নূর হোসেনকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারত
জাতীয়

নূর হোসেনকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারত

নূর হোসেনকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারতনারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেনকে ফেরত দিয়েছে ভারত।

পশ্চিমবঙ্গের কারা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা অরুণ গুপ্তা জানিয়েছেন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নূর হোসেনকে তারা দমদম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গোয়েন্দা কর্তাদের কাছে তুলে দেন।

তারপর তাকে পেট্রাপোল সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টায় বিজিবি কর্মকর্তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হস্তান্তরের সাথে সাথে নূর হোসেনকে ঢাকা মেট্রো-চ-৫১-৮৯২৮ নম্বরের একটি নেভি ব্লু মাইক্রোবাসে করে কড়া নিরাপত্তায় রওনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, ‘ভারতের কর্তৃপক্ষ নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এরপর নূর হোসেকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে ভারতের দমদম জেল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল কোলকাতা-যশোর রোড ধরে বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল সীমান্তে রওয়ানা দেয়। রাত ৯ টার দিকে তাকে ভারতীয় চেকপোষ্টে নিয়ে আসা হয়। এর পর বিজিবি-বিএসএফ বেনাপোল চেকপোস্ট বিজিবি ও পেট্রাপোল বিএসএফ ক্যাম্পে দফায় দফায় বৈঠক করতে দেখা যায়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে।

উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের একদিন পরই নূর হোসেনকে ফেরত দিল ভারত।

রাত ৯টায় নূর হোসেনকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসএফ। তারা রাতেই হস্তান্তর করার বিষয়ও নিশ্চিত করে।

উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে যে প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে ঠিক একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রথমে ভারতীয় পুলিশ নূর হোসেনকে বিএসএফ’র কাছে তুলে দেয়। বিএসএফ তাকে নিয়ে জিরো পয়েন্টে আসে। সেখানে আসার পরে বিএসএফ তাকে বিজিবির হাতে তুলে দেয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িয়ে যান, যা সে সময় দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেয়।

সাত খুনের পর নজরুলের স্ত্রী বাদী হয়ে নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। আর চন্দন সরকারের পরিবার অজ্ঞাতনামা আসামির কথা উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করে।

দু’টি মামলায় এ বছরের এপ্রিলে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে নূর হোসেনসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব-১১ এর ২৫ জন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন র‌্যাব-১১ এর তখনকার অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এম এম রানা।

সাত খুনের ঘটনার পরপরই নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান এবং গত বছরের ১৪ জুন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাগুইআটি থানার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পঞ্চম তলার একটি ঘর থেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তখন থেকে তিনি দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *