আসন্ন তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী প্রচারণার কিঞ্চিত সুযোগও দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।
জাতীয়

‘নির্বাচনী প্রচারণার কিঞ্চিত সুযোগও দেয়া হচ্ছে না’

আসন্ন তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী প্রচারণার কিঞ্চিত সুযোগও দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।আসন্ন তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী প্রচারণার কিঞ্চিত সুযোগও দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটের পক্ষে এই দাবি করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘন করেও নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারছেন। কিন্তু সকল নিয়ম মেনেও বিরোধী জোটের প্রার্থীদের কিঞ্চিত প্রচারণার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি দেশের সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। এদেশের স্বাধীনতার বীজ বপনে গোপন ব্যালটে ভোট প্রদানের মাধ্যমেই বাংলার জনগণ ভূমিকা রেখেছিল।

পৃথিবীর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গোপন ব্যালটে অবাধ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় ভোট প্রদানের দ্বারা রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আজ নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকার হারিয়ে গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই ভোটাধিকার হরণের দস্যুতা আরো প্রকট হয়েছে। ৫ জানুয়ারির পরে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জাতি সেই ভোট ডাকাতির দৃশ্যই অবলোকন করেছে।

আমরা বহুবার বলে এসেছি- বর্তমান অবৈধ ও জনবিচ্ছিন্ন সরকারের নিকট কখনোই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করা যায় না। আর এ কারণেই ২০-দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা নাগরিকের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধ পন্থায় জোর করে দেশ শাসন ও ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদী করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

বর্তমান অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই যে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না তার আরো একটি নজীর মিলল গতকাল (রোববার) ফরিদপুর ও চাঁদপুরের পৌর নির্বাচনে। আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেরা কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে সীল মেরে ভোট জালিয়াতির মহোৎসব চালিয়েছে। জাতি আবারো প্রত্যক্ষ করলো-কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোট জালিয়াতি ও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারঙ্গম এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বীরত্ব দেখাতে সক্ষম।

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ঢাকার বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী আচরণবিধির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলেও এখন পর্যন্ত তার সুষ্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রকাশ্যে নির্বাচনী সকল আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

পক্ষান্তরে বিরোধী প্রার্থীদের বেলায় সুষ্ঠু আচরণবিধি পালনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কিঞ্চিত সুযোগও দেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক বিরোধী প্রার্থী ও সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বন কর্তাব্যক্তিদের কঠোর হুঁশিয়ারি নির্বাচনী পরিবেশকে আরো বেশি মাত্রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে।

২০-দলীয় জোট ও দেশবাসী আশা করে- আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আর তা না হলে জাতির নিকট আবারো প্রমাণ হয়ে যাবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দন্তহীন বাঘ ছাড়া আর কিছুই নয়।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দস্যুবৃত্তি অবলম্বন করলে এবং এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করলে জাতি কখনোই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমা করবে না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও নিয়ন্ত্রণহীন হলে একজন সাবেক আমলার লাশ ধানমন্ডি লেক থেকে পাওয়া যায় তা সহজেই অনুমেয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, গোটা দেশটাই যেন লাশের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ অপহরণের ২০ দিন অতিক্রান্ত হলো অথচ এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিচ্ছে না।

বিএনপির মুখপাত্র বুলু বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ গুমকৃত সকল বিরোধী নেতাকর্মীদের অবিলম্বে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত দান, ২০-দলীয় জোটের কারান্তরীণ শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং মামলা হামলা বন্ধ করে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার সচেষ্ট হবে এবং গণদাবি মেনে নিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই জাতির প্রত্যাশা।’

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *