নিষ্প্রাণ ড্রয়ের পথে ফতুল্লা টেস্ট

টানা চতুর্থ দিনের মত ফতুল্লায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্টের খেলা পরিত্যক্ত করা হলো।

টানা চতুর্থ দিনের মত ফতুল্লায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্টের খেলা পরিত্যক্ত করা হলো।টানা চতুর্থ দিনের মত ফতুল্লায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্টের খেলা পরিত্যক্ত করা হলো।

ফলে এখন এই টেস্টের ভাগ্য অনেকটা অবধারিত। শেষ দিনে রোববার কোনো অঘটন না ঘটলে ড্র হতে চলেছে ফতুল্লা টেস্ট। আবহাওয়ার যে হাল, তাতে রোববারও তারাই দাপট দেখাবে এটাই এখন পর্যন্ত পূর্বাভাস।

শনিবার বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের খেলা ৩০.১ ওভার হতেই নামে বৃষ্টি। এরপর বাধ্য হয়ে দুই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা) এবং নিজেল লায়ং (ইংল্যান্ড) মধ্যাহ্ন বিরতি ঘোষণা করেন। সেই যে সাজঘরে যাওয়া, এরপর আর মাঠে ফিরতে পারেননি দুদলের খেলোয়াড়রা।

থেমে থেমে কয়েক দফা বৃষ্টি হয়। এখনো চলছে সেই বৃষ্টি। দুই আম্পায়ার শেষ দফা মাঠ পরিদর্শনে আসেন বিকেল চারটার পর। দেখে-শুনে চারটা ১০ মিনিটে চতুর্থ দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন তারা।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বৃষ্টির জন্য তৃতীয় দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়েছিল। সে সময় ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে তুলেছিল ৪৬২ রান। শনিবার সেখানেই অধিনায়ক বিরাট কোহলি ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটান।

এরপর ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিক বাংলাদেশের। দলীয় ২৭ রানে ১৯ রান করে অশ্বিনের বলে স্ট্যাম্পিং হন তামিম ইকবাল। এই রানের মাধ্যমে তিনি এখন দেশের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এরপর ইমরুল কায়েস আর মুমিনুল প্রাথমিক ধাক্কা সামালের চেষ্টা করেন। ৮১ রানের এই জুটি ভাঙেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা হরভাজন সিং। যাদবের ক্যাচ বানিয়ে ৩০ করা মুমিনুলকে তুলে নেন তিনি, দলীয় ১০৮ রানে। ফলে টানা ১২ টেস্টে ফিফটি করার রেকর্ড থেকে নিশ্চতভাবেই বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাকে। কারণ দ্বিতীয় ইনিংস হয়তো খেলতেই হবে না বাংলাদেশকে।

দুই রান বাদেই অশ্বিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেন দুই রান। তবে অপরপ্রান্তে একাই লড়াইটা চালিয়ে গেছেন ইমরুল কায়েস।

বৃষ্টি আর মধ্যাহ্নের আগেই তিনি অর্ধশতক তুলে অপরাজিত রয়েছেন। ৫৯ রানের ইনিংসে তিনি বল মোকাবেলা করেছেন ৯৮টি, যাতে রয়েছে ১০ বাউন্ডারি। চার বল খেলে রান না পাওয়া সাকিব আর তিনিই আগামীকাল সকালে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করতে নামবেন।

তামিম ছাড়িয়ে গেলেন হাবিবুলকে

ইশান্ত শর্মার বলটাকে স্কয়ার রেগে ঠেলে দিয়েই দুই রান নিলেন তামিম ইকবাল। তাতেই এই ইনিংসে তার সাত রান পূর্ণ হলো। যা তামিমকে পাইয়ে দিল এক অনন্য কীর্তির গৌরব। বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেটের দুই ফরম্যাট টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক হলেন এই বাঁহাতি। ক্রিকেট বিশ্বে আর কারও এই রেকর্ড নেই। ফতুল্লা টেস্টের আগে এই কীর্তি থেকে সাত রান দূরেই ছিলেন তামিম।

সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিকানা আগেই ছিল তামিমের হাতে। সেটি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই করে রেখেছিলেন। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানও তার দখলেই ছিল। বাকি ছিল টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা। যেটি ছিল হাবিবুল বাশার সুমনের দখলে। শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে সাত রান করার মধ্য দিয়ে তামিম ছাড়িয়ে গেলেন হাবিবুলকে। ওই সাত রান দিয়ে টেস্টে তামিমের মোট রান দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৭ রান। ৩ হাজার ২৬ রান নিয়ে হাবিবুল দ্বিতীয় স্থানে।

টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৬ রান, সেঞ্চুরি ৭টি তামিমের। ওয়ানডেতে তামিমের মোট রান ৪ হাজার ৪৩৭, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৪ রান ও সর্বোচ্চ ৬টি সেঞ্চুরি রয়েছে।

আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর অগ্রজ হাবিবুলের অভিনন্দনও পেয়েছেন তামিম। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, “সুমন ভাই (হাবিবুল) ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন আমাকে অভিনন্দন জানাতে। যা আমার জন্য ভাল অনুভূতির।” হাবিবুলের রেকর্ডটা আরও আগে ভাঙা উচিত ছিল কিনা প্রশ্নে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, “আসলে সাত-আট বছর লাগছে। এই সাত-আট বছরে আমি চল্লিশটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এটা ঠিক এই রেকর্ডটি যদি আরও কয়েকটি টেস্ট ম্যাচ আগে করলে নিজের জন্যেও ভালো হতো। যারা এই রেকর্ডের কাছাকাছি আছে তারা যদি রেকর্ডটি করতো তাহলে আমাদের নিজেদের মান ভালো হতো।”

তামিমের প্রশংসায় হাবিবুল বলেছিলেন, তামিম দশ হাজার রান করবে। বছরে তিন-চারটি টেস্ট খেলে দশ হাজার রান সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন টেস্ট দলের সহঅধিনায়ক। তামিম বলেন, “এটা করা কঠিন। কারণ আমরা গড়ে প্রতি বছর তিন-চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলি। সামনের দশ বছরে হয়তো আরও ৪০টি টেস্ট ম্যাচ খেলবো। যদি বছরে সাত-আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলা যায় তাহলে দশ হাজার রান করা সম্ভব। তারপরও আমার ফর্ম ও ফিটনেসের উপরও বিষয়টি নির্ভর করবে। যেভাবে এখন আমরা টেস্ট খেলছি সেভাবে দশ হাজার রান করা কঠিন।”

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে আরও বেশি ম্যাচ খেলা প্রয়োজন বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, “আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা উচিত। শুধু আমার জন্যে না। যেকোনো টপ ক্রিকেটারের জন্যেই এটা কঠিন হয়ে যাবে ৬০-৭০ ম্যাচে দশ হাজার রান করা।” একটা বড় ইনিংস খেলেন অর্জন উদযাপন করতে পারলেই খুশি হতেন চট্টলার এই ক্রিকেটার।

হাবিবুলের রেকর্ড ভাঙতে সাত-আট বছর লেগে গেলেও তামিম মনে করেন, তার রেকর্ড ভাঙতে এত সময় লাগবে না। বরং নিজের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাব্য মানুষ হিসেবে তামিম উল্লেখ করেছেন, মুমিনুলের নাম। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে রেকর্ডটা খুব বেশি দিন থাকবে। মুমিনুলের গড় দেখেন, ও যেভাবে রান করছে। আমি নিশ্চিত আমি ৩০০০ হাজার রান যত ম্যাচে করেছি আমার চেয়ে কমপক্ষে ৫-৬ ম্যাচ কমে করে ফেলা উচিত আমার মনে হয়। আসলে ও যেভাবে খেলছে আমার কাছে মনে হয়, তরুণ ক্রিকেটার কেউ না কেউ ভাঙবে। আমি হয়তো ১০ ম্যাচ আগে সুমন ভাইয়ের রেকর্ডটা ভেঙেছি, আমার রেকর্ড দেখবেন আরও ৭-৮ ম্যাচ আগে ভাঙবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *