়ানো হবে।

এফএসবি প্রধানের সাথে প্রেসিডেন্ট পুতিনের মঙ্গলবারের বৈঠকে রুশ সামরিক কম্যান্ডারও উপস্থিত ছিলেন। গত মাসে মিশরের অবকাশ কেন্দ্র শারম আল শেখ থেকে ওড়ার পর সিনাইয়ের আকাশে রুশ বিমানটি বিধ্বস্ত ২২৪ যাত্রীর সবাই মারা যায়।

ইসলামিক স্টেটের সাথে সম্পর্কিত একটি জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলায় দায় স্বীকার করলেও রাশিয়া এবং বিশেষ করে মিশর এতদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি মেনে নেয়নি।

কিন্তু এফএসবি প্রধানের এই বক্তব্যের পর রুশ বিমান বিধ্বস্তের সাথে সন্ত্রাসী হামলার যোগসূত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো। ব্রিটেন এবং রাশিয়া সহ অনেক দেশ শারম আল শেখে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *