নীরব ঘাতক ব্রেন স্ট্রোক: লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

অনেকে মনে করেন স্ট্রোক হচ্ছে হার্ট এ্যাটাকের অপর নাম। এমনকি অনেক চিকিৎসকও বলে থাকেন স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়।

ডা. সাদিয়া আফরিন

স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। আসলে স্ট্রোক হলেই যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হবে এমন নয়। নীরব স্ট্রোক হতে পারে। এই নীবর স্ট্রোককে বলা হয়ে থাকে ব্রেন এ্যাটাক। স্ট্রোক বা মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন এ্যাটাক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা স্বচ্ছ ধারণা নেই। অনেকে মনে করেন স্ট্রোক হচ্ছে হার্ট এ্যাটাকের অপর নাম। এমনকি অনেক চিকিৎসকও বলে থাকেন স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। আসলে স্ট্রোক হলেই যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হবে এমন নয়।

লক্ষণ

• হাত-পায়ে অবশ ভাব

• জুতোর ফিতে বাঁধতে সমস্যা

• মুখের অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া

• বেসামাল হাঁটা-চলা

• ঘাড়ে-মাথায় যন্ত্রণা, বমি, সংজ্ঞা হারানো

প্রতিরোধ

• নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা

• ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ

• ডাক্তারের কথা মেনে নিয়ম করে হাঁটা

• খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন

• ওজন নিয়ন্ত্রণ

নীরব স্ট্রোক বা silent স্ট্রোক হতে পারে। এই নীবর স্ট্রোককে বলা হয়ে থাকে ব্রেন এ্যাটাক। এ ক্ষেত্রে রক্তনালী সরু হয়ে রক্তাচলাচল ব্যহত হয় অথবা রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেধে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। ধূমপান ছেড়ে দিলে এসব রোগী স্বাভাবিক হতে শুরু করেন। এ ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে শতকরা ৮০ ভাগ এবং মস্তিষ্কের রক্তনালী দিয়ে গিয়ে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হয় শতকরা ২০ ভাগ ক্ষেত্রে। সাধারণত উপসর্গ বিহীন স্ট্রোক বা নীরব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কিছু বুঝতে পারেন না। এমনকি নীরব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অসংলগ্ন হার্ট বিট বা ঘাড়ের রক্তনালীর শব্দ অনেক সময় চিকিৎসক এড়িয়ে যান অথবা শনাক্ত করতে পারেন না কিন্তু পরীক্ষায় প্রাথমিক স্ট্রোক শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মত নীরব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে উপসর্গ আক্রান্ত হবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলে যায় কিন্তু স্ট্রোক হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ যায় না। এমনকি উপসর্গ দীর্ঘ সময় থেকে যেতে পারে।

স্ট্রোকের জন্য যারা ঝুঁকিপূর্ণ

১. যাদের রক্তচাপ ১২০/৮০-এর চেয়ে বেশি

২. ধূমপায়ী

৩. যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে এবং রাতে ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া যাদের রক্তে হোমোসিসটিনের মাত্রা বেড়ে যায়।

৪. যাদের হিপের পরিমাপ কোমরের পরিমাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের মাত্রা বেশি।

৫. যাদের দৈনিক ২০ মিনিট সাঁতার কাটা অথবা দৌঁড়ানোর অভ্যাস নেই।

৬. যারা মদ্যপান করেন।

৭. যাদের পিতা-মাতা বা ভাই-বোন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।

৮. যারা মাসে একবার মাছ আহার করেন না, সবজিও শস্যকণা কম আহার করেন এবং যারা খাবারে বাড়তি লবণ খান। যারা নিয়মিত দাঁতের পরিচর্যা করেন না। যারা মুক্ত বাতাসে ভ্রমণ করেন না। যাদের আলসার আছে। যারা অবিবাহিত। যারা বেশি হতাশায় ভোগেন এবং যারা ক্রোধ সংবরণ করতে পারেন না। স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবার উপায় বিশেষজ্ঞরা শুধু স্ট্রোকের ঝুঁকির কথা বলেননি।

স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করনীয়

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। ধূমপায়ীর মস্তিষ্কের রক্তনালী সরু হয়ে নীরব স্ট্রোকের সৃষ্টি করতে পারে।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪. শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে হবে।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম অথবা সাঁতার কাটতে হবে।

৬. মদ্যপান ছেড়ে দিতে হবে।

৭. কম চর্বিযুক্ত খাবার আহার করতে হবে।

৮. মানসিক চাপ লাঘব ও রাতে পরিমিত ঘুমাতে হবে।

৯. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

ধূমপান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ধূমপান শুধু স্ট্রোকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাই নয়, ধূমপায়ীদের কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০০০ ভাগ, ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি ১২০০০ ভাগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ভাগ বেশি বলে তথ্য দিয়েছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে যাদের নীরব স্ট্রোক হয়েছে তারা যদি ধূমপান ছেড়ে দেন তবে স্ট্রোকের তীব্রতা কমতে সহায়ক হতে পারে।

১ thought on “নীরব ঘাতক ব্রেন স্ট্রোক: লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *