নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের মারাত্মক আইন লঙ্ঘনের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপহরণ, হত্যা ও খেয়ালখুশিমতো আটক করছে।
জাতীয়

‘নিরাপত্তা বাহিনীর আইন লঙ্ঘনের বিচারে ব্যর্থতা’

নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের মারাত্মক আইন লঙ্ঘনের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপহরণ, হত্যা ও খেয়ালখুশিমতো আটক করছে।নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের মারাত্মক আইন লঙ্ঘনের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপহরণ, হত্যা ও খেয়ালখুশিমতো আটক করছে। বিশেষ করে তা করা হচ্ছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের টার্গেট করে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার বার্ষিক প্রতিবেদনে একথা তুলে ধরেছে। ৬৫৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের ৯৩ থেকে ৯৮ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশে ২০১৪ সালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সংক্রান্ত অধ্যায়টি ৫ পৃষ্ঠার; যাতে মোট ১০ টি পয়েন্টে ৮ টি বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিষয়গুলো হল; নির্বাচনী সহিংসতা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম, নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা, শ্রমিকের অধিকার, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল, নারী, শিশু অধিকার ও মৃত্যুদণ্ড।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ এতে বিশ্বের ৯০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সমালোচকদের দমন করার লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গণমাধ্যম বিষয়ক নতুন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এতে মুক্ত মত প্রকাশ ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা আরোপ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে সরকার বেশ কয়েকটি টেলিভিশন ও সংবাদ মাধ্যম সমালোচনামুলক রিপোর্ট করায় বন্ধ করে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে; সরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে মানবাধিকার লংঘন করেছে। অপরদিকে বিরোধী দলগুলোর সদস্যরা অবরোধ ও জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে সহিংস কর্মকাণ্ড ও নির্বিচার আক্রমণে জড়িত ছিল। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সত্ত্বেও নির্বাচন সম্পর্কিত সহিংসতা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের

ঘটনাসমূহের দায়ে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল, মে মাসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা, যারা স্থানীয় এক রাজনীতিককে হত্যা করতে উচ্চ পর্যায়ে (হাই প্রোফাইল) চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল।

প্রতিবেদনে সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে সরকারের স্বার্থ রক্ষা হওয়ায়, সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাথমিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে রেখেছে এবং তাদের মারাত্মক ঘটনাগুলোর বেলায় চোখ বন্ধ রেখেছে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক বহুদিন ধরে এটি প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশে।

প্রতিবেদনে শ্রম আইন সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে; শ্রম আইন সংশোধন করলেও বাংলাদেশে শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

শিরোনাম ডট কম
শিরোনাম ডট কম । অনলাইন নিউজ পোর্টাল Shironaam Dot Com । An Online News Portal
http://www.shironaam.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *